২৩ মার্চ ২০১৯, ৯ চৈত্র ১৪২৫

খেলাপি ঋণ আদায়ে কোম্পানি হবে: অর্থমন্ত্রী

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-03-15 00:11:43 BdST

bdnews24

খেলাপি ঋণ আদায়ে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল।

বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সঙ্গে প্রাক বাজেট আলোচনার পর সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৯ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা।

খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২০১৮ সালে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে স্বীকার করে আগের দিনই জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে গভর্নর ফজলে কবির খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনতে পলিসি নেওয়ার কথা বলেন।

এ বিষয়ে নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “খেলাপি ঋণ বিক্রি করার জন্য আমরা একটি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি করব। ওই কোম্পানির কাছে ঋণ বিক্রি করে দীর্ঘ মেয়াদে এসব ঋণ আদায় করার পরিকল্পনা রয়েছে।”

আগামী বাজেটে করপোরেট ট্যাক্স কমানোর চিন্তা রয়েছে মুস্তাফা কামালের।

তিনি বলেন, “আমাদের দেশে কর্পোরেট ট্যাক্স অনেক বেশি। আমরা দেখব কর্পোরেট ট্যাক্স কতটা কমানো যায়।”

আগামী অর্থবছর থেকেই ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে আশাবাদী অর্থমন্ত্রী বলেন, “তবে আগের মতো ১৫ শতাংশ ভ্যাট নেওয়া হবে না। আমা চিন্তা করে রেখেছি, ভ্যাট হার ৫, ৭ ও ১০ শতাংশ- এই তিন হারে শুল্ক আরোপ করব।”

তিনি বলেন, প্রথমে অন্তত ৫০ হাজার মেশিন বসিয়ে ৫০ হাজার প্রতিষ্ঠান থেকে ভ্যাট আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

“এগুলো কিন্তু এখনই চূড়ান্ত নয়। এসব প্রস্তাব আগে কমিটিতে যাবে তারপর চূড়ান্ত অনুমোদন হলে বাস্তবায়ন করা হবে।”

মুস্তাফা কামাল বলেন, নতুন বাজেটে পণ্যের বহুমুখীকরণ করে রপ্তানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে।

“তবে পিছিয়ে পড়া এক-দুটি খাতকে যেমন আইসিটি খাতকে ভর্তুকি দিয়ে হলেও এই খাতটিকে শক্তিশালী করতে হবে।”

দেশের নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে এমপিওভুক্ত শুরু করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “বিগত কয়েক বছর ধরে আমরা নানা কারণে এমপিওভুক্তি করতে পারিনি। এমন পরিস্থিতিতে আমরা আগামী অর্থবছর থেকে এ কাজটি শুরু করব।

 “তবে আমরা ফেজওয়াইজ ইন থ্রি ইয়ার্স আমরা এই কাজটা করব। আমরা ইতোমধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠানের আবেদন গ্রহণ করেছি যেগুলো এমপিওভুক্ত হওয়া দরকার সেগুলো আমরা বাস্তবায়ন করব।”

মন্ত্রী বলেন, “আমরা চিন্তাভাবনা করেছি, আমরা এই কাজ করতে যেহেতু তিন বছর লাগবে, এভাবে করা যায়। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে বলবেন সেভাবেই করা হবে।

“তবে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মানের দিক দিয়ে এগিয়ে থাকবে তাদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে এ দায়িত্ব দিয়েছি।”

তিনি বলেন, “অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেশে তৈরি হয়েছে। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের কোয়ালিটি আমরা যেভাবে আশা করেছিলাম সেভাবে হয়নি। এমনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে শিক্ষক ৪০ জন, স্টুডেন্ট ৩২ জন।”

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে এগুলো পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে সরকারের কাছে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “আগামী বাজেটে সবচেয়ে অগ্রাধিকার পাবে কর্মসংস্থান। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশের যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থান।

“প্রত্যেকটা পরিবার থেকে আমরা যদি একজনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারি তাহলে আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ওপর থেকে চাপটা কমে আসবে। তাদের সরকারি, বেসরকারি চাকরি অথবা একটা ব্যবসার সুযোগ করে দিতে পারলে সেই পরিবারটি নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে।”