২৩ মার্চ ২০১৯, ৯ চৈত্র ১৪২৫

‘গ্ল্যামারাস’ ব্যাংকিং খাত ফেরাতে এসেছি: মুস্তাফা কামাল

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-03-15 00:45:27 BdST

bdnews24

খেলাপি ঋণে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে জৌলুস আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

দেশের বন্ড মার্কেট আরো বেশি বিকশিত করার কথাও বলেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে অগ্রণী ব্যাংকের ২০১৯ সালের বার্ষিক সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। 

মুস্তাফা কামাল বলেন, “অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার পর শঙ্কিত ছিলাম, বন্ধুরা বলেছিল তোমার জন্য সহজ হবে না। এটি সহজ হবার জায়গা নয়, অনেক কঠিন পথে যেতে হবে এবং অনেকের সাথে সম্পর্ক নষ্ট হবে।”

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাজ চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগত জীবনে প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে সুযোগ মনে করি। আপনাদের সবাইকে নিয়ে আমরা বিজয়ী হব।”

চাইলেই দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় মন্তব্য করে মুস্তাফা কামাল বলেন, “দুর্নীতি কম বেশি সকল দেশে থাকে তবে চাইলে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স করা হবে। আমার মন্ত্রণালয় দুর্নীতি মুক্ত থাকবে।

“আমার সবচেয়ে বেশি পারসেপশন হল ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত বিপদের মুখোমুখি। যেটা সবচেয়ে কঠিন জায়গা সেটা থেকে শুরু করা হবে। আমার হাতে এখনো সময় আছে, এ সময় আমাদের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রিয় এলাকা, আজ সেখানে ভয় পাব কেন? গ্ল্যামারাস ব্যাংকিং খাত ফিরিয়ে আনার জন্য এখানে এসেছি।”

ব্যাংকিং খাতে নতুন নতুন সেবা নিয়ে আসার পরামর্শ দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “ব্যাংকিং খাতে ফিন্যান্সিয়াল টুল নিয়ে আসতে না পারলে চলবে না। শর্ট টার্ম ডিপোজিট নিয়ে লংটার্ম লোন দিলে কীভাবে ঋণ শোধ করবে? বন্ড মার্কেট অনেক বেশিভাবে বিকশিত করব। প্রাণকে একটি বন্ড ছাড়ার সুযোগ করে দেব। আমাদের দেশে ইনসলভেন্সি অ্যাক্ট নাই। এটি দ্রুত নিয়ে আসা উচিত। আমরা অনেক জায়গায় পিছিয়ে আছি, যারা ভালো করছে তাদের মতো করে করতে হবে।”

‘ভালো ব্যবসায়ীদের’ অনেক সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “যারা বিদেশ চলে গিয়েছে তাদের অনেক কারণ আছে, আমাকেও জেলে যেতে হয়েছে, ক্যাঙ্গারু কোর্ট থেকে খালাস পেলাম বেকসুর। সে সময় অনেকে চলে গেছে। আমি তাদের ফিরে আসার আহ্বান জানাই। ট্যাক্স রেট, ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স কমানো হবে।

“যারা ট্যাক্স দেয় তারাই শুধু দেয়; যারা দেয় না অনেক যোগ্যতা রেখেও দেয় না- এই অপবাদ থেকে মুক্ত করতে চাই। যারা এতদিন দিয়েছেন তারা কম দেবেন, আর যারা দেয় নাই তাদেরও আস্তে আস্তে অভ্যস্ত করা হবে।”

দেশের গ্রামগুলোকে শহরের মতো উন্নত করা হবে এবং প্রত্যেক পরিবারের কর্মক্ষম সদস্যদের অর্থনীতির মূল ধারায় নিয়ে আসা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী।

খেলাপি ঋণ যেন আর না বাড়ে সে বিষয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সতর্ক করে তিনি বলেন, “খেলাপি ঋণ আর বাড়বে না। আমি যদি ফেইল করি সবাই ফেইল করব।”

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বকস, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ শামস্-উল ইসলাম, পরিচালক কাশেম হুমায়ূন, পরিচালক মাহমুদ বেগমসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে ব্যাংকের ১৫ জন গুণী গ্রাহককে সম্মাননা দেওয়া হয়।