২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

উন্নয়নের প্রয়োজনেই রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র: পরিকল্পনামন্ত্রী

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-07-29 21:55:42 BdST

bdnews24

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়ন করতে গিয়েই বাধ্য হয়ে রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে হচ্ছে।

সুন্দরবনের পাশে রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে পরিবেশবাদীদের আপত্তির প্রেক্ষাপটে সোমবার ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল কমিটি অব আইইউসিএন প্ল্যাটফর্ম ফর সাসটেইনেবল বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন’ নামে একটি প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।

ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবনের পাশে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে আপত্তি উপেক্ষা করেই সরকার প্রকল্পটির কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

কয়লাভিত্তিক ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হলে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে বলে পরিবেশবাদীরা দাবি করলেও সরকার বলছে, সুন্দরবনের ক্ষতির আশঙ্কা দূর করেই এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। 

আপত্তির মধ্যেও এই প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী মান্নান বলেন, “রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে হচ্ছে বলে আমরাও উদ্বিগ্ন। কিন্তু আমাদের বিদ্যুৎ দরকার বলে বাধ্য হয়েই আমাদের ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে হচ্ছে।

“সুন্দরবন কি আমাদের ঐতিহ্য নয়, আমাদের সম্পদ নয়? তারপরও অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন করতে গিয়ে একটা ব্যালান্স আমাদের করতে হয়েছে।”

“দেশের শতভাগ মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমাদের মাঝে মাঝে অপ্রিয় উন্নয়নও করতে হয়,” বলেন মান্নান।

হাসনা জসীমউদদীন মওদুদকে চেয়ারম্যান করে ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল কমিটি অব আইইউসিএন প্ল্যাটফর্ম ফর সাসটেইনেবল বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন’ প্ল্যাটফর্মটি গঠিত হয়েছে। রাজধানীর লেইক শোর হোটেলে তিনিই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রকৃতিক ক্ষতি মোকাবিলার জন্য উন্নত দেশগুলোর কথা দিয়েও তা রাখার বিষয়টি অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড করার জন্য বিশ্বের বড় বড় রাষ্ট্রগুলো একসাথে বসেছিলেন। ওই ফান্ড হয়েছে, কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। গত সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে এরকম একটি আলোচনা সভায় আমি যোগ দিয়েছিলাম। সেখানে আবার কথা উঠলো। তারা বলল, আমরা দেব, কিন্তু হয়ে উঠছে না।”

এই অবস্থায় বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে কাজ শুরু করে দেওয়ার কথা বলেন মান্নান।

তিনি বলেন, “আমাদের যেহেতু সীমিত সম্পদ দিয়ে উন্নয়ন করতে হচ্ছে, তাই আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়ন কাজ করছি। আমরা তাড়াহুড়ার মধ্যে আছি। তাই অনেক সময় অনেকের সাথে আমাদের মত পার্থক্য হয়। আশা করি, দেশের বিশাল সুশীল সমাজ আমাদের এই অগ্রাধিকারটা বুঝবেন।”

অনুষ্ঠানে মুল প্রবন্ধে অধ্যাপক আব্দুর রব মোল্লাহ বলেন, “আমরা জীব বৈচিত্র্য রক্ষা করতে না পারায় ইতোমধ্যেই ৩১ প্রজাতির বন্য প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এরমধ্যে গন্ডার, হায়েনা, বন মহিষ, জলা হরিণ, নীল গাই অন্যতম। এছাড়াও অদুর ভবিষ্যতে আমাদের ৩২৭ প্রজাতির বন্য প্রাণী বিলুপ্ত হওয়ার পথে।”

দেশের জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় তিনি সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

পরিবেশ রক্ষায় সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে মান্নান বলেন, “দেশের জীব বৈচিত্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায়ও আমরা কিছু কাজ হাতে নিয়েছি, যা এর আগে এদেশে কেউ হাতে নেয়নি। যেমন- নদী রক্ষা কমিশন, তথ্য কমিশন, মানবাধিকার কমিশনসহ আরও অনেক নতুন বিষয় আমরা করেছি।

“আমরা এখনও হয়তো জোরালো ভূমিকা রাখতে পারছি না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠবে।”