২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

শনিবার থেকে চামড়া কিনবে ট্যানারিগুলো

  • নিজস্ব প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-08-14 18:01:21 BdST

কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে কারসাজির অভিযোগের মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে শনিবার থেকে কাঁচা চামড়া কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন।

সংগঠনের সভাপতি মো. শাহিন আহমেদ বুধবার বিকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে আমরা ১৭ অগাস্ট থেকে চামড়া কেনা শুরু করব।”

তার আগে সকালে সংবাদ সম্মেলন করে ২০ অগাস্ট থেকে চামড়া কেনা শুরু করবেন বলে জানিয়েছিলেন ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন।

দুপুরের পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আব্দুল লতিফ বকসী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে অবিলম্বে নির্ধারিত মূল্যে কাঁচা চামড়া ক্রয় শুরু করবে ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন।

ট্যানর্স অ্যাসোসিয়েশনের আলোচনার কথা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদশে ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনকে পূর্ব নির্ধারিত সময় অর্থাৎ ২০ অগাস্টের আগেই জরুরি ভিত্তিতে কাঁচা চামড়া ক্রয় শুরু করার অনুরোধ জানায়।”

বাংলাদেশে চামড়ার মোট চাহিদার বড় অংশই আসে কোরবানির পশু থেকে।

এবার ঈদের দিন থেকেই সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে কম দামে চামড়া কেনা হচ্ছে বলে অভিযোগ আসতে থাকে। ট্যানারি মালিকরা বকেয়া থাকা টাকা দেননি- এই যুক্তি দেখিয়ে আড়তদাররা চামড়া কেনা বন্ধ রাখলে সঙ্কট মারাত্মক আকার ধারণ করে।

চামড়া সংরক্ষণের নিজস্ব কোনো ব্যবস্থা ফড়িয়া আর মৌসুমী ব্যবসায়ীদের থাকে না। ফলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নামমাত্র দামে চামড়া কিনেও পাইকারদের কাছে বিক্রি করতে না পেরে তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

দিনাজপুরে কাঁচা চামড়া বিক্রি করতে না পেরে বাজারে ফেলে চলে যান মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। চট্টগ্রামেও লাখখানেক পশুর চামড়া সড়কে ফেলে দেওয়া হয়, পরে সেগুলো সরিয়ে মাটিচাপা দেয় সিটি করপোরেশন।

চামড়ার বাজারে কেউ কারসাজি করছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্য দাম না ওঠায় কাঁচা চামড়া রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পাইকারি ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও ট্যানারি মালিক ও চামড়াজাত পণ্য উৎপাদকরা ক্ষতির আশঙ্কায় সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।