৩ মাসে রাজস্ব আদায় আগের চেয়ে কম

  • সংসদ প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-01-23 21:15:35 BdST

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে মোট লক্ষ্যমাত্রার ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ, যা গত বছরের চেয়ে কম।

বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে এতথ্য জানিয়ে বলেছেন, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বাকি সময়ে কাজের গতি বাড়ানো হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১১ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রথম প্রান্তিকে আদায় হয়েছে ৫৫ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা।

“প্রথম প্রান্তিকে রাজস্ব আহরণের পরিমাণ বিগত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ কম।”

অর্থ বছরের প্রথম তিন মাসে কর আহরণের পরিমাণ শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বাড়লেও কর বহির্ভূত রাজস্ব আহরণের পরিমাণ ৪৫ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে।

মুস্তফা কামাল বলেন, “সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণের ফলে চলতি অর্থবছরে অবশিষ্ট সময় রাজস্ব আহরণে গতি আনবে।”

অর্থমন্ত্রী বাজেট ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও আয়-ব্যয়ের গতিধারা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ সংক্রান্ত প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার সংসদে উত্থাপন করেন।

আর্থিক খাতের ‘বিশৃঙ্খলায় বিপদের’ শঙ্কা বিশ্লেষকদের

আমদানি-রপ্তানি দুটোই কমছে, সংকট বাড়ছে  

প্রতিবেদনে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মোট সরকারি ব্যয় বেড়েছে ১৫ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।

বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ এবং বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে মোট বরাদ্দের ৮ দশমিক ৩ শতাংশ, যা বিগত অর্থবছরে একই সময়ে ছিল ৭ দশমিক ৯ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের নতুন ভ্যাট আইন কার্যকরের সুফল তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের প্রস্তুতিজনিত কারণে প্রথম প্রান্তিকে এনবিআরের কর রাজস্ব আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ দশমিক ৬২ শতাংশ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রবাস আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ১৪ দশমিক ০৯ শতাংশ। সরকারের ২ শতাংশ প্রণোদনার সিদ্ধান্তের কারণে অর্থবছরে রেমিটেন্সে প্রবৃদ্ধির মাইলফলক অর্জিত হবে বলে মুস্তফা কামাল আশা প্রকাশ করেন।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল থাকার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার।

রপ্তানি আয় ৯ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হলেও তা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ কম।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “বিশ্ব বাণিজ্যে মন্দা ও অস্থিরতার কারলে রফতানি সামান্য হ্রাস পেলেও সরকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

আমদানি ব্যয় ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১৪ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে। আমদানি ঋণপত্র খোলা হ্রাস পেয়েছে ৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

রপ্তানিমুখী খাতের পণ্য আমদানি কিছুটা কম হওয়ায় এ ‘সাময়িক অবস্থার’ সৃষ্টি হয়েছে, বলেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের চেয়ে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ হতে বেড়ে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ হয়েছে।