মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার খোলার আশায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-02-23 23:29:49 BdST

bdnews24

মালয়েশিয়ার মানব সম্পদমন্ত্রী এম কুলাসেগারানের সঙ্গে বৈঠকের পর সেদেশে বন্ধ শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে আশার বাণী শুনিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ওই বৈঠক শেষে মালয়েশিয়ান মন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনের সূত্র ধরে তিনি বলেন, “সে তো খুব আশাবাদী। ভালো ভালো কথা বলেছে।”

বৈঠকে আলোচনার বিষয় তুলে ধরে মোমেন বলেন, “গত দুই বছর ধরে তোমরা আমাদের নতুন রিক্রুটমেন্ট বন্ধ করে রেখেছো। আমি খুব খুশি হব এবং এদেশের তুমি একটা হিরো হয়ে যাবা, তুমি যদি ডিক্লেয়ার করে যাও, এই লেবার মার্কেটটা ওপেন করে যাও।

“উনি বলল যে, উই আর ওয়ার্কিং অন ইট। আমরা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কাজ করছি, আমরা এ ব্যাপারে খুব সিরিয়াস। খুব শিগগিরই একটা ডিসিশন হবে।”

মালয়েশিয়া সরকার তাদের পাঁচটি খাতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বয়ে ‘জিটুজি প্লাস’ পদ্ধতিতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে রাজি হওয়ার পর ২০১৬ সালে ঢাকায় দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পাঁচ বছর মেয়াদী এই চুক্তির আওতায় লোক পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয় ১০টি জনশক্তি রপ্তানিকারক এজেন্সিকে।

কিন্তু প্রবাসী এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর নেতৃত্বে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগসাজশে একটি চক্র ওই ১০ এজেন্সিকে নিয়ে সিন্ডিকেট করে শ্রমিকদের কাছ থেকে দুই বছরে অন্তত ২০০ কোটি রিঙ্গিত হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠার পর ২০১৮ সালে ওই ব্যবস্থা স্থগিত করে দেশটির সরকার।

এরপর ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে বাংলাদেশি কর্মীদের আর ভিসা দেয়নি মালয়েশিয়া। তবে আগে যারা ভিসা পেয়েছিলেন, তারা পরেও মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পান।

শ্রমবাজার খুলতে সরকারি প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে গত ৬ নভেম্বর মালয়েশিয়া সফরে যান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ। সেখান ফিরে নভেম্বরে শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা জানালেও তা এখন পর্যন্ত হয়নি।

এর মধ্যে চারদিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছেন মালয়েশিয়ার মানব সম্পদমন্ত্রী এম কুলাসেগারান। মন্ত্রীদের বৈঠকের পাশাপাশি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনেও যাবেন তিনি।

শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার পেছনে নিজেদের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কথাও সাংবাদিকদের মনে করিয়ে দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন।

তিনি বলেন, “আমাদের দৈন্য আছে। আমরা খুব হুড়মুড় করে, তারা যে জিনিসটি চায় না, যে অসম্ভব দামে লোকজন যায়, তিন লাখ চার লাখ টাকা, তারা মনে করে অত হওয়া উচিত না। তারা ইলিগ্যাল চায় না, তারা লিগ্যাল ওয়েতে চায়। এক্ষেত্রে আমাদের কিছু দুর্বলতা আছে।

”আমাদের প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় কাজ করছে, ইনশাআল্লাহ ওপেন হবে।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, ”মালয়েশিয়া রোহিঙ্গার বিষয়ে আমাদের খুব সাপোর্ট দিয়েছে, প্রথম দিন থেকেই। তার হাসপাতাল তৈরি করেছে, আমরা আইসিসিতে গিয়েছি, মালয়েশিয়া আমাদের খুব সাপোর্ট দিয়েছে।

”স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ খুব জোরেশোরে ইউএনসহ সব জায়গায় সাপোর্ট দিয়েছেন। আমরা সেজন্য তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই। তারা আমাদের এ ব্যাপারে আরও সাহার্য সহযোগিতা করবে বলে বলেছে।”

বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগ বাড়াতে মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা বলেছি যে, আমাদের অর্থনীতি বর্তমানে ভালো করতেছে।  এশিয়া অঞ্চলের মধ্যে আমাদের প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি এবং আমাদের দেশের বড় সংখ্যক লোক মধ্যবিত্ত বা স্বাবলম্বী।

”সুতরাং, এখানে যা উৎপাদন হয়, বাজার আছে। আমরা বলেছি, যে কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমরা খুব ভালো করতেছি।”

বিশেষ করে বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক শিল্পে বিনিয়োগে আহ্বান জানানোর কথা সাংবাদিকদের বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

”তারা ইনভেস্ট করতেছে। মালয়েশিয়া ইজ ওয়ান দ্য লার্জেস্ট ইনভেস্টর ইন বাংলাদেশ। তবে আরও চাই আমরা। আমাদের জিনিসপত্র ওরা কম নেই। আমরা চাই তোমরা আরও নাও।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পর প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদের সঙ্গেও বৈঠক করেন মালয়েশিয়ার মন্ত্রী কুলাসেগারান। ওই বৈঠকেও শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের পরবর্তী সভা হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।”