বেঙ্গল ব্যাংকের কার্যক্রম ‘জুনের মধ্যেই’

  • আবদুর রহিম হারমাছি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-02-23 23:47:21 BdST

অনুমোদন পাওয়া বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড জুনের মধ্যেই কার্যক্রম শুরু করবে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন।

তিনি বলেছেন, “আমরা পুরোদমে কাজ শুরু করেছি। রাজধানীর গুলশান এভিনিউয়ে খন্দকার টাওয়ারে প্রধান অফিস নিয়েছি। ২ মার্চ পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভা করব। এমডি নিয়োগের কাজও এগিয়ে চলেছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। এক মাসের মধ্যে নিয়োগ দিয়ে ফেলবো।”

“প্রয়োজনীয় অন্য জনবলও খুব শিগগিরই নিয়োগ দেওয়া হবে।আশা করছি তিন মাসের মধ্যেই অর্থাৎ জুনের আগেই কার্যক্রম শুরু করব আমরা।”

রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংক ‘বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড’কে তফসিলি ব্যাংকরূপে তালিকাভুক্ত করা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির পর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এ তথ্য জানান জসিম উদ্দিন।

বেঙ্গল ব্যাংকের উদ্যোক্তা বেঙ্গল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মোর্শেদ আলম এই গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হলেন তার ছোট ভাই বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন।

১৭ পরিচালক ও তিন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়ে যাত্রা শুরু করবে ব্যাংকটি।

বেঙ্গল ব্যাংক নিয়ে বাংলাদেশে মোট ব্যাংকের সংখ্যা ৫৯টিতে।এরমধ্যে সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকের সংখ্যা নয়টি।বেসরকারি ব্যাংক ৪১টি। আর বিদেশী ব্যাংক নয়টি।

১০ ফেব্রুয়ারি বেঙ্গল ব্যাংককে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রোববার তফসিলি ব্যাংকরূপে তালিকাভুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

জসিম উদ্দিন বলেন, “আমরা আমাদের ব্যাংকের এমডিও ঠিক করে রেখেছিলাম। সাউথইষ্ট ব্যাংকের সাবেক এমডি শহীদুল ইসলাম সাহেবকে এমডি করব ভেবেছিলাম। কিন্তু কার্যক্রম আসতে দেরি হওয়ায় তার বয়স পার হয়ে যাওয়ায় এখন বিকল্প ভাবতে হচ্ছে।”

বেঙ্গল গ্রুপের অধীনে বর্তমানে বিভিন্ন খাতের প্রায় ২০টি শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) সভাপতি হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন জসিম উদ্দিন।

এবার ব্যাংক পরিচালনায় আসা জসিম উদ্দিন নিজেদের গ্রুপের নামে গড়ে তোলা ‘বেঙ্গল ব্যাংক’ নিয়ে নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, “স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে বেঙ্গল ব্যাংককে একটি মডেল ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই।আমাদের ব্যাংকের স্লোগান হচ্ছে, ‘শেপিং এ বেটার টুমোরো’।”

কী ধরনের ব্যাংকিং করবেন- এ প্রশ্নের উত্তরে নি বলেন, “দেশে অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী আছেন। অনেক ব্যাংকই তাদের চাহিদা মতো সেবা দিতে আগ্রহী নয়। আমরা নতুন ও ছোট। তাই ছোট ব্যবসায়ীদের নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।

“বিশেষ করে এসএমই এবং রিটেইল পর্যায়ে কাজ করব। আপতত বড়দের নিয়ে ভাবছি না। ছোটদের ঋণ কম।তাই ঝুঁকিও কম।”

দেশের ব্যাংকিং খাতে এক ধরনের অস্থিরতা চলছে। এ সময় নতুন ব্যাংক হিসেবে কতটা ভালো করতে পারবেন-িএমন প্রশ্নে জসিম উদ্দিন বলেন, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে তেমন অস্থিরতা নেই। তবে যারা ঋণ নিয়ে ফেরত দেয় না, ঋণ খেলাপি হয়, তাদের চিহ্নিত করে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো দরকার।

“তবে দেশের সব মানুষ, সব ব্যবসায়ী খারাপ নন, গুটি কয়েকজনের জন্য সবাই কেন দুর্নামের ভাগীদার হবেন? দেশে এখনো অনেক ভালো ব্যবসায়ী আছেন। আমরা ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই এ বিষয়টি গুরুত্ব দেব।”

শাখা খোলার ক্ষেত্রে মফস্বল ও শিল্পাঞ্চল এলাকাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান জসিম উদ্দিন।

“জনবল নেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই দক্ষতার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তিতে যারা দক্ষ তাদেরই আমাদের পছন্দ। নতুনরা নিজেদের মতো করে কাজ করলে অবশ্যই ভালো করব।”