করোনাভাইরাস: নগদ টাকার জোগান বাড়ানোর উদ্যোগ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-03-23 21:35:47 BdST

bdnews24

নভেল করোনাভাইরাসের কারণে দুর্যোগের মতো পরিস্থিতিতে বাজারে নগদ অর্থ সরবরাহ বাড়াতে তিনটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এই সিদ্ধান্তে রেপো সুদহার এবং সিআরআর (নগদ জমা সংরক্ষণের হার) কমানো হয়েছে।

এছাড়া বাজারে তারল্য সরবরাহের জোগান বাড়াতে ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা অতিরিক্ত ট্রেজারি বিল ও বন্ড কিনে টাকা ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সোম ও রোববার আলাদা তিনটি সার্কুলার জারি করে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের তা পাঠানো হয়েছে।

‘রোপো সুদহার পুনঃনির্ধারণ’ বিষয়ক সার্কুলারে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপো সুদহার বিদ্যমান বার্ষিক ৬ শথাংশ থেকে দশমিক ২৫ শতাংশ পয়েন্ট হ্রাস করে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ করা হলো।

২৪ মার্চ মঙ্গলবার থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে।

`বাংলাদেশ ব্যাংকে নগদ জমা সংরক্ষণ’ শীর্ষক সার্কুলারে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ৩ এপ্রিলের সার্কুলার মোতাবেক বর্তমানে বাংলাদেশের সব তফসিলি ব্যাংককে (শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকসহ) তাদের মোট তলবি ও মেয়াদি দায়ের ৫ দশমিক ৫ শতাংশ দ্বি-সাপ্তাহিক গড় ভিত্তিতে এবং ন্যূনতম ৫ শতাংশ দৈনিক ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে নগদ জমা (সিআরআর) হিসেবে সংরক্ষণ করতে হয়।

“এখন সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, ১ এপ্রিল থেকে নগদ জমা সংরক্ষণের হার দ্বি-সাপ্তাহিক গড় ভিত্তিতে ৫ শতাংশ এবং দৈনিক ভিত্তিতে ন্যূনতম ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হবে।”

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ওমুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রেপো সুদহার কমানোর ফলে ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রেপোর মাধ্যমে যে নগদ টাকা নেয় সরবরাহ বাড়বে। এতে বাজারে তারল্য বাড়বে।

“অপরদিকে সিআরআর কমানোর ফলে ব্যাংকগুলোকে এখন আগের থেকে কম টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নগদ জমা রাখতে হবে। এতেও বাজারে নগদ অর্থের যোগান বাড়বে।”

তারল্য সরবরাহের জোগান বাড়াতে ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা অতিরিক্ত ট্রেজারি বিল ও বন্ড কিনে টাকা ছাড়ার সার্কুলারটি হয় রোববার রাতে।

‘সরকারি সিকিউরিটিজ ক্রয়-বিক্রয়’ শীর্ষক ওই সার্কুলারে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট সরকারি সিকিউরিটিজের সেকেন্ডারি মার্কেট উন্নয়নের পাশাপাশি মুদ্রানীতির উদ্দেশ্য বাস্তবায়নকল্পে প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি মার্কেট হতে সরকারি সিকিউরিটিজ ক্রয় এবং প্রয়োজনে তা সেকেন্ডারি মার্কেটে বিক্রি করে থাকে।এই লেনদেনসমূহ বাজার মূল্যে সম্পাদন করা হয়ে থাকে।

বর্তমান পেক্ষাপটে সিদ্ধান্ত হয়েছে-

>> বাংলাদেশে কার্যরত সকল তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিতভাবে সরকারি সিকিউরিটিজের বিপরীতে রেপো সুবিধা প্রদান করে থাকে। বর্তমানে করোনাভাইরাসের কারনে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনায় যাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয় সেলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেকেন্ডারি মার্কেট হতে সরকারি সিকিউরিটিজ ক্রয় কার্যক্রম জোরদার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

>> কোন তফশিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিকট সহজে বিনিময়যোগ্য সম্পদ (এসএলআর) সংরক্ষণের পর অতিরিক্ত সরকারি সিকিউরিটিজ থাকলে তা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট বাজারমূল্যে বিক্রয় করতে পারবে। এরূপ বিক্রয়ের প্রয়োজন হলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অত্র বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার জন্য পরামর্শ দেয়া যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, করোনাভাইরাস আতঙ্কে ব্যাংক থেকে গ্রাহকদের নগদ টাকা তোলার পরিমাণ বেড়ে গেছে। এর বিপরীতে কমে গেছে নগদ টাকা জমার পরিমান। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই বাজারে তারল্য জোগান দেওয়ার এ সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার বিকেলে গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মনিটারি পলিসি কমিটির (এমপিসি) ৪৬তম সভায় বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির গতি-প্রকৃতির উপর বিস্তারিত আলোচনার পর এ সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।