গৃহ-ভূমিহীনদের ঘর ও ৬ মাসের খাবার-টাকা দেওয়া হবে: অর্থমন্ত্রী

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-03-31 23:28:49 BdST

bdnews24

সরকারের ‘ঘরে ফেরা’ কর্মসূচির আওতায় গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বিনামূল্যে ঘর এবং ছয় মাসের খাবার ও নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়ার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

এছাড়া শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানি বাণিজ্যে করোনাভাইরাসের অভিঘাত মোকাবেলায় আপৎকালীন বেশ কিছু কর্মসূচি নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

মঙ্গলবার নিজ বাসভবনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সচিবদের সঙ্গে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব ও উত্তরণে করণীয় নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠকে তিনি একথা বলেন বলে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সিনিয়র সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “এই মুহূর্তে আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার মানুষকে এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা, পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনীয় আহারের ব্যবস্থা করা।”

করোনাভাইরাস মোকাবেলা ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব থেকে উত্তরণের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, “সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি, আর্থিক সহায়তার প্যাকেজ প্রণয়ন, সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি ও মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক এ বিরূপ প্রভাব উত্তরণে বেশ কিছু স্বল্পমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

“অর্থ বিভাগের অপ্রত্যাশিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা খাত থেকে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও নিম্নআয়ের ব্যক্তিদের ‘ঘরে-ফেরা’ কর্মসূচির আওতায় নিজ নিজ গ্রামে সহায়তা দেওয়া হবে। গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বিনামূল্যে ঘর, ছয় মাসের খাদ্য এবং নগদ অর্থ দেওয়া হবে। বিনামূল্যে ভিজিডি, ভিজিএফ এবং ১০ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। শিল্প উৎপাদন এবং রপ্তানি বাণিজ্যের আঘাত মোকাবিলায় কিছু আপৎকালীন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”

অর্থমন্ত্রী জানান, রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রপ্তানিমুখী শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং কুটির শিল্পে বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় আরও ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী জুন মাস পর্যন্ত কোনো গ্রাহক যদি কিস্তি পরিশোধে অপরাগ হয় তারপরেও তাকে ঋণ খেলাপি না করার ঘোষণা দিয়েছে। এনজিওগুলোর ঋণের কিস্তি পরিশোধেও জুন পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধে অপরাগ হলেও ঋণ খেলাপি করা হবে না।

এছাড়াও রপ্তানি আয় আদায়ের সময়সীমা দুই মাস থেকে বাড়িয়ে ছয় মাস করা হয়েছে। একইভাবে আমদানি ব্যয় মেটানোর সময়সীমা চার মাস থেকে বাড়িয়ে ছয় মাস করা হয়েছে। মোবাইলে ব্যাংকিংয়ে আর্থিক লেনদেনের সীমা বাড়ানো হয়েছে।

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের প্রভাবে বাজেটে যাতে আর্থিক সংকট না হয় সেজন্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা প্রাপ্তির বিষয়ে যোগাযোগ অব্যাহত আছে বলে মন্ত্রীকে অবগত করা হয়।

করোনাভাইরাসের প্রভাবে অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “বিশ্ব মহামারী করোনার প্রাদুর্ভাবে বাংলাদেশকে অন্যান্য দেশের মতো নানামুখী অর্থনৈতিক সমস্যার মোকাবেলা করতে হতে পারে।

“আমরা এখনো জানি না করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কতদিন প্রলম্বিত হয়। আমাদের আমদানি ব্যয় ও রপ্তানি আয়ের পরিমাণ গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কম হয়েছে এবং করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে অর্থবছর শেষে এর পরিমাণ আরও কম হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।”

চলমান মেগা প্রকল্পসহ সার্বিক উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা জানিয়ে মুস্তফা কামাল বলেন, “চলমান মেগা প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা বিলম্বের কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ প্রত্যাশিত মাত্রায় অর্জিত না হওয়ার সম্ভাবনা আছে। হোটেল-রেস্টুরেন্ট, পরিবহণ এবং এভিয়েশন সেক্টরের মতো সার্ভিস খাতের উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।”

মন্ত্রী জানান, বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বিরূপ প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের চাহিদা কমার কারণে মূল্য ৫০ শতাংশের বেশি কমেছে, যার বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে প্রবাসী আয়ের উপর।

“তবে যেহেতু বিগত আট মাসে প্রবাস আয়ে ২১ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি ছিল সেহেতু আগামী চার মাসে প্রবাস আয় কিছুটা কম হলেও বছর শেষে গত অর্থবছরের তুলানায় কম হবে না।”

মুস্তফা কামাল বলেন, দীর্ঘ লক-ডাউনের ফলে রপ্তানিমুখী শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং কুটিরশিল্পসহ উৎপাদনমুখী সব প্রতিষ্ঠানে বিরূপ প্রভাব এবং পরিবহন সেবা ব্যাহত হওয়ায় স্বল্প আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং সরবরাহ চেইনে সমস্যা হতে পারে।

রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।