এআইআইবির কাছে অতিরিক্ত ৬০ কোটি ডলার চাইলেন অর্থমন্ত্রী

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-04-23 23:23:01 BdST

bdnews24

করোনাভাইরাস সঙ্কটের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে আগামী দুই অর্থ বছরে এশীয় অবকাঠামো ও বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) কাছে ৬০ কোটি ডলার অতিরিক্ত সহায়তা চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

এর মধ্যে আগামী ২০২০-২১ এবং ২০২১-২২ অর্থবছর বছরে বাজেট সহায়তা হিসেবে ৫০ কোটি এবং বাকি ১০ কোটি ডলার দেশের কুটির শিল্পের পুনর্বাসনের জন্য চেয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার এআইআইবি প্রেসিডেন্ট জিন লিকুনের সঙ্গে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে এক টেলিকনফারেন্সে অর্থমন্ত্রী এই অনুরোধ জানান বলে অর্থ মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে। এআইআইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডি জে পানডিয়ানও এই টেলিকনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজের উপর করোনার বিরূপ প্রভাব মোকাবেলার জন্য আগামী ২০২০-২১ এবং পরের অর্থবছর ২০২১-২২ দুই অর্থবছরের বাজেট সহায়তা হিসেবে ৫০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা হিসেবে চেয়েছেন।

“বাজেট সহায়তার ওই অর্থ দেশের কৃষি খাতের অটোমেশন, কৃষিজাত দ্রব্যের প্রক্রিয়াকরণ, ফল ও শাক-সবজি প্রক্রিয়াকরণ, কোল্ড স্টোরেজ, চামড়া প্রক্রিয়াকরণ, গবাদি পশু ও হাঁস -মুরগি পালন এবং মাছ চাষের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে।

“আর বাকি ১০ কোটি ডলার অর্থ সহায়তা দিয়ে ক্ষুদ্র, ছোট, মাঝারি ও কুটির শিল্প খাতের পুনর্বাসন করা হবে।”

এআইআইবি প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের এসব খাতে আর্থিক সহায়তার বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়।

এডিবির কাছে অতিরিক্ত ১৭৫ কোটি ডলার চাইলেন অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী এআইআইবি প্রেসিডেন্টকে বলেন, “করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি।”

বৈশ্বিক কোভিড-১৯ মহামারীর অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য এআইআইবি ১ হাজার কোটি ডলারের তহবিল গঠন করায় জিন লিকুনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান অর্থমন্ত্রী।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এআইআইবি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের জরুরি সেবা ও বাজেট সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশের জন্য ৪৫ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এআইআইবি প্রেসিডেন্ট জিন লিকুন অর্থমন্ত্রী বলেন, “বিশ্ব অর্থনীতি নিঃসন্দেহে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। প্রতিদিনই পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে। যদি মহামারী মোকাবেলার পাশাপাশি অর্থনীতি নিয়ে এখন থেকেই না ভাবা হয়, তাহলে ২০২১ সালেও অর্থনীতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানো সম্ভব হবে না।”

টেলিকনফারেন্সে চীন নেতৃত্বাধীন এই ব্যাংকটির অর্থায়নে বাংলাদেশে চলমান প্রকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা হয় এবং সেগুলো দ্রুত সফলভাবে সমাপ্ত করার পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান জিন লিকুন।

বর্তমানে বাংলাদেশে এআইআইবির প্রায় ১১৮ কোটি ডলারের অর্থায়নে ৭টি প্রকল্প চলমান, এর মধ্যে ২০২০ সালে অনুমোদিত হয়েছে ৩টি।