বাজেটে স্বাস্থ্য, কৃষিসহ ৪ খাতে বাড়তি বরাদ্দ চায় সিপিডি

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-05-09 17:22:35 BdST

bdnews24

কোভিড-১৯ মহামারীর দীর্ঘমেয়াদী অভিঘাত মোকাবিলায় বরাদ্দে স্বাস্থ্য ও কৃষিসহ চার খাতকে প্রাধান্য দিয়ে আগামী অর্থবছরের জন্য বাস্তবসম্মত ও সম্প্রসারণমূলক একটি বাজেট প্রণয়নের সুপারিশ করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)।

শনিবার “কোভিড-১৯-বর্তমান প্রেক্ষাপট ও বাজেট ২০২০-২১” শীর্ষক একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে এ প্রস্তাব রাখেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী ও কর্মসংস্থান- এই চারটি বিষয় মাথায় রেখে এবারের বাজেট প্রণয়ন করতে হবে। আমাদের বাজেট ব্যবস্থায় যে সমস্ত অপ্রয়োজনীয় ব্যয় রয়েছে আগামী বাজেট থেকে সেসব ব্যয়গুলোকে কাটছাট করতে হবে।”

অপ্রয়োজনীয় ও অনুৎপাদনশীল ব্যয়গুলোকে কমিয়ে আনায় জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, কোভিড-১৯ এর প্রেক্ষিতে বাড়তি চাহিদা মেটাতে প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দিতে কর জালের আওতা বাড়ানো ও কর ফাঁকি রোধের পাশাপাশি অর্থপাচার রোধে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নিতে হবে।

কর জিডিপির অনুপাত ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশের উন্নীত করতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “তাহলে আমাদের অনেক সম্পদ সঞ্চালন করতে পারব। তা দিয়ে ক্রান্তিকালের গুরুত্বপূর্ণ ব্যয়গুলো মেটানো সম্ভব হবে।”

সরকারের প্রশাসনিক খরচ ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব জানিয়ে বলেন, গাড়ির জ্বালানি ও অফিস খরচ অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব। এখাতে ব্যয় কমিয়ে অগ্রাধিকার খাতে ব্যয় করা যেতে পারে।

ফাহমিদা বলেন, সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে যে প্রণোদনা দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে তা যেন সুচারুভাবে করা হয়। যাচাই-বাছাই, বিবেচনা করে ক্ষতিগ্রস্ত লোকরাই যেন সেই প্রণোদনার অর্থ পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ এর অভিঘাত থেকে অর্থনীতিকে আবারও পুরোদমে সচল করতে পৃথিবীর অনেকে দেশেই ৩ বছর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত সময়ও লেগে যেতে পারে। কোনও কোনও দেশে তারও বেশি সময় লেগে যেতে পারে। সুতরাং আগামী বাজেটটাকে যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে হবে।

মূল প্রবন্ধে সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য খাতের জন্য বরাদ্দ বাড়িয়ে জিডিপির ১ দশমিক ১২ শতাংশে উন্নীত করা দরকার, যা এখন জিডিপির দশমিক ৮৯ শতাংশ।

এছাড়াও কোভিড-১৯ এর প্রভাবে দুস্থ মানুষের সহযোগিতা হিসেবে দেশের ১ কোটি ৯০ লাখ নিম্নবিত্ত পরিবারকে দুই মাস আট হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে সিপিডি। হাসপাতালের চাকরিজীবি এবং এ খাতের উদ্যোক্তাদের জন্যও আর্থিক সুবিধা প্রদানে সরকারের কাছে সুপারিশ করে সিপিডি।

কৃষি খাতে ব্যাপকভাব কর্মসংস্থান তৈরি জন্য আগামী বাজেটে এই খাতে বাজেটের ৩ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

সাম্প্রতিক সময়ে বাজেটে এখাতের বরাদ্দ ৩ শতাংশের নিচে চলে এসেছে জানিয়ে তৌফিক বলেন, কৃষিতে প্রণোদনার জন্য যে বরাদ্দ রাখা হয় তা ঠিকমতো ব্যয় করা হয় না। দেখা যায় ভর্তুকির জন্য ৯ হাজার কোটি টাকা করে রাখা হয়। কিন্তু এতো টাকা খরচ হয় না। কোনও কোনও বছর এটা ৪/৫ হাজার কোটি টাকার ভেতরে খরচ হয়।

“এবার যে অতিরিক্ত অর্থ আছে তা যেন এই বছর এমনভাবে একটি পরিকল্পিতভাবে খরচ করা হয় যাতে আগামী অর্থবছরে আরও বড় পরিসরে খরচের সুযোগ তৈরি হয়।”

কোভিড-১৯ মোকাবিলায় অর্থায়নে বাজেট ঘাটতি ৫ শতাংশের বেশি হলেও ক্ষতি নেই বলে মূল প্রবন্ধে তুলে ধরা হয়। কারণ এই সময়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য অনেক বেশি অর্থের প্রয়োজন। এই ঘাটতি অর্থায়নের ক্ষেত্রে বৈদেশিক ঋণ পেতে সরকার যেন সর্বোচ্চ মনোযোগী হয় সে পরামর্শও দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।

আভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের যে লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করা হয় সেটা যেন বাস্তবসম্মত হয় তার উপর বিশেষ জোর দিয়েছে সিপিডি। কারণ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত না হলে পরবর্তীতে প্রাধিকার খাতে অর্থায়ন করা সম্ভব হয় না।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সুবিধার্থে করমুক্ত আয়সীমা বর্তমানের আড়াই লাখ টাকা থেকে সাড়ে তিন লাখে উন্নীত করার পরামর্শ রেখেছে সিপিডি।

এছাড়া যেসব ক্ষেত্রে আয়কর হার ১০, ১৫ ও ২০ শতাংশ ধরা হয়েছে তা কিছুটা কমিয়ে ৫, ১০ ও ১৫ শতাংশ করে ক্ষুদ্র আয়ের মানুষদের ‘কিছুটা স্বস্তি’ দেওয়ার পরামর্শ রেখেছে।

তবে কর্পোরেট কর কমানোর বিষয়ে সাবধান হওয়ার কথা বলে এই খাতে কর না কমানোই উচিত হবে বলে প্রবন্ধে জোর দেওয়া হয়।

আগামী বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ না দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তৌফিক বলেন, এটা কোনো সুফল বয়ে আনে না।

তিনি বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) প্রকল্প অগ্রাধিকার তালিকা বাছাই করে সেগুলোতে অর্থায়ন চালিয়ে যেতে হবে। তবে কম অগ্রাধিকার বা সম্প্রতি অনুমোদন পেয়েছে পরে শুরু করলেও হবে এরকম প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ রাখা যেতে পারে।

অনুষ্ঠানে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “এই দুঃসময়ে আমাদের নিম্নবিত্তসহ দেশের মানুষকে বাঁচাতে হলে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। সেজন্য রাজস্ব আহরণ অন্তত ১৫ শতাংশে উন্নীত করতে হবে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এই অর্থবছরে রেমিটেন্সের প্রণোদনা হিসেবে যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল তার শতভাগ ব্যয় হবে না।

ওই অব্যয়িত অর্থ যারা বিদেশ থেকে ফিরে আসছেন তাদের দেওয়া যায় কীনা তা ভাবতে সরকারের কাছে পরামর্শ রাখেন তিনি।