মহামারী: ঝুঁকিতে থাকা তরুণদের জন্য বাজেটে গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-05-09 23:40:36 BdST

bdnews24

মহামারীর এই সঙ্কটের সময়ে নানাভাবে ঝুঁকিতে থাকা তরুণদের কল্যাণে আগামী বাজেটে ছয়টি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ এসেছে এক আলচনায়।

শনিবার এক প্রাক বাজেট ওয়েবিনারে এ পরামর্শ তুলে ধরেন সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) এর নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান।

সানেম এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ যৌথভাবে ‘বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর ওপর কোভিড-১৯ মহামারীর প্রভাব: জাতীয় বাজেট ও পরিকল্পনার মাধ্যমে সঙ্কট মোকাবিলা’ শীর্ষক এ ওয়েবিনারের আয়োজন করে।

বাংলাদেশের তরুণদের ওপর চলমান মহামারীর প্রভাব নিয়ে সানেমের গবেষণার সারমর্ম তুলে ধরে সেলিম রায়হান ‘ঝুঁকিতে থাকা’ তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্যাকেজ প্রণয়নের কথা বলেন।

দীর্ঘ সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কিশোর-তরুণদের ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে —সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের’ মাধ্যমে দূর শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সহজলভ্য করা, ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং শিক্ষার সাথে সাথে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপরও তিনি জোর দেন।

সেলিম বলেন, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চত করতে বেকার যুবকদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনীর আওতা বৃদ্ধি করা (সামাজিক সহায়তা, গণ-কর্মসংস্থান কর্মসূচি গ্রহণ), কর্মসংস্থান রক্ষা পরিকল্পনা তৈরি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য কর মওকুফ বা সুদ মুক্ত ঋণের সুবিধা দেওয়া দরকার।

তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে জোর দিতে আইসিটি খাতের উন্নয়ন এবং তাদের কারিগরি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করা দরকার বলে মত দেন তিনি।

সানেমের নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘প্রকৃত দরিদ্র’ তরুণদের চিহ্নিত করে তাদের অর্থ সহায়তা, সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া, ঋণ মওকুফের মত উদ্যোগ নিতে হবে।

পশাপাশি জরুরি সাহায্যের হেল্পলাইনে বরাদ্দ, আশ্রয় ও সেবা খাতের জন্য প্রয়োজনীয় সংগঠনগুলোর অর্থায়ন; মহামারী সংক্রান্ত সংস্কার-কুসংস্কার মোকাবিলায় পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলেন এই গবেষক। 

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবিরের সভাপতিত্বে এবং সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হানের পরিচালনায় ওয়েবিনারে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষক, গবেষক, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, উন্নয়ন কর্মী ও তরুণ উদ্যোক্তাসহ ৬৫ জন অংশগ্রহণ করেন।

সানেমের গবেষণা পরিচালক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা, সানেমের রিসার্চ ফেলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির প্রভাষক মাহতাব উদ্দিন, সানেমের রিসার্চ ইকোনমিস্ট জুবায়ের হোসেন, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের ইয়াং পিপল বিভাগের ম্যানেজার নাজমুল আহসান প্রায় দুই ঘণ্টার এই ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নেন।

সূচনা বক্তব্যে ফারাহ কবির মহামারী ও চলমান সঙ্কট নিয়ে তার পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন প্রতিটি সঙ্কটই তরুণদের প্রভাবিত করে।

বাংলাদেশের তরুণদের ওপর কোভিড-১৯ মহামারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবগুলো নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব নিয়েও তিনি কথা বলেন।

প্যানেল আলোচক সায়মা হক বিদিশা সতর্ক করে বলেন, তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি অসামাজিক কার্যকলাপ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা এবং এর ফলে জরুরি সহায়তা কার্যক্রমে সৃষ্ট সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন জুবায়ের হোসেন। তিনি বাংলাদেশের তরুণ ফ্রিল্যান্সারদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং তাদের পেশার ওপর মহামারীর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও আলোকপাত করেন।

জুবায়ের বলেন, বাংলাদেশের প্রায় পাঁচ লক্ষ ফ্রিল্যান্সার আছেন, যাদের আয় এই মহামারীর কারণে কমে যেতে পারে; এর প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়বে।