হাওরে শতভাগ, সারাদেশের ৩৯% ধান কাটা শেষ: মন্ত্রণালয়

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-05-11 20:28:28 BdST

bdnews24

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে লকডাউনের মধ্যে দেশের হাওর অঞ্চলের ৯৯ শতাংশ এবং সারা দেশের ৩৯ শতাংশ বোরো ধান কাটা শেষ হয়েছে বলে সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, এবার হাওরে ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯৯ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছিল, রোববার পর্যন্ত ৪ লাখ ৩৯ হাজার হেক্টরের ধান কাট শেষ হয়েছে; যা মোট আবাদের ৯৯ শতাংশ।

আর সারা দেশে ৪৭ লাখ ৫৪ হাজার ৪৪৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে কাটা হয়েছে ১৮ লাখ ৮ হাজার হেক্টরের ধান, যা মোট আবাদের ৩৯ শতাংশ।

দেশের ১৪টি কৃষি অঞ্চল- ঢাকা, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, সিলেট, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, রাজশাহী, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল এবং ফরিদপুরে ৫৫ লাখ ৭০ হাজার ৩৬১ জন কৃষিশ্রমিক ধান কাটার কাজে নিয়োজিত আছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

সেখানে বলা হয়েছে, “হাওরের মত সফলভাবে নিরাপদে অন্য অঞ্চলের বোরা ধান কর্তনের জন্য যেখানে প্রয়োজন সেখানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কৃষি শ্রমিকদের পাঠানো অব্যাহত রয়েছে।”

পাশাপাশি সারা দেশে ১৪৯৭টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার এবং ২৪৫৫টি রিপার ধান কাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের নানা উদ্যোগের ফলে হাওরের ধান কাটা ‘সফলভাবে’ শেষ হয়েছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আশা করা যায় আগামী জুন মাসের মধ্যে সফলভাবে সারা দেশের বোরো ধান শতভাগ কর্তন সম্পন্ন হবে।

“প্রধানমন্ত্রী প্রতি ইঞ্চি জমিতে ফসল ফলানোর আহ্বান জানিয়েছেন। সে লক্ষে ইতোমধ্যে কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে, খুব শিগগিরই এগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হবে।”

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া- এই সাত জেলায় শুধু হাওরে ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯৯ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে এবার।

এ বছর বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২ কোটি ৪ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন। এর প্রায় ২০ শতাংশ হাওর অঞ্চল থেকে আসার কথা।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে সরকার গত ২৬ মার্চ থেকে সব অফিস আদালত বন্ধ রেখেছে, সারা দেশে সব ধরনের যানবাহন চলাচলও বন্ধ।

গণপরিবহন বন্ধ থাকায় এবং কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ এড়াতে বেশিরভাগ মানুষ ঘরে থাকায় হাওর অঞ্চলের ধান কাটার শ্রমিক সংকট দেখা দেয় এবার।

পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শ্রমিকদের ধান কাটতে হাওর এলাকায় পাঠানো হয়। তাদের রাতে থাকার জন্য ওইসব এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোও খুলে দেওয়া হয়।