দরিদ্রদের খাদ্য-পুষ্টি নিশ্চিতে জিডিপির ৬% বরাদ্দের দাবি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-05-14 17:52:58 BdST

bdnews24
এরা দিন আনে দিন খায়, রাত হলে মাথা গোঁজার ঠাঁই এই ফুটপাতে। ছবি: মাহমুদ জামান অভি

দরিদ্র মানুষের জন্য খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিতে আসন্ন বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমে জিডিপির ৬ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।

বৃহস্পতিবার ‘খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ’ আয়োজিত ‘আসন্ন বাজেট ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম’ শীর্ষক এক অনলাইন আলোচনা সভায় তারা এ দাবি জানান।

এদিন আলোচনায় অংশ নেন খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ- এর চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ, বিআইডিএসেরসিনিয়র রিসার্চ ফেলো নাজনীন আহমেদ, আইসিসিও কোঅপারেশন বাংলাদেশের কর্মসূচি প্রধান আবুল কালাম আজাদ।

আলোচনাপত্র পাঠ ও সঞ্চালনা করেন খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মহসিন আলী।

আলোচনা সভায় বক্তরা বলেন, নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে চিকিৎসা সংকটের পাশাপাশি অতিদরিদ্র, দরিদ্র এবং নিম্নবিত্তসহ মধ্যবিত্তের একাংশ প্রচণ্ডভাবে জীবিকা সংকটের সম্মুখীন। এ প্রাদুর্ভাবের আগে থেকেই বাংলাদেশ ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও অপুষ্টিসহ বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আসছিল।

কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, “আর এক মাস পরেই জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ সালের বাজেট উত্থাপিত হবে। করোনা মোকাবেলা, দরিদ্র মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে আসন্ন বাজেটে জিডিপির অন্তত ৬% বরাদ্দ করা প্রয়োজন।”

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবন রক্ষার জন্য সরকার যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছে, তার যথাযথ বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রবীণ এই অর্থনীতিবিদ।

“আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করতেই হবে। পাশাপাশি দরিদ্র ও অসহায় মানুষ যে মানবেতর অবস্থায় পতিত হচ্ছে, তাতে করে খাদ্য ও কাজের ব্যবস্থা করার উপর নজর দিতে হবে। এক্ষেত্রে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে যেন সে বরাদ্দ ঠিকভাবে পৌঁছায় সেজন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।”

অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, “বর্তমান প্রেক্ষাপটে আসন্ন বাজেটে বরাদ্দের ধরণ তো অবশ্যই বদলে যাবে। স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাত এতে প্রাধ্যান্য পাবে নিশ্চয়ই। স্বাস্থ্য বাজেট বর্তমানের ২৫ হাজার কোটি টাকা থেকে দ্বিগুণ করা দরকার।

“করোনা মোকাবেলায় হার্ড ইমিউনিটি কৌশলে এগোতে হলে ব্যাপক চেকআপের প্রয়োজন হবে, সেজন্যই এ বরাদ্দ দরকার। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির জন্যও প্রস্তাবনার চেয়ে দ্বিগুণ অর্থাৎ প্রায় ৭২ হাজার কোটি টাকা দরকার।”

এই পরামর্শ বাস্তবায়নে পথও বাতলে দেন অর্থনীতির এ অধ্যাপক।

তিনি বলেন, “এখন কিছু মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যে পতিত হচ্ছে, ফলে সরকারের কাছে যে দরিদ্র মানুষের তালিকা রয়েছে, সেখানে নতুন মানুষকে যুক্ত করতে হবে। এক্ষেত্রে সেলফ অ্যাপ্লিকেশন বা স্ব-ঘোষণার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত হওয়া একটি কৌশল হতে পারে, যা দ্রুত কাজ করবে। স্চ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ তালিকা এবং সময়ে সময়ে তা যাচাই-বাছাইয়ের ব্যবস্থা থাকতেই হবে।”

নাজনীন আহমেদ বলেন, “সরকারের প্রণোদনা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্যও রয়েছে, সেটা যেন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করতে হলে সাধারণ মানুষের, বিশেষত গ্রামের দরিদ্র উদ্যোক্তাদের কর্মসংস্থান সচল রাখতে হবে। এখানে ছাড় দিলে খাদ্য অধিকার ভয়াবহ সংকটের মধ্যে পড়বে।”

আবুল কালাম আজাদ বলেন, আসন্ন বাজেটে কর্মসংস্থানের জন্য কৃষি ও এসএমই খাতে অবশ্যই বিশেষ নজর দিতে হবে।

সভার আলোচনাপত্রে মহসিন আলী মহামারীর বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আসন্ন বাজেটে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য কিছু দাবি তুলে ধরেন।

>> করোনা মহামারী মোকাবেলা, সকল দরিদ্র সহ উপার্জনহীন মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে বাজেটে জিডিপির ৬% বরাদ্দ।

>> বিবিএস-এর খানা জরিপের ভিত্তিতে দরিদ্র এবং কর্মহীন প্রতিটি পরিবারকে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাসে নগদ ৬ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া।

>> দুস্থ, অতি দরিদ্র থেকে দরিদ্র, শহরের বস্তিবাসী এবং কর্ম ও উপার্জনহীন এক কোটি পরিবারের জন্য দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে বা অক্টোবর থেকে রেশনিং ব্যবস্থা (চালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি) চালু করা।

>> এ অর্থবছরের মধ্যে সকল অতিদরিদ্র, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর (যাদের অনেকেরই জাতীয় পরিচয়পত্র নেই) সঠিক তালিকা (ডেটাবেজ) নিশ্চিত করা।

>> স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করা।

>> খাদ্য, চিকিৎসা, প্রণোদনাসহ সকল সরকারি এবং বেসরকারি সহায়তার স্বছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

‘খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ’ ২০১৫ সাল থেকে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও পুষ্টির অধিকার নিশ্চিতে খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়নের দাবি ও প্রচারণা চালিয়ে আসছে।