‘ভার্চুয়াল আপ্যায়নে’ লাখ লাখ টাকার বিল, ব্যাখ্যা চান মন্ত্রী

  • জাফর আহমেদ, জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-07-15 10:17:44 BdST

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে কর্মশালা ও কারিগরি কমিটির সভা করেও আপ্যায়ন বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে ৫৭ লাখ টাকা।

এসব আয়োজনে অংশ নেওয়া ১২০ জনের জন্য ব্যাগ, ফোল্ডার, কলম ও প্যাড বাবদ ব্যয় এক কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং প্রতিবেদন সরবরাহের নামে আরও ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে বাস্তবায়নাধীন ৭২টি প্রকল্পের প্রভাব মূলায়নের জন্য মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে এসব ভার্চুয়াল আয়োজন করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)।

এর মধ্যে প্রতি প্রকল্পের জন্য একটি করে জাতীয় কর্মশালা এবং টেকনিক্যাল ও স্টিয়ারিং কমিটির দুটি করে ভার্চুয়াল সভা ছিল।

পরামর্শক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগসাজশে আইএমইডির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভার্চুয়াল আয়োজনের মাধ্যমে তিনটি খাতে মোট ২ কোটি ৫ লাখ টাকার ব্যয় দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান মঙ্গলবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আইএমইডি সচিবকে আমি এবিষয়ে লিখিতভাবে জানানোর নির্দেশ দিয়েছি। সচিব প্রতিবেদনটি বুধবার অথবা বৃহস্পতিবার দিতে পারেন।

“এরপর আমরা বিষয়টি বিশ্লেষণ করে দেখব।”

প্রতিটি ভার্চুয়াল সভায় আইএমইডির ৭৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিশেষজ্ঞসহ মোট ১২০ জন অংশ্রগ্রহণকারীর ছিলেন। পরামর্শক কোম্পানিগুলো যে বিল জমা দিয়েছে তাতে প্রতিটি কর্মশালার ক্ষেত্রে তাদের জন্য ব্যাগ, ফোল্ডার, কলম ও প্যাড বাবদ এক লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

আইএমইডির এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, প্রত্যেক পরামর্শক কোম্পানি সমান বিল জমা দিয়েছে। অর্থাৎ এখাতে ৭২টি ওয়ার্কশপের জন্য বিল করা হয়েছে এক কোটি ৩৮ লাখ ২৪ হাজার টাকা।

একইভাবে প্রতিটি কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রতিবেদন সরবরাহ ব্যয় ১৫ হাজার টাকা ধরে সবগুলো প্রকল্প মিলে এ খাতে মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে আরও ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

প্রতি ওয়ার্কশপের জন্য ৬০ হাজার টাকা ধরে ৭২টি কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের আপ্যায়নে মোট ৪৩ লাখ ২০ হাজার টাকা বিল করা হয়েছে। এর সঙ্গে টেকনিক্যাল ও স্টিয়ারিং কমিটির দুটি করে ভার্চুয়াল সভার জন্য ধরাা হয়েছে আরও ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

সব মিলে এসব ভার্চুয়াল আয়োজনের জন্য খাবারে বিল তোলা হয়েছে মোট ৫৭ লাখ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

এছাড়া স্টেশনারি ও অন্যান্য ব্যয় হিসেবে প্রতিটি ভার্চুয়াল আয়োজনের জন্য ১৫ হাজার টাকা ধরে মোট বিল দেখানো হয়েছে ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকার।

একটি প্রকল্পের বিলের হিসাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওই প্রকল্পের জন্য ২৬ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা করে বিল উত্তোলন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা পাবে সংশ্লিষ্ট আউটসোর্সিং কোম্পানি, বাকি অর্থ আইএমইডির তত্ত্বাবধানে থাকা জাতীয় ওয়ার্কশপ ও স্টিয়ারিং ও টেকনিক্যাল কমিটির সম্মানী ও ব্যয় হিসেবে দেওয়া হয়।

এই বিলের মধ্যে পরামর্শক কোম্পানি ও অংশগ্রহণকারীদের সম্মানীসহ মোট ২১টি খাত রয়েছে। এর মধ্যে আপ্যায়ন ও ব্যাগ, ফোল্ডার, প্যাড, কলম এবং অংশগ্রহণকারীদের প্রতিবেদন সরবরাহ খাতে ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে একাধিক পরামর্শক কোম্পানির কর্মকর্তারা একই কথা বলেছেন। তারা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলছেন, আইএমইডির নির্দেশনা অনুযায়ী বিল তৈরি করে তারা জমা দিয়েছেন।

‘২য় শস্য বহুমুখীকরণ প্রকল্প (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্পের প্রভাব মূল্যায়নকারী ক্রিয়েটিভ কনসালট্যান্টস ইন্টার‌ন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মান্নান বলেন, “আইএমইডি আমাদেরকে বিলের একটা ফর্ম দিয়েছে। ওই ফর্মে যেসব আইটেম আছে, তাতে তাদের ইনস্ট্রাকশন অনুযায়ী বিল জমা দিতে বলেছে, আমরা সেভাবেই বিল জমা দিয়েছি।”

আইএমইডির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তারা আইএমইডির (প্রশাসন) যুগ্ম সচিব মো. মাহমুদুল হকের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

মাহমুদুল সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভাই আমার এখন জ্বর। দেশে এখন করোনাভাইরাস মহামারী চলছে। আমারতো করোনাভাইরাসও হতে পারে।

“ভয় পেলে এটি খুব ক্ষতি করে। আপনার সঙ্গে কথা বলে যদি আমার ভয়ের কিছু হয়, তাই আমি আপনার সঙ্গে কথা বলব না।”

তবে আইএমইডি সচিব আবুল মন্সুর মো. ফয়জুল্লাহ বলেছেন, “যে হিসাবটা আইএমইডি দেখিয়েছে, সেই পরিমাণ অর্থ প্রভাব মূল্যায়ন প্রকল্পগুলোতে বরাদ্দ রয়েছে, তার বেশি তারা দাবি করেনি।

“এছাড়া করোনাভাইরাসের কারণে জুমে মিটিং করা হলেও আইএমইডির সম্মেলনকক্ষ থেকেও কয়েকজন অংশ নিয়েছেন বলে আমি জানি।”

আর বিভাগটির অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মান্নান বলেন, “আসলে এসব কর্মশালার প্রস্তুতি শুরু হয় বছরের শুরুতে। আর বছরের শেষে এসে ওয়ার্কশপটা হয়। শুধুমাত্র জুমে মিটিংটা হলেই সকল খরচ শেষ হয়ে যায় না, আগের খরচসহ হিসাব করে বিল করা হয়েছে।”