টিকার আগে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত ‘পর্যাপ্ত’ তথ্য চান সেঁজুতি সাহা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-11-29 03:06:43 BdST

bdnews24

মহামারীর ব্যাপকতায় বিহ্বল হয়ে সবাই দ্রুত টিকার জন্য মুখিয়ে থাকলেও এখন নতুন করোনাভাইরাসের দেশীয় রূপের বিষয়ে ‘পর্যাপ্ত’ পরিমাণে তথ্য-উপাত্ত বেশি প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনুজীব বিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা।

শনিবার রাতে এক সংলাপে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (সিএইচআরএফ) এই গবেষক বলেন, “ভ্যাকসিনেশন নিয়ে এখন মূল চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে মাঠ পর্যায়ের পর্যাপ্ত ডেটা। আমাদের কাছে বাংলাদেশের নভেল করোনাভাইরাসের ধরন নিয়ে ভালো মানের মাঠ জরিপ নেই।

“কোভিড-১৯ মহামারীর ফলে শরীরে মূল সমস্যাটা কী হচ্ছে- এটা না জানলে আমরা বুঝতে পারব না যে, কোন ভ্যাকসিনটা আমাদের জন্য কার্যকর। ওষুধ কোম্পানিগুলোও কোথায় বিনিয়োগ করবে তা ঠিক করতে পারবে না।”

সেঁজুতি নিজেই গত মে মাসে বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে সংক্রমিত নতুন করোনাভাইরাসের (সার্স সিওভি-২) জিনোম সিকোয়েন্স উন্মোচনের গবেষণা কাজে নেতৃত্ব দিয়ে সাফল্য পেয়েছেন। এরপরে আরও বেশ কয়েকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান জিনোম সিকোয়েন্স উন্মোচনে সাফল্য দেখিয়েছে। তবুও এসব তথ্য উপাত্ত এখনও পর্যাপ্ত হয়নি বলেই মনে করছেন এই গবেষক।

ভ্যাকসিন আসার আগে জিনোম সিকোয়েন্সের মতো ডেটা কেন প্রয়োজন তার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “ইউরোপ আমেরিকায় নভেল করোনাভাইরাস যেমন বাংলাদেশে তার প্রকৃতি তেমনটি না হয়ে ভিন্নও হতে পারে। এ রকম ঘটনা আগেও ঘটেছে।

“নর্থ আমেরিকানদের জন্য তৈরি নিউমোনিয়ার টিকা যখন বাংলাদেশে প্রথম আনা হল তখন সেটা কাজ করল না। পরবর্তীতে বাংলাদেশ থেকে ডেটা সংগ্রহ করে রোগের ধরন বিবেচনায় নতুন টিকা তৈরি করতে হয়েছিল। রোগের ক্ষেত্রে এমনটি হওয়া খুবই স্বাভাবিক।”

বাংলাদেশ আগামী বছরের শুরু থেকে টিকা পেতে ইতোমধ্যেই একাধিক সরবরাহকারী পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

এই পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ইকনোমিক স্ট্যাডি সেন্টার ‘ভ্যাকসিন কূটনীতি: বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা’ শীর্ষক সংলাপের আয়োজন করে।

সেঁজুতি সাহা ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রুমানা হক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান সংলাপে অংশ নেন।

অধ্যাপক দেলোয়ার বলেন, “ভ্যাকসিন নিয়ে উন্নত রাষ্ট্রগুলো এক ধরনের জাতীয়তাবাদী আচরণ করছে। ভ্যাকসিন বিষয়ে উগ্র দেশপ্রেম ও ভ্যাকসিনের রাজনীতিকীকরণ আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ একই সাথে ভারত, চীনের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং গ্যাভি, ডব্লিউএইচও ইত্যাদি সংস্থার সাথে বহুপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে যা আমাদের ভ্যাকসিন সংগ্রহের পথ সুগম করবে। এছাড়া বাংলাদেশ এটিকে পাবলিক পণ্য হিসেবে দেখছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি বলেন, “কোভিডের মতো একটা মহামারীর সময়ে রাজনৈতিক স্বার্থ খুবই নগণ্য পর্যায়ে থাকা উচিত ছিল। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে উন্নত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক বিরোধ এই বিপদ মোকাবেলার সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।”

অর্থনীতির গবেষক আশিকুর রহমান বলেন, “অত্যন্ত সংবেদনশীল এই বিষয়ে বাংলাদেশ সাবধানতার পরিচয় দিয়েছে। ভ্যাকসিন হবে সারা বিশ্বের সব মানুষের।”

ভ্যাকসিন নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়ে আশিক বলেন, “ভ্যাকসিন এখনও পরিপূর্ণ ব্যবহার উপযোগী হয়নি। এটি কতটা কার্যকর, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কত দিন স্থায়ী হবে সেটা এখনও পরিষ্কার নয়। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও ভাবতে হবে।”

আরও পড়ুন

করোনাভাইরাসের জিন বিন্যাস উন্মোচন এনআইবি গবেষকদের  

বাংলাদেশে সংক্রমিত করোনাভাইরাসের জিন রহস্য উন্মোচনের দাবি  

করোনাভাইরাসের রূপ বদলের হার বাংলাদেশে ‘অনেক বেশি’  

করোনাভাইরাসের সম্পূর্ণ জিন বিন্যাস উন্মোচন বিসিএসআইআরে  

করোনাভাইরাসের জিন রহস্য উন্মোচনে বিস্তৃত গবেষণায় ঢাবি