সাড়ে ৩ কোটি টাকা আত্মসাতে সহকারী কর কমিশনার বরখাস্ত

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-01-27 18:49:07 BdST

bdnews24

সরকারের সাড়ে তিন কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে খুলনা কর অঞ্চলের সহকারী কর কমিশনার মো. মেজবাহ্উদ্দিন আহমেদকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে মঙ্গলবার থেকে তাকে সরকারি এই চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, মেজবাহউদ্দিন আহমেদ খুলনার বিভিন্ন কর অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকালে করদাতাদের জমা করা পে অর্ডার, ডিডি, ক্রসচেক ইত্যাদি সরকারের কোষাগারে জমা না দিয়ে নিজের অ্যাকাউন্টে জমা করে পরে নিজ স্বাক্ষরিত চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করে ৩ কোটি ৫০ লাখ ২৬ হাজার ৯২৯ টাকা আত্মসাৎ করেন।

বিষয়টি এনবিআরের নজরে এলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

এই অপরাধের জন্য কেন মেজবাহ্উদ্দিনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়।

সব প্রক্রিয়া শেষে ২৩ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি তাকে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্তের অনুমোদন দেন।

এনবিআরের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে বলা হয়, তিনি কর অঞ্চল খুলনা, সার্কেল ১১ নয়াপাড়ায় দায়িত্ব পালনকালে বেআইনিভাবে সোনালী ব্যাংকের নয়াপাড়া শাখায় ব্যাংক হিসাব নম্বর ২৩২৪২০০০০৩০৫৩ চালু করেন। এরপর করদাতাদের দাখিল করা পে অর্ডার, ডিডি, ক্রসচেক ইত্যাদি সরকারি কোষাগারে চালানের মাধ্যমে জমা না করে নিজের অ্যাকাউন্টে জমা করেন। এরপর নিজের স্বাক্ষরিত চেক দিয়ে ৩ লাখ ৮ হাজার টাকা তুলে নেন।

এরপর খুলনা কর অঞ্চল ১৪ বাগেরহাটে দায়িত্ব পালনের সময় কার দাতাদের দাখিল করা পে অর্ডার, ডিডি, ক্রসচেক সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও আনুসঙ্গিক বিল উত্তোলনের জন্য পরিচালিত ব্যাংক হিসাব ২৯০১৩৩০০০৬৫৭ নম্বর থেকে নিজ স্বাক্ষরিত চেকের মাধ্যমে ২ কোটি ১০ লাখ ৮ হাজার ৪২৩ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।

ওই কর্মকর্তা বাগেরহাটে দায়িত্ব পালনকালে বেআইনিভাবে ব্রাক ব্যাংকের বাগেরহাট শাখায় আরেকটি হিসাব নম্বর খোলেন (০২০১২০৪০১৮০৩৯০০১)। এরপর করদাতাদের দাখিল করা পে অর্ডার, ডিডি, ক্রস চেক সরকারি কোষাগারে জমা না করে ব্রাক ব্যাংকে এই অ্যাকাউন্টে জমা করে ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন।

একইভাবে খুলনা সার্কেল ১৭ মংলায় দায়িত্ব পালনকালে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের দিগরাজ শাখায় ০০৩৬১২০০০০১২৯ নম্বর হিসাব চালু করে করদাতাদের দেওয়া ২৯ লাখ ৯১ হাজার ৪৯৭ টাকা আত্মসাৎ করেন। ওই সার্কেলে থাকা অবস্থায়ই জনতা ব্যাংকে আরেকটি হিসাব চালু করে ২৯ লাখ ৮৯৮ টাকা তুলে নেন।

এরপর তিনি খুলনা কর অঞ্চল সার্কেল ২২ ভেড়ামারায় দায়িত্ব পালনকালে জনতা ব্যাংকে একটি হিসাব চালু করে করদাতাদের দেওয়া ৪২ লাখ ৭ হাজার ৫২৭ টাকা জমা করে নিজ স্বাক্ষরিত চেকের মাধ্যমে ২৯ লাখ ৯৯৮ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেন।