পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

বাজেট সম্প্রসারণের তিনটি সুযোগ নেয়নি সরকার: দেবপ্রিয়

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-06-06 19:19:59 BdST

bdnews24
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ফাইল ছবি

মহামারীকালে বাজেট সম্প্রসারণে চারটি সুযোগ সরকারের সামনে থাকলেও শুধু একটিই কেবল গ্রহণ করা হয়েছে বলে মনে করেন নাগরিক সংগঠন ‘সিটিজেন প্ল্যাটফর্ম’র আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য।

‘জাতীয় বাজেট ২০২১-২২ এ পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কী আছে?’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে তিনি এই মত প্রকাশ করেন।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট সম্প্রসারণ করার যে চারটি সুযোগ ছিল, তার মধ্যে সরকার শুধু উদ্যোক্তাদের হাতে বিনিয়োগযোগ্য সম্পদ বাড়ানোর সুযোগটাই ব্যবহার করেছে।

এর প্রশংসা করে তিনি বলেন, “বাকি তিনটির মধ্যে গরিব মানুষকে প্রত্যক্ষ অর্থ সাহা্য্য দেওয়ার যে প্রয়োজনীয়তা, তা বাজেটে আসেনি। নতুন করে দারিদ্র্র্য সীমার নিচে চলে যাওয়া মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তায় সম্প্রসারণ দেখা যায়নি।

“এছাড়া ব্যবসার ক্ষেত্রেও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত বাদ পড়েছে। ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্পও সেভাবে নাই।”

মহামারী পরিস্থিতির জন্য বাজেটে মধ্য মেয়াদি সমন্বিত কর্মসূচি থাকার প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন দেবপ্রিয়।

তিনি আরও বলেন, সরকার কোভিড-১৯ মহামারীর দ্বিতীয় ধাক্কা বিবেচনায় না নিয়ে বাজেট প্রস্তাব করেছে। ফলে প্রথম ধাক্কায় যে সমস্ত সমস্যা হয়েছিল, সেগুলোও সার্বিক বিবেচনায় আসেনি।

এই মহামারীর অভিঘাত সম্বন্ধে ‘তাৎপর্যপূর্ণ সরকারি মূল্যায়ন’ও বাজেটি পাননি বলে জানান দেবপ্রিয়।

তিনি বলেন, অতিমারীতে দেশের কর্মসংস্থান, দারিদ্র্যের কী হল, সে সম্পর্কে সরকার কোনো কাজও করেনি, বাজেটে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেই। কত মানুষ পিছিয়ে পড়েছে, সেই তথ্যও সরকারের কাছে নেই।

তথ্যের ঘাটতির কথা বলতে গিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, “আমাদের তথ্য উপাত্তের ঘাটতি এখন তথ্য নৈরাজ্যে পরিণত হয়েছে।”

সরকার মাথাপিছু আয়ের যে হিসাব দিয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “মাথাপিছু আয়ের হিসাব পাওয়া গেলে অবশ্যই জিডিপির অন্যান্য সকল খাতের হিসাবও করা হয়েছে। তাহলে জিডিপির সকল হিসাব দিচ্ছে না কেন?”

অনুষ্ঠানে সিপিডির আরেক সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “যে কোনো বিশ্লেষণ করতে চাইলে অবশ্যই তথ্যের প্রয়োজন হয়। সরকারকে অবশ্যই তথ্য হালনাগাদ করতে হবে।”

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলো জিডিপির ২৪-২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাজেট বাস্তবায়ন করলেও বাংলাদেশে মাত্র ১৬ শতাংশ পর্যন্ত হচ্ছে। আর সরকারি ব্যয় হচ্ছে মাত্র ৯ শতাংশের মতো। এটা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে কম।

গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, “এই বাজেটে আমরা চমক আশা করেছিলাম, কিন্তু তা হয়নি।

“গত বছরের পুরোটাই শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারেনি। তাদের জন্য কিছু আশা করেছিলাম। যেসব শিক্ষার্থীর পরিবার স্মার্টফোন কিনে দিতে পারেনি, তাদের জন্য স্মার্টফোন ও গিগাবাইট বরাদ্দ দেওয়া উচিৎ ছিল।”

বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের আহ্বায়ক মোশতাক রাজা চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্য বাজেট কিছুটা বাড়লেও এটা যথেষ্ট নয়।

“শ্রীলংকা স্বাস্থ্যে আমাদের তুলনায় চার গুণ বরাদ্দ দিচ্ছে।”

প্রতিমাসে ২৫ লাখ করে টিকা দেওয়ার যে লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে, তা নিয়ে তিনি বলেন, “তাহলে তো প্রায় ৫ বছর লেগে যাবে। তাহলে কি (করোনাভাইরাস মহামারী) মোকাবেলা করা সম্ভব?”

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল এই সভায় সভাপতিত্ব করেন।