ক্রেতা থেকে নিয়েছে, সরকারকে ‘ভ্যাট দেয়নি’ টেপটেলস

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-06-16 23:06:22 BdST

bdnews24

রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীতে চলতি বছর জানুয়ারিতে ব্যবসা শুরু করা ‘টেপটেলস’ ক্রেতার কাছ থেকে ভ্যাট নিলেও তা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়নি; এমনকি রেস্তোরাঁটির ভ্যাট নিবন্ধনই নেই।

অভিজাত এই রেস্তোরাঁয় শুরু থেকেই গ্রাহকের কাছ থেকে খাবারের বিলের সঙ্গে সরকারকে দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট বা মূসক নেওয়া হচ্ছিল।

গ্রাহককে সেটির চালানের কপিও দেওয়া হচ্ছিল। তবে সেটি ছিল ‘ভুয়া’ বলে দাবি ভ্যাট গোয়েন্দাদের।

শেষ পর্যন্ত একজন গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার টেপটেলস এ অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে ভ্যাট আইনে মামলা করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর।

বুধবার ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ৫ মাসে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৩৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

শুধু কাগজের চালান ভুয়া ছিল তাই নয়, কেউ ডিজিটাল সিস্টেমে বিল দিতে চাইলে তার কাছ থেকে ভ্যাটসহ বিল নেওয়া হয় পিওএস মেশিনের মাধ্যমে। কিন্তু মেশিনটিরও মূসক নিবন্ধন নেই।

জানতে চাইলে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “একজন গ্রাহকের কাছ থেকে অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুনাওয়ার মুরসালীনের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। তখন প্রতারণার এই তথ্য বের হয়ে আসে।

“প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আত্মসাৎকৃত ভ্যাট আদায় ও এসংক্রান্ত অপরাধের সর্বোচ্চ জরিমানা আরোপ করতে মামলা করা হয়েছে।”

এই মামলা শিগগির ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটের কাছে নিষ্পত্তির জন্য প্রেরণ করা হবে বলে জানান তিনি।

সুমিস হট কেকের 'ভ্যাট ফাঁকি' ৭ কোটি টাকা, মামলা  

ভ্যাট ফাঁকি: ‘লুবনান’র বিরুদ্ধে মামলা  

সাড়ে ৭ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি, নারায়ণগঞ্জ ক্লাবকে ১৫ দিনের নোটিস  

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর অভিযানের বিষয়ে আরও জানায়, টেপটেলস এ জানুয়ারি থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত ভ্যাট আরোপযোগ্য পণ্যের বিক্রয়মূল্য ছিল ২ কোটি ৩২ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। এর ওপর প্রযোজ্য ভ্যাট ৩৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা।

এই ভ্যাট যথাসময়ে পরিশোধ না করায় ভ্যাট আইন অনুযায়ী মাসিক ২ শতাংশ হারে সুদ প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। সবমিলে প্রায় ৩৭ লাখ টাকার রাজস্ব পাওনা হয়েছে।

“অভিযানে গোয়েন্দা দল দেখতে পায় প্রতিষ্ঠানটি ক্রেতাদের কাছ থেকে ভুয়া ৬.৩ চালান ইস্যু করার মাধ্যমে যথারীতি ভ্যাট আদায় করছে।

“এরপর গোয়েন্দার দল রেস্টেুরেন্টের কম্পিউটার থেকে বিক্রয় তথ্য জব্দ করে,” বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

তদন্তে দেখা যায়, প্রতিটি খাবারের বিলে ‘মূসক নিবন্ধিত’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে এবং এতে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় করা হয়েছে। অথচ এই ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করেনি রেস্টুরেন্টটি। এমনকি ভ্যাট নিবন্ধনও করেনি বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

এতে আরও বলা হয়, “ক্রেতাদের নিকট বিলের মাধ্যমে কেন ভ্যাট আদায় করা হচ্ছে- এমন প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ।”

ভ্যাট আইন অনুসারে, যে কোনো ভ্যাটযোগ্য ব্যবসা শুরুর আগেই যথাযথভাবে ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহণ এবং নির্ধারিত ৬.৩ ফরমে ক্রেতাদের ভ্যাট চালান ইস্যু করতে হবে।

একই সঙ্গে পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে স্থানীয় ভ্যাট অফিসে রিটার্নের মাধ্যমে ক্রেতাদের নিকট থেকে সংগৃহীত ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।