পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

সমুদ্রের 'সুনীল সম্ভাবনা': সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-10-24 23:11:09 BdST

bdnews24

সমুদ্র অর্থনীতির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বিডার নেতৃত্বে একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ এসেছে এক আলোচনা সভা থেকে।

রোববার এফবিসিসিআই আয়োজিত 'ব্লু ইকোনমি: সম্ভাবনা ও করণীয়' শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এমন মতামত দেন।

সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা গেলে আগামী কয়েক বছরে এ খাত থেকে অতিরিক্ত ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় অর্জন করা সম্ভব।

মূল প্রবন্ধে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) খুরশেদ আলম বলেন, শুধু মাছ কিংবা খনিজ সম্পদ নয়, নিজেদের সীমানায় সাগরকে ব্যবহার করে পাল্টে দেওয়া যেতে পারে বাংলাদেশের পুরো অর্থনীতির চিত্র।

“সমুদ্র অর্থনীতিকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন, জাহাজ শিল্প, গভীর সাগরে মাছ ধরার উপযোগী জাহাজ নির্মাণ, কনটেইনার, ওষুধ, প্রসাধনীসহ নানা শিল্প বিকশিত হতে পারে।“

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার আয়তন মোট ৬৬৪ কিলোমিটার, কিন্তু মাছ আহরণ করা হয় মাত্র ৬০ কিলোমিটারের মধ্যে। এ পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, মাছের বৈশ্বিক উৎপাদনে বাংলাদেশের হিস্যা মাত্র ২.৬%। যেখানে চীন একাই বিশ্ববাসীকে ৬১ শতাংশ মাছের যোগান দিচ্ছে।

“একইভাবে সাগরের সীমানায় মালিকানা প্রতিষ্ঠা হলেও, এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে সমুদ্র বক্ষের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস। এ ব্যাপারে বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হলেও, তা আলোর মুখ দেখেনি। অথচ বাংলাদেশের সমুদ্র ব্লকের পাশেই মিয়ানমার আরও আগেই খনিজ সম্পদ উত্তোলন শুরু করেছে।"

তিনি জানান, বাংলাদেশের যে সমুদ্রসীমা আছে তা মূল ভূখন্ডের ৮১ ভাগের সমান। পুরো বিশ্বে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে দেড় লাখ জাহাজ চলাচল করে, সেখানে বাংলাদেশের জাহাজ মাত্র ৭০টি। অথচ এ পথে পণ্য পরিবহনের অর্থনীতির আকার ৯০০ কোটি ডলার।

এছাড়াও কনটেইনার নির্মাণেও বাংলাদেশের সম্ভাবনা রয়েছে। ৭৪ শতাংশ কনটেইনার ব্যবহার হয় এশিয়া অঞ্চলে। প্রতি বছর ১৫ শতাংশ হারে বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি হওয়ায় ভবিষ্যতে কনটেইনারের চাহিদা আরও বাড়বে।

বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি সমুদ্র বন্দর থাকলেও, তা মাদার ভেসেলের জন্য উপযোগী নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন অবস্থায় মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মিত হলে তা সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সহায়তা করবে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি সালমান এফ রহমান বাংলাদেশের এক সময়ের উদীয়মান খাত জাহাজ শিল্পের অগ্রগতি কেন ধীর হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে ও নীতি কৌশল ঠিক করতে এফবিসিসিআই ও বিডাকে এক সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দেন।

এছাড়া গভীর সমুদ্রের উপযোগী মাছ ধরার ট্রলার বা জাহাজ নির্মাণে দেশি-বিদেশি যৌথ মালিকানায় উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, সমুদ্র অর্থনীতিকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনার সঙ্গে এই সম্পদ সংরক্ষণের নীতিও গ্রহণ করতে হবে।

প্যানেল আলোচনায় সিপিডির গবেষণা পরিচালক ও এফবিসিসিআই এর প্যানেল উপদেষ্টা খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু এখনও কোনো পরিকল্পনা নেই। এ খাতের অভিভাবক কে তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় যার যার মতো কাজ না করে, বিডা নিজে তত্ত্বাবধান করলে, দ্রুত সুফল পাওয়া যেতে পারে।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, আগামী ২৮-২৯ নভেম্বরে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে ব্লু ইকোনমি নিয়ে আলাদা আলোচনা করা হবে।

এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থান তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে সমুদ্র অর্থনীতি।

কর্মশালায় আলোচিত বিষয়গুলোর সমন্বয়ে এ খাতের কর্মকৌশল নির্ধারণে সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেবে এফবিসিসিআই বলে জানান তিনি।