পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

শতভাগ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এ বছরই: তথ্যমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-11-10 22:19:11 BdST

bdnews24

চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই দেশের শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেছেন, সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে ৪০ শতাংশে নিতে চায়।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গ্লাসগোতে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের (কপ২৬) বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে বিদ্যুৎ বিভাগ আয়োজিত ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দিচ্ছিলেন তথ্যমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ‘বিস্ময়কর’ উন্নয়ন হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের দায়িত্বের শুরুতে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট। গত ১২ বছরে তা বেড়ে ২৪ হাজার মেগাওয়াট হয়েছে।

“এর ফলে দেশের উন্নয়ন, মানুষের মাথাপিছু আয় ও গড় আয়ু বেড়েছে, জীবনমানের উন্নতি হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সুবিধা পাওয়ায় মানুষের আয়ও বেড়েছে।”

বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির ভূমিকার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এখন মাথাপিছু জিডিপি ২ হাজার ২৫০ ডলার।

“করোনাকালে জিডিপিসহ দেশের মানুষের জীবনরক্ষা ও  জীবিকার চাকা সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজই মূলত অর্থনীতির সকল সূচকে পাশ্ববর্তী দেশ ভারত ও পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকায় এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।” 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিদের উদ্দেশে হাছান মাহমুদ বলেন, “দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি তথা সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্য পূরণে উন্নয়ন সহযোগীরা আধুনিক প্রযুক্তি ও অর্থ সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এলে বাংলাদেশ উপকৃত হবে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ দেশের শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসছে।”

দেশের সিটি কর্পোরেশনগুলোর ময়লা আবর্জনাকে নবায়নযোগ্য জ্বালানীতে পরিণত করার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষকে সম্পৃক্ত করে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো  গেলে একদিকে পরিবেশ রক্ষা পাবে অন্যদিকে অর্থনৈতিকভাবে দেশ লাভবান হবে বলে মন্তব্য করে হাছান মাহমুদ।

“পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, জলবায়ু অভিযোজনে প্রযুক্তিগত এবং আর্থিক সহায়তা বিকল্প নেই। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর অব্যাহত কার্বন নিঃসরণের কারণে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার। অথচ এজন্য আমরা মোটেও দায়ী নই, দায়ী উন্নত বিশ্ব।”

বিদ্যুৎ সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। পিকেএসএফর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে রাব্বি সাদিক, ইডকলের জ্বালানি বিষয়ক প্রকৌশলী এনামুল কবীর পাভেলসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।