পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

জলবায়ু সঙ্কটে অতি উচ্চ মাত্রার ঝুঁকিতে বাংলাদেশের শিশুরা: ইউনিসেফ

  • নিউজ ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-08-20 15:02:19 BdST

bdnews24
ছবি: ইউনিসেফ

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার চার দেশের শিশুরা জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে ‘অতি উচ্চ মাত্রার’ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে উঠে এসেছে ইউনিসেফের নতুন এক প্রতিবেদনে।

শুক্রবার প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর মধ্যে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের শিশু ও তরুণদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সুরক্ষা হুমকির মুখে।

‘জলবায়ু সঙ্কট কার্যত শিশু অধিকারের সঙ্কট’ শীর্ষ এ প্রতিবেদনে প্রথমবারের মত শিশুদের জলবায়ু ঝুঁকি সূচক (সিসিআরআই) প্রবর্তন করেছে ইউনিসেফ।

এই সূচকে ‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত ৩৩টি দেশে বসবাস করে প্রায় ১০০ কোটি শিশু।

ঘূর্ণিঝড় ও তাপপ্রবাহের মত জলবায়ু ও পরিবেশগত আঘাতের মুখোমুখি হওয়া এবং অপরিহার্য পরিষেবার সুযোগের ভিত্তিতে শিশুরা এ ধরনের দুর্যোগের ক্ষেত্রে শিশুরা কতটা ঝুঁকিতে রয়েছে তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

জলবায়ু ও পরিবেশগত অবস্থা এবং তাতে শিশুদের ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে শূন্য থেকে ১০ ভিত্তিক স্কেলে ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবং ওই দুই নির্ণায়ক মিলিয়েই তৈরি হয়েছে শিশুদের জলবায়ু ঝুঁকি সূচক।

এই সূচকে যে দেশের পয়েন্ট যত বেশি, সেই দেশের শিশুরা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তত বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে ধরে নিতে হবে।

 

তালিকায় পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও ভারত– দক্ষিণ এশিয়ার এই চার দেশকে জলবায়ু সঙ্কটে শিশুদের জন্য ‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি’তে আছে। সূচকের ১৬৩ দেশের মধ্যে ঝুঁকির দিক দিয়ে পাকিস্তান আছে ১৪ নম্বরে। আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চদশ; আর ভারত ২৬ নম্বরে।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে নেপাল ৫১ এবং শ্রীলঙ্কা ৬১তম অবস্থানে রয়েছে ঝুঁকির বিচারে। আর ভুটান রয়েছে ১১১তম অবস্থানে, যেখানে শিশুরা কিছুটা কম ঝুঁকিতে।

ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ১৮০ কোটি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকের বয়স ২৪ বছরের নিচে জানিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় ইউনিসেফের আঞ্চলিক পরিচালক জর্জ লারিয়া-আদজেই বলেন, “প্রথমবারের মত দক্ষিণ এশিয়ার শিশুদের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের স্পষ্ট প্রমাণ আমরা পেয়েছি।

“এই অঞ্চলে খরা, বন্যা, বায়ু দূষণ ও নদী ভাঙনের কারণে লাখ লাখ শিশু গৃহহীন ও ক্ষুধার্ত এবং কোনো স্বাস্থ্যসেবা ও পানিবিহীন অবস্থায় রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও কোভিড-১৯ মহামারী একসঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার শিশুদের জন্য একটি উদ্বেগজনক সঙ্কট তৈরি করেছে।”

ইউনিসেফে এই প্রতিবেদন বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার শিশুরা বন্যা ও বায়ু দূষণের কারণে বিপদের মধ্যে রয়েছে। একটি বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার আগেই তারা আরেকটি বিপর্যয়ের শিকার হচ্ছে, যা অর্জিত সব অগ্রগতিকে উল্টে দিচ্ছে।

বাংলাদেশসহ ‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত ৩৩টি দেশ বিশ্বজুড়ে নিঃসরিত কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্র ৯ শতাংশের ভাগীদার। অন্যদিকে, মাত্র ১০টি দেশ বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের ৭০ শতাংশের জন্য দায়ী।

শিশু স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও শিক্ষার পেছনে আরও বেশি বিনিয়োগ করা হলে তা জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শিশুদের সুরক্ষায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে বলে সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

জলবায়ু পরিবর্তনের এই সংকট থেকে সুরক্ষা দিতে শিশুদের জন্য মূল পরিষেবাগুলোতে জলবায়ু অভিযোজন এবং স্থিতিস্থাপকতার পেছনে বিনিয়োগ বাড়ানো; গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো; শিশুদের জলবায়ু বিষয়ক শিক্ষা এবং পরিবেশবান্ধব দক্ষতা শেখানো; কপ২৬-সহ সব জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনা এবং সিদ্ধান্তে তরুণদের অন্তর্ভুক্ত করা; এবং কোভিড-১৯ মহামারী কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়া যাতে পরিবেশবান্ধব, স্বল্প-কার্বন নির্ভর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয় তা নিশ্চিত করতে সরকার, ব্যবসা খাত ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ।