১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

টালিগঞ্জ ২০১৫: আলোচিত ১০ সিনেমা

  • গ্লিটজ ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2016-01-03 15:50:39 BdST

bdnews24

টালিগঞ্জে ২০১৫ সালটা ছিল অপ্রত্যাশিত সাফল্য আর প্রত্যাশা না মেটানোর গল্পের। তবে দূর্গা পূজার সময় একসঙ্গে পাঁচ সিনেমার মুক্তিতে বাজার চাঙা হয়ে ওঠায় পরপর বেশ কয়েকটি হিটের দেখা পাওয়া গেছে। দেখে নেয়া যাক বছরজুড়ে কোন সিনেমাগুলো আলোচনায় ছিল।

১০. হর হর ব্যোমকেশ

পরিচালক অরিন্দম শীল বছরের শেষটা করলেন চমৎকারভাবেই। ‘হর হর ব্যোমকেশ’কে বলা হচ্ছে এ যাবৎকালের সেরা ব্যোমকেশ চলচ্চিত্র। অঞ্জন দত্তের ব্যোমকেশও ভুলিয়ে দিয়েছে সিনেমাটি। যীশু সেনগুপ্তকে নিয়ে অঞ্জনের ‘ব্যোমকেশ বক্সী’ মুক্তি পাওয়ার পরপরই আবীরকে ব্যোমকেশ রূপে ফিরিয়ে আনার সিনেমাটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত মনে হলেও মুক্তির পর সব হিসাব বদলে যায়।

নতুন ব্যোমকেশ রূপে আবীর যেমন, তেমনি তার সত্যবতী সোহিনী সরকার, আবার অজিতের চরিত্রে ঋত্বিক চক্রবর্তীর অভিনয়ও আশা জাগানিয়া। সংগীত, সংলাপ, গল্প, লোকেশন, সব মিলিয়ে দারুণ এক ছবি উপহার দিয়েছেন অরিন্দম।

ফলাফল এবারের বড়দিনের সবচেয়ে হিট সিনেমা হিসেবে এখনও বক্স অফিসে অবস্থান ধরে রেখেছে। সিনেমাটির সংগীত পরিচালনা করেছেন বিক্রম ঘোষ। মুক্তি পায় ডিসেম্বর ১৮, ২০১৫।

৯. কাটমুন্ডু

তারকাবহুল এক হাসির সিনেমা, যার পরিচালক রাজ চক্রবর্তী - দর্শকের প্রত্যাশা অনুযায়ী মান রাখতে পেরেছে ‘কাটমুন্ডু’। তবে দোষ তার, না আর পাঁচটা পূজার সিনেমার?

সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন সোহম চক্রবর্তী, আবীর চট্টোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, মিমি চক্রবর্তী, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়।

পরিচালক রাজ চক্রবর্তী নিখাঁদ বাণিজ্যিক সিনেমা উপহার দিয়ে বিনোদনের খোরাক যুগিয়ে এসেছেন বরাবরই। দর্শক-প্রযোজকরা তার ওপর আস্থা রাখতে পারেন। কাজেই হিট সিনেমার তালিকায় ঠাঁই করে নিয়েছে 'কাটমুন্ডু'।

সিনেমাটির সংগীত পরিচালনা করেছেন অনুপম রায়। মুক্তি পায় জানুয়ারি ১৬, ২০১৫।

৮. আসা যাওয়ার মাঝে

জৌলুসে ভরা সেট নাই, গান নাই, নাচ নাই, আছে শুধু ‘আসা যাওয়ার মাঝে’ ক্ষণকালীন সাংসারিক কথোপকথন। এক নিম্নবিত্ত দম্পতির দাম্পত্য জীবনের প্রতিদিনের মুহূর্তগুলো - যেখানে প্রেম নাই, স্পর্শ নাই, কাম নাই আছে শুধু অনুভব। কিন্তু এই গল্পই দেখেছে কলকাতার বাঙালি। আরো দেখেছেন ৪২টি আর্ন্তজাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা।

আনকোড়া পরিচালক আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্ত নিম্নবিত্ত সংসারের দৈনন্দিন জীবনের খুঁটিনাটি বিষয়, একান্ত বাঙালি দৃশ্যপট দিয়ে মাত করেছেন ঠিকই। আর ঋত্বিকচক্রবর্তী ও বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয়ে এই বাঙালি গল্পই সার্বজনীন হয়ে দাড়িয়েছে। 

সিনেমাটি মাল্টিপ্লেক্সে এবং নন্দনে মুক্তি পেয়েছিল। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে প্রদর্শনী অব্যাহত ছিল দু মাস। এরমধ্যে কয়েকদিন হাউজফুল হয়েছে।

সিনেমাটি এবং পরিচালক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। ৭১তম ভেনিস ইন্টারন্যাশানাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালেসহ আরো দশটি পুরস্কার জিতেছে তার আগেই।

সংগীত পরিচালক অলোকানন্দা দাস গুপ্ত। মুক্তি পায় সেপ্টেম্বর ২, ২০১৫।

৭. এবার শবর

অভিনেতা হিসেবে পরিচিত অরিন্দম শীল বছরের শুরুতেই কাঁপন তোলেন ফেলুদা-ব্যোমকেশের ভরা বাজারে শবর দাসগুপ্তকে পর্দায় এনে। শীর্ষেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোয়েন্দা কাহিনি নির্ভর ‘এবার শবর’ বেশ চমকানোর মতোই সিনেমা। সঙ্গে আর দশটা নায়কের জায়গায় চরিত্রাভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় হয়েছেন লালবাজারের টিকটিকি।

কথোপকথনভিত্তিক থ্রিলার কাহিনির সিনেমাটি এ বছর প্রথম শতদিন প্রেক্ষাগৃহে চলার রের্কড করে।

সংগীত পরিচালনা করেছেন বিক্রম ঘোষ। মুক্তি পায় জানুয়ারি ২, ২০১৫।

৬. ওপেনটি বায়োস্কোপ

ছোটবেলার গল্প বলেছেন সংগীতশিল্পী অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়। তবে এবার তার মাধ্যম রূপালি পর্দা। ‘ওপেনটি বায়োস্কোপ’ -এ 'চন্দ্রবিন্দু'র অনিন্দ্য দেখিয়েছেন পাড়ার ফুটবল ম্যাচ, প্রথম প্রেমে পড়া সর্বোপরি কলকাতার সৌন্দর্য।

অভিনয় করেছেন একদল আনকোড়া কিশোর-কিশোরী - ঋদ্ধি, ঋতব্রত, ধী, রাজর্ষি, সুরঙ্গনা। অবশ্য বড়দেরও ভূমিকা কম কিছু ছিল না। ফলে দর্শক যেমন মজা পেয়েছেন, তেমনি সমালোচকরাও হয়েছেন পুলকিত। 

সংগীত পরিচালনা করেছেন পরিচালকের ব্যান্ড 'চন্দ্রবিন্দু'র সাথী উপল সেনগুপ্ত। মুক্তি পায় জানুয়ারি ১৬, ২০১৫।

৫. নির্বাসিত

বাংলাদেশি লেখক তসলিমা নাসরিনের জীবনের ছায়াবলম্বনে নির্মিত হয়েছে ‘নির্বাসিত’। কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন পরিচালক চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় স্বয়ং।

সিনেমাটিকে ‘একজন নারী নির্মাতার পক্ষে সাহসী পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেন বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাসিত লেখক তাসলিমা।

চূর্ণির অভিনয় ও পরিচালনা সমালোচক মহলে ব্যপক প্রশংসিত হয়। তবে বক্স-অফিসে এর কোনো প্রভাব পড়েনি।

বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা নির্বাচিত সিনেমাটি ২০১৫ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে নেয়। ভারতের পক্ষ থেকে অস্কার আসরে বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে মনোনয়ন পাওয়ার লড়াইয়েও অংশ নেয় সিনেমাটি।

সিনেমাটির সংগীত পরিচালনা করেছেন রাজা নারায়ন দেব। আর্ন্তজাতিকভাবে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি পেলেও কলকাতায় এটি মুক্তি পায় ২০১৫ সালের অগাস্টে।

৪. শুধু তোমারই জন্য

চার তারকার সিনেমা ‘শুধু তোমরাই জন্য’ পূজার সময়টাকে মাতিয়ে রেখেছিল। বিশেষ করে কলকাতার বাইরে ভীষণ সমাদৃত হয় সিনেমাটি। ফলে দেব যে সুপারস্টার তা আরো একবার প্রমাণিত হয়। আর শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় কিংবা সোহম চক্রবর্তী, মিমি চক্রবর্তীরাও যে কিছুটা হলেও আস্থা অর্জন করেছেন তাও বলতেই হয়।

বিরসা দাসগুপ্ত পরিচালিত নাচ-গান আর নাটকীয়তায় পরিপূর্ণ এই সিনেমাটিকে বেশ লড়তে হয়েছে পূজার আরো দুই বড় বাজেটের সিনেমার সঙ্গে। তারপরও অবস্থানটা খুব বেশি নিচে নামানো যায়নি।

সিনেমার সংগীত পরিচালনা করেছেন অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়। মুক্তি পায় পায় অক্টোবর ১৬, ২০১৫।

৩. ব্যোমকেশ বক্সী

বলা হচ্ছে অঞ্জন দত্তের ‘ব্যোমকেশ বক্সী’ ফ্র্যাঞ্চাইজিকে বদলে দিয়েছেন দুজন ব্যাক্তি। একজন হলেন অঞ্জন দত্ত স্বয়ং, অন্যজন যিশু সেনগুপ্ত। বিশেষত যিশু সেনগুপ্ত চমকে দিয়েছেন সবাইকে। দীর্ঘদিন পর কেন্দ্রীয় চরিত্র, তাও আবার পর্দায় ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠা পাওয়া গোয়েন্দা ব্যোমকেশ - যীশু কেবল উৎরেই জাননি, নতুন করে ভাবার অবকাশ করে দিয়েছেন দর্শককে।

গোয়েন্দাপ্রেমী বাঙালি পূজার ছুটিতে চুটিয়ে দেখেছেন সিনেমাটি। বক্স-অফিসে ঝনঝনানি এখনও চলছে।   

অঞ্জন দত্ত এবার কাহিনি বলার ধরনও পাল্টেছেন। সঙ্গে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, ঊষশী চক্রবর্তীরা আস্থা রাখার মতো সঙ্গ দিয়ে গেলেন এবারও।

সিনেমাটির সংগীত পরিচালনা করেছেন নীল দত্ত। মুক্তি পায় অক্টোবর ১৬, ২০১৫।

২. বেলাশেষে

নন্দিতা রায়-শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জুটি মানেই চেনা বিষয়ের নতুন রূপে প্রত্যাবর্তন। তবে ‘বেলাশেষে’ যে ইতিহাস তৈরি করবে, তা হয়তো কেউই ধারণা করে উঠতে পারেনি। ২০০ দিন টানা প্রর্দশনীর রেকর্ড ইতোমধ্যেই গড়ে ফেলেছে সিনেমাটি।

মূলত গল্প আর অভিনয়কে মূলধন করেই এতো কাণ্ড ঘটালেন পরিচালক জুটি। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়-স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত জুটিকে ৩০ বছর পর পর্দায় ফিরিয়েছেন তারা। তাদের মার্জিত অভিনয় এবং সঙ্গে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, খরাজ মুখোপাধ্যায়, অপরাজিতা আঢ্যদের অভিনয় ‘বেলাশেষে’কে এখনও হাউজফুল করে রেখেছে। 

বাঙালি দর্শকের মনের মতো একটি সিনেমা হলেও, এর প্রভাব বাংলার বাইরেও পড়েছে। অমিতাভ বচ্চন পর্যন্ত ছবি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। সিনেমাটি বাংলাদেশের দর্শকরাও অচিরেই দেখার সুযোগ পাবেন।

সিনেমার সংগীত পরিচালনা করেছেন অনুপম রায় ও অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়। সিনেমাটি মুক্তি পায় মে ১, ২০১৫।

১. রাজকাহিনী

রাজকাহিনী’তে দেশভাগের প্রেক্ষাপটে নিজের মতো কাহিনি বুনেছিলেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, জয়া আহসান, পার্ণো মিত্র, প্রিয়াঙ্কা সরকার, সোহিনী সরকার, সায়নী ঘোষ, ঋধিমা ঘোষ, দিতিপ্রিয়া রায়, এনা সাহা, কৌশিক সেন, আবীর চট্টোপাধ্যায়, যীশু সেনগুপ্ত, নাইজেল আকারা, কাঞ্চন মল্লিক, রুদ্রনীল ঘোষ, রজতাভ দত্ত, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী প্রমুখ।

সংগীত পরিচালনা করেছেন ইন্দ্রদীপ দাসগুপ্ত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ গাইয়েছেন একাধিক তারকা শিল্পীকে দিয়ে।

গল্পের প্রয়োজনে পরিচালক একাধিক চরিত্রের সংযোজন ঘটিয়েছেন। আর বিশাল পরিসরের সিনেমাটি দেখতে পূজার সময় প্রেক্ষাগৃহে ভিড় জমেছিলো বেশ। মাল্টিপ্লেক্সে যেমন, এক পর্দার প্রেক্ষাগৃহেও হাউজফুল হয়েছে সিনেমাটি। এখন পর্যন্ত আটটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে।

সিনেমাটি মুক্তি পায় অক্টোবর ১৬, ২০১৫। সিনেমাটির বাংলাদেশেও মুক্তির কথা আছে। আবার হিন্দিতেও রিমেইক হতে পারে।

এছাড়াও ‘লড়াই’, ‘অমানুষ টু’, ‘বেশ করেছি প্রেম করেছি’, ‘বরবাদ’, ‘পারবো না আমি ছাড়তে তোকে’, ‘খাদ’, ‘ছোটদের ছবি’ ‘কাদম্বরী’, ‘শেষের কবিতা’, ‘ফ্যামিলি অ্যালবাম’, ‘নাটকের মতো’, ‘তিনকাহন’, ‘অ্যাবি সেন’, ‘আরশিনগর’ সিনেমাগুলোও আলোচনায় ছিল।