১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৫ ফাল্গুন ১৪২৫

চলচ্চিত্রে নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়

  • গ্লিটজ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-01-13 19:13:21 BdST

bdnews24

চলচ্চিত্র অঙ্গনে নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে শেষ হলো দু’দিনব্যাপী পঞ্চম আন্তর্জাতিক নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা সম্মেলন।

প্রতিবারের মতো এবারও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভালের আয়োজনের অংশ হিসেবে রাজধানীর আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ সাংস্কৃতি কেন্দ্রের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো ‘পঞ্চম আন্তর্জাতিক উইমেন ফিল্ম মেকারস্ কনফারেন্স’।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণে গত ১১ ও ১২ জানুয়ারি সকাল ৯টা থেকে দিনব্যাপী কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এতে বর্তমান বিশ্বে নারী নির্মাতা-কলাকুশলীদের অবস্থা ও কর্মতৎপরতা নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপনের পাশাপাশি তাদের কাজ করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাসমূহ এবং উত্তোরণের উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন বক্তারা।

শনিবার চলচ্চিত্র শিক্ষক, নির্মাতা ও প্রযোজক সিডনি লেভিন সমাপণী ঘোষনায় বলেন, “নারীদের সামনে আনতে হলে সাম্যতার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। সাম্যকে প্রতিষ্ঠা করতে হলে নারী-পুরুষ সবারই সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা দরকার, এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য সেটাই। আমরা আগামী সম্মেলন আরও বেশি অংশগ্রহণমূলক ও মিথষ্ক্রিয়াপূর্ণ করতে হবে। এই অংশগ্রহণ শুধু নারীর নয়, পুরুষ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের, সেক্ষেত্রে তরুণ নির্মাতাদের অংশগ্রহণে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।”

সিনেমা নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের একসাথে করতেই এই নারী সম্মেলনের আয়োজন। অভিনেতা, নির্মাতা, প্রযোজক ও অ্যাকাডেমিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন এই সম্মেলনে। নিজস্ব গবেষণা উপস্থাপন, ও তথ্য এবং ব্যাক্তি অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে কমন একটি প্লাটফর্ম তৈরি করাই এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য।

সম্মেলনের সমন্বয়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি অধ্যাপক ইশরাত খান বর্ষা বলেন, “আসলে সব দেশেই বৈষম্য, সমস্যা বা বাধা মোটামুটি একই। শুধু মাত্রা ও পরিমানটা ভিন্ন। আমরা যখনই নির্মাতা বা পারফর্মিং আর্ট নিয়ে কথা বলি তখনই আমরা নারীদের রিপ্রেজেন্টেশনটা দেখি, কারণ নারীদের পারফর্মার হিসেবে দেখার প্রবণতা আছে।

কিন্তু ব্যাকস্ক্রিন বা অফস্ক্রিনে যারা কাজ করছেন তাদেরকে কতটুকু আমরা সামনে দেখি? চলচ্চিত্রে আমরা নারীদের পারফর্মার হিসেবে দেখতে চাই বেশি। আমাদের এই সেলিব্রিটি কালচারটা সেলিব্রিশনের প্রকৃত কালচার নয়। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে নতুন ভাবনার জায়গা তৈরি করতে এই ধরনের আয়োজন।”

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, “যারা নারী প্রযোজক, নির্মাতা ও পরিচালক আছেন তাদের সামনে আনা দরকার। তারা অনেক চ্যালেঞ্জের শিকার হন। এখানে সুযোগের বিষয় আছে, সময়ের বিষয় আছে। একজন নারী নির্মাতাকে যতগুলো মানুষকে মুখোমুখি হতে হয়, সংসারসহ ঘরে-বাইরের সব দায়িত্ব ঠিক রেখে কাজ করতে হয়; এই বিষয়গুলো এই সম্মেলনের মাধ্যমে উঠে আসছে। যে নারী নির্মাতারা এতদিন প্রান্তিক ও আলোচনার বাইরে ছিলেন তাদের কথা উঠে আসছে। তাদের জন্য একটা প্লাটফর্ম তৈরি করে দেওয়া, যেখানে বাধা, অভিজ্ঞতা ও মতবিনিময় হবে এবং নিজেদের অধিকারের কথা তুলে ধরবেন নারীরা।”

তারা জানান, এই সম্মেলনের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংযোগ স্থাপিত হচ্ছে, সমন্বয় করে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এছাড়াও, নির্মাতারা জানতে পারছেন যে, আরও অন্যান্য দেশে এই সম্মেলনটা হচ্ছে, এর মাধ্যমে তারাও সুযোগ পাচ্ছেন, তাদের মাধ্যমে এই সম্মেলনের খবর ছড়িয়ে পড়বে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।