বাউল গানে স্কটিশ শিল্পীর ‘নিজেকে খুঁজে ফেরা’

  • জয়ন্ত সাহা ও সাইমুম সাদ, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-03-21 15:36:17 BdST

বাউল গানের কথা আর সুরের মায়াজালে নিজেকে খুঁজে ফিরছেন স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় জন্ম নেওয়া ক্ল্যাসিকাল গিটার-বাদক সাইমন থ্যাকার। বাংলা ভাষা না জানলেও হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছেন বাউল গানের দর্শন; এ গানকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় জানালেন তিনি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে ই-মেইল মারফত দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাউল গান নিয়ে তার ভাবনা, পরিকল্পনার কথা জানালেন এ শিল্পী।

অন্তর্জালের কল্যাণে বাউল গানের সঙ্গে যোগসূত্র ঘটে সাইমনের। ইউটিউবে খুঁজে খুঁজে একের পর এক বাউল গানে ‍ডুবে থাকেন তিনি। এ গানে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার রসদ আবিস্কার করে নেমে পড়লেন গানের সুলুকসন্ধানে। অন্তর্জালেই পরিচয় হয় লালনের স্মৃতি বিজড়িত কুষ্টিয়ার বাউলশিল্পী ফরিদা ইয়াসমীনের সঙ্গে; ফরিদার হাত ধরে সাইমনের জানার জগত আরও বিস্তৃত হতে থাকে।

লালনের গানের টানে কাঁধে গিটার ঝুলিয়ে সাত সাগর তের নদী পেরিয়ে কুষ্টিয়ায় হাজির হলেন তিনি। কুষ্টিয়া হয়ে ভারতের শান্তিনিকেতনে রাজু দাস নামে আরেক বাউল শিল্পীর সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় তার। সাইমন-ফরিদা-রাজু-এ ত্রয়ীর সংগীত-সম্পর্কে দূতিয়ালি করে সেই বাউল গান। তিনজন মিলে একযোগে গানও করেছেন। তাদের কেউ শুধু ইংরেজি জানেন কিন্তু বাংলা জানেন না আবার কেউ বাংলা জানলেও ইংরেজি জানেন না। ফলে তাদের যোগাযোগকে ‘টেলিপ্যাথিক’ বলেলেন সাইমন।

তিনি বলেন, “দলের কেউ একই ভাষায় কথা বলি না। কিন্তু গানের মাধ্যমে একে অপরকে বুঝতে পারি। লালনের গানের মহাত্ম বোঝার জন্য আপনাকে বাংলা না জানলেও চলবে। লালনগীতি আপনার ভেতরে একটা অনুভূতি জাগাবে।”

বাউল গানের মাঝেই নিজেকে খুঁজে ফেরার কথা জানিয়ে এ স্কটিশ শিল্পী বলেন, “বাউল গানের পরিশুদ্ধ দ্যোতনা আছে। এটি একদম হৃদয় থেকে আসে; কৃত্রিম নয়। বাউল শিল্পীরা গানের মধ্যেই বাঁচে।  আমার সংগীত, জীবন দর্শন অনেকটা বাউলদের মতো। আমি অনুভব করেছি, আমি বাউল গানের মতোই কিছু খুঁজছিলাম দুনিয়ায়।”

ভারতীয় উপমহাদেশের সংগীতচর্চায় বছর নয়েক আগে ‘স্বরা কান্তি’ নামে একটি গানের দল গঠন করেন সাইমন। কণ্ঠে বাউল গান নিয়ে সেই দলে যোগ দেন রাজু দাস ও ফরিদা ইয়াসমীন।

২০১৬ সালে আয়োজিত ঢাকা ফোক ফেস্টে মঞ্চ মাতিয়েছিলেন তিনজন।

‘স্বরা কান্তি’র ব্যানারে সম্প্রতি ‘ত্রিকালা’ নামে একটি অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছে। এতে সাইমনের গিটারের ছন্দে গান বেঁধেছেন রাজু দাস ও ফরিদা ইয়াসমীন। তবলায় তাদের সঙ্গ দিয়েছেন ভারতের তবলাবাদক সুনয়না ঘোষ।

‘হেলায় হেলায় দিন চলে যায়’, ‘কেন ডুবলি না মন’, ‘ধন্য ধন্য বলি তারে’, ‘পাখি কখন জানি উড়ে যায়’, ‘দিল দরিয়ার মাঝে দেখলাম আজব কারখানা’সহ বেশ গান ভিন্ন আমেজে উঠে এসেছে অ্যালবামে। সঙ্গে শাহ আবদুল করিম ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরেরও কয়েকটি গানও রয়েছে।

“প্রচলিত অর্থে ফিউশন নয় একদম ভিন্নধারায় গানগুলো তুলে এনেছি আমরা। এটাই পৃথিবীতে প্রথম। এভাবে বাউল গান আগে পরিবেশন করা হয়নি।”

বিভিন্ন ভাষাভাষী শ্রোতাদের কথা মাথায় রেখে অ্যালবামের সিডির সঙ্গে বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ সম্বলিত ৪০ পৃষ্ঠার বুকলেট দেওয়া হয়েছে।

সাইমন বলেন, “এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছে বাউল গান পৌঁছাবে। অ্যালবামের গানগুলো ইতোমধ্যে ৫০টিরও বেশি দেশের বেতারে প্রচার হয়েছে। সাড়াও পাচ্ছি দারুণ।

“আমি বাউল গানের আরও গভীরে যেতে চাই। আরো অনেক গান রেকর্ড করতে চাই। এই গানগুলো নিয়ে বিশ্বভ্রমণে যেতে চাই।”