নাম খুঁজছেন মিথিলা

  • গ্লিটজ প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-11-06 21:05:59 BdST

ঘটনাটি ঘটে সোমবার রাতে। স্ফুলিঙ্গের মত ছড়িয়ে যায় অন্তর্জালে। অভিনয় শিল্পী এবং উন্নয়নকর্মী রাফিয়াথ রশীদ মিথিলা ও পরিচালক ইফতেখার আহমেদ ফাহমির অন্তরঙ্গ কিছু ছবি এবং ভিডিও। এরপরেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা।

সেই প্রেক্ষিতে মিথিলার সঙ্গে গ্লিটজ যোগাযোগ করলে তিনি জানান, “এখনও কেইস ফাইল করা হয়নি। সাইবার ক্রাইম সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় অপরাধীদের উৎস ও নাম খোঁজা হচ্ছে। পেলেই কেইস করা হবে।”

মিথিলা জানান, “এই তালিকায় কিছু নিউজ পোর্টালও আছে, যাদের বিরুদ্ধে কেইস করার প্রক্রিয়া চলবে।”

ফোন থেকে নাকী ফেইসবুক মেসেঞ্জার থেকে এইসব ছবি বা তথ্য পাচার হয়েছে- এই প্রশ্নে মিথিলা বলেন, “ফাহমির ফেসবুক হ্যাকড হওয়ার কারণে মেসেঞ্জার থেকেই এই তথ্য  চুরি করেছেন অপরাধীরা।”

মিথিলা এবং ফাহমির ওই ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর প্রায় ২৪ ঘণ্টা তাদের দুজনের কারও কাছ থেকে বক্তব্য পাওয়া না গেলেও পরদিন রাতে, গ্লিটজের সঙ্গে কথা বলার আগে মিথিলা নিজের ফেইসবুক একাউন্টে একটি পোস্ট দেন।

যেখানে তিনি বলেছেন, ২০১৭-২০১৮ সালের দিকে এই পরিচালকের সঙ্গে তার ‘প্রণয়ের সম্পর্ক’ গড়ে উঠে। তখনই এই ছবি বা ভিডিও করা হয়।

তিনি এটাও স্বীকার করেছেন, ব্যক্তিগত নথি নিজে সংরক্ষণ না করতে পারাও তার ব্যর্থতা।

তবে তখনই মিথিলা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাদের প্রতি, যারা ব্যক্তিগত এই ছবি বা ভিডিওকে সামনে এনেছেন। কোনো কোনো সাংবাদিককেও তিনি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন।

মিথিলা বলেছেন, তিনি অচিরেই তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা করতে যাচ্ছেন এবং ইতোমধ্যে আবেদনও করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। সেই প্রেক্ষিতেই গ্লিটজকে নিজের মন্তব্য জানালেন তিনি।

উল্লেখ্য, এই ছবি এবং ভিডিও ঠিক কোন উৎস থেকে ছড়িয়েছে, সেটা এখনও জানা যায়নি। তবে মোট ১৮টি ছবি ছড়িয়ে পড়ার তথ্য এসেছে।

এর আগে সাম্প্রতিক এক ফেইসবুক পোস্টে ফাহমি জানান, তার সামাজিক মাধ্যমের প্রোফাইলটি হ্যাকড হয়েছে।

সেই হ্যাকিংয়ের সঙ্গে এর যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আবেদন করেছেন অসংখ্য গণমাধ্যমকর্মী।

মিথিলার অভিযোগের আবেদন

মিথিলার অভিযোগের আবেদন

সামাজিক মাধ্যমে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ফাঁস নিয়ে পোস্ট দিলেও তাৎক্ষণিকভাবে মিথিলাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। ফাহমি বিষয়টি নিয়ে নিশ্চুপ আছেন এখনও।

সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা একজন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, হ্যাক করা ছাড়াও মেসেঞ্জার থেকে ছবি চুরি করা সম্ভব।

তিনি বলেন, “ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাসওয়ার্ড কোনো প্রতিরক্ষার কাজ করতে পারে না। কোড এবং সফটওয়ার দিয়ে যে কোনো ব্যক্তির প্রোফাইল বা ডাটা হ্যাক করা যায়।”

মিথিলাও তার নিজের পোস্টে এই কথা উল্লেখ করে নিজের সচেতন হওয়ার বিষয়টি বারবার তুলে ধরেছে।

কিন্তু পাশাপাশি হতাশা প্রকাশ করেন তাদের নিয়ে, যারা কটূ কথা বলে তার চারপাশ ‘বিষিয়ে’ দিচ্ছেন।

মিথিলা মিডিয়ার পরিচিত নাম হওয়ার পাশাপাশি একটি এনজিওর কর্মকর্তা। অন্যদিকে ফাহমি সম্প্রতি আলোচনায় আসেন একটি রিয়েলিটি শো’র বিচারক হয়ে, সেখানে তার উপস্থিতি সমালোচিত হয়।

যে সময়টিতে ফাহমি এবং মিথিলার ‘প্রণয়’ চলছিল, ততদিনে সঙ্গীতশিল্পী এবং অভিনেতা তাহসান খানের সঙ্গে মিথিলার বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, ‘ছবি বিকৃতি বা অসৎ উদ্দেশ্যে ইচ্ছেকৃতভাবে বা অজ্ঞাতসারে কারো ব্যক্তিগত ছবি তোলা, প্রকাশ করা বা বিকৃত করা বা ধারণ করার মতো অপরাধ করলে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। ইন্টারনেটে পর্নগ্রাফি ও শিশু পর্নগ্রাফির অপরাধে সাত বছর কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।’

এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিচার হবে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে। অভিযোগ গঠনের ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি করতে হবে। তবে এর মধ্যে করা সম্ভব না হলে সর্বোচ্চ ৯০ কার্যদিবস পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।