অস্ত্রোপচার জরুরি, তবুও জার্মানি গেলেন না সুমন

  • গ্লিটজ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-03-22 19:19:59 BdST

জরুরি অস্ত্রোপচার করাতে জার্মানি যাওয়ার কথা থাকলেও বৈশ্বিক মহামারীতে রূপ নেওয়া করোনাভাইরাসের কারণে যেতে পারলেন না অর্থহীন ব্যান্ডের গায়ক সাইদুস সালেহীন খালেদ সুমন।

দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাওয়া এ গায়ক বর্তমানে স্পাইনাল কর্ডের জটিলতায় ভুগছেন। ১৮ মার্চ জার্মানির এক হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচারের কথা ছিল; সে অনুযায়ী সবকিছু গুছিয়ে নিলেও করোনার কারণে যেতে পারলেন না তিনি।

এক ফেইসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, “জার্মানির অবস্থা ভাল না। ইন ফ্যাক্ট গোটা পৃথিবীর অবস্থাই খারাপ। আমার শরীরের অবস্থাও ভাল না, সার্জারিটা জরুরি। তারপরেও যাওয়ার চেষ্টা করিনি।”

শোতাদের কাছে ‘বেজবাবা সুমন’ নামে পরিচিত এ গায়ক শ্রোতাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারাও একটু চেষ্টা করেন, অতিরিক্ত দরকার ছাড়া বাসা থেকে না বের হবার। ছুটি, আড্ডা, অনুষ্ঠান, কক্সবাজার, নীলগিড়ি এই অবস্থা শেষ হবার পরেও থাকবে। বরঞ্চ আমরা নিজেরাই অসাবধান হলে ভবিষ্যতে নাও থাকতে পারি।”

চলতি মাসের শুরুর দিকে অসুস্থতার মধ্যেও ক্র্যাচে ভর দিয়ে জয় বাংলা কনসার্টে দর্শক-শ্রোতাদের সামনে হাজির হয়েছিলেন তিনি।

মঞ্চে এসে বলেন, “বলা হচ্ছে আমার ক্যান্সার হয়েছে। আমি বলছি, আমার ক্যান্সার নেই,”

২০০৯ সালে তার মেরুদণ্ডে ক্যান্সার ধরা পড়ে। পরে তা শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসা চলাকালীনই তিনি গিটার হাতে কণ্ঠে গান তুলেছেন। সবশেষ ২০১৬ সালে প্রকাশ হয় অর্থহীনের সপ্তম অ্যালবাম ‘ক্যান্সারের নিশিকাব্য’।

২০১৮ সালের মাঝামাঝিতে ব্যাংককে এক সড়ক দুর্ঘটনায় সুমনের মেরুদণ্ড মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ব্যাংকক ও সিঙ্গাপুরে তার মেরুদণ্ডে দুটি অস্ত্রোচারের পরও জটিলতা না কাটায় বেশ কয়েকবার জার্মানির জাহনা ক্লিনিকুম অফেনবাখ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করান তিনি।

‘ফ্রিকোয়েন্সি’ নামের একটি ব্যান্ডের মাধ্যমে ১৯৮৬ সালে সংগীত জীবন শুরু করেন সুমন। ১৯৯০ সালে থেকে তিনি দেশের নানা ব্যান্ডে বেইজ বাজিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, ফিলিংস, ওয়ারফেইজ।

তিনি প্রথম একক অ্যালবাম প্রকাশ করেন ১৯৯২ সালে। এ পর্যন্ত তার তিনটি একক অ্যালবাম প্রকাশ পেয়েছে। ১৯৯৯ সালে ‘অর্থহীন’ ব্যান্ড গড়ে তোলেন। অর্থহীনের অ্যালবাম প্রকাশ পেয়েছেন সাতটি।