কেনি রজার্সের মৃত্যুতে সংগীত তারকাদের শোক

  • গ্লিটজ ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-03-22 21:35:03 BdST

বহু দিনের বন্ধু, সহশিল্পীকে হারিয়ে সংগীত তারকারা হয়েছেন বেদনাহত।

শুক্রবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের কান্ট্রি মিউজিক খ্যাত সংগীত শিল্পী কেনি রজার্স মৃত্যুবরণ করেন।

সিএনএন জানায়, শুধু দেশে নয় বিশ্বব্যাপী প্রায় ছয় দশকের সংগীতময় জীবনের অবসান ঘটিয়ে ৮১ বছর বয়সে বিদায় নিলেন এই গুনী সংগীত শিল্পী।

তার মৃত্যুতে সংগীত ভুবনে নেমে আসে শোক। সেই শোকের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

মার্কিন সংগীত শিল্পী লায়নল রিচি টুইট করেন, “আমি একজন কাছের বন্ধুকে হারালাম। অনেক হাসি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা মনে পড়ছে। আমার হৃদয় ভেঙে গেছে.. কেনি’র পরিবারের জন্য প্রার্থনা জানাই।”

অন্যান্য সংগীত শিল্পীদের মধ্যে ব্ল্যাক শেলটন, রেবা এবং ডলি পার্টন জানান শ্রদ্ধা।

রেবা টুইট করেন, “বন্ধুত্ব আর ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ। আমরা তোমাকে মিস করবো তবে আমি সুখী যে আমরা ‘অ্যাঞ্জেল্স ইন হেভেন’ গানটি করেছিলাম। শান্তিতে থাক বন্ধু।”

ছবি: রয়টার্স।

ছবি: রয়টার্স।

পার্টন তাদের দ্বৈত কণ্ঠে গাওয়া গান ‘আইল্যান্ড ইন দ্য স্ট্রিম’ স্মরণ করে টুইটারে লেখেন, “যতক্ষণ না কেউ চলে যায় ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা বুঝতেই পারি না তাকে কতটা ভালোবাসি। বন্ধু কেনির সঙ্গে অনেক দারুণ সময় কেটেছে। তার চেয়ে বেশি হল সংগীত ও সাফল্য। সে চমৎকার একজন মানুষ এবং সত্যিকারের বন্ধু।”

লেখার পাশাপাশি পার্টন ভিডিও বার্তায় খুবই আবেগীয় কণ্ঠে বলেন, “আমার মতোই তুমিও আজ দুঃখি। তবে ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুক। অনেক ওপরে ‍উড়ে গিয়ে ঈশ্বরের বাহুতে ধরা দাও।”

সংগীতময় জীবনে কেনির ২৪টা গান প্রথম সারির জনপ্রিয়তা পায়। আর শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই বিক্রি হয় ৫ কোটি অ্যালবাম।

কান্ট্রি মিউজিক অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে জানায়, “কান্ট্রি মিউজিক কেনি রজার্সকে হারালো, যিনি চিরদিনের জন্য কান্ট্রি মিউজিকের ইতিহাসে স্বাক্ষর রেখে গেছেন।”

এই সংগীত শিল্পীর উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে ‘লেইডি’, ‘লুসিলি’, ‘উই হ্যাভ গট টুনাইট’ এবং ‘থ্রু দি ইয়ার্স’।

ছবি: রয়টার্স।

ছবি: রয়টার্স।

১৯৭৮ সালে তার ‘দি গ্যাম্বলার’ গান থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে কয়েকটি টিভি ধারাবাহিক নির্মিত হয়, যেখানে রজার্স প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন।

২০১৫ সালে এই সংগীত শিল্পী অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দিতে গিয়ে বলেছিলেন, “আমি খুবই ভাগ্যবান যে এই সংগীতময় জীবনে ভক্তদের চমৎকার ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছি। তবে এখন সময় এসেছে আমার পরিবারকে সময় দেওয়ার।”

তিনি আরও বলেছিলেন, “এখন আমার জীবন হচ্ছে স্ত্রী আর ১১ বছরের দুই যমজ সন্তানকে নিয়ে। আমি তাদের সঙ্গে থেকে বিশেষ কিছু স্মৃতি জমাতে চাই। আমার নিজের জন্য নয়, তাদের জন্য ঝুড়ি ভর্তি কিছু করতে চাই।”

রজার্সের মুখপাত্র জানান, করোনাভাইরাসের কারণে এই সংগীত শিল্পীর পরিবার খুবই অল্প পরিসরে ব্যক্তিগত আয়োজনে শিল্পীর বিদায় আয়োজন করার পরিকল্পনা করেছেন। পরে সময় ফিরলে ভক্তদের সঙ্গে নিয়ে বড় আয়োজন করার ইচ্ছে আছে তাদের।