কবি টোকন ঠাকুরের জামিন

  • আদালত প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-10-26 16:20:28 BdST

bdnews24

সরকারি পাওনা আদায়ে দায়ের করা সার্টিফিকেট মামলায় গ্রেপ্তার কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা টোকন ঠাকুর শর্ত সাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন।

ঢাকার মহানগর হাকিম আবু নোমান মো. সুফিয়ান সোমবার শুনানি শেষে টোকন ঠাকুরের জামিন মঞ্জুর করেন।

শর্ত হল, মঙ্গলবার নির্বাহী হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে টোকন ঠাকুরকে। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি এ আদালতেই বিচারাধীন।

আদালতে টোকন ঠাকুরের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস ও পারভেজ হাসেম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন হেমায়েত উদ্দিন খান হীরন।

কথা সাহিত্যিক শহীদুল জহিরের ছোটগল্প ‘কাঁটা’ অবলম্বনে একই শিরোনামে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য ২০১১-১২ অর্থবছরের সরকারি অনুদান পেয়েছিলেন টোকন ঠাকুর।

অনুদানের অর্থ গ্রহণের নয় মাসের মধ্যে ছবি মুক্তি দেওয়ার নিয়ম থাকলেও আট বছরেও তা সম্পন্ন করতে পারেননি তিনি।

ছবি নির্মাণ শেষ করতে কিংবা অর্থ ফেরত চেয়ে একাধিকবার তাকে চিঠি পাঠিয়েও কোনও উত্তর না পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মামলা দায়ের করে তথ্য মন্ত্রণালয়।

ওই মামলাতেই গত মাসে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সেই পরোয়ানায় রোববার সন্ধ্যায় ঢাকার কাঁটাবন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় টোকন ঠাকুরকে।

সোমবার তাকে হাকিম আদালতে হাজির করা হলে তার পক্ষে আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন।

জামিন শুনানিতে টোকনের আইনজীবী প্রকাশ বলেন, ‘কাঁটা’ চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাপট অনেক বড়। ১৯৬৪ এর দাঙ্গা ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙার পর ঢাকায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার এর তিনটি সময়কে ধারণ করতে ভিন্ন সেট, ভিন্ন আবহ তৈরিতে ধারণার চেয়ে বেশি সময় লেগেছে।

“সেটি তথ্য মন্ত্রণালয়ে জানিয়ে অনুদানের টাকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় কিস্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে। মাত্র ১১ লাখ টাকা অনুদান নিলেও চলচ্চিত্রটির জন্য ইতোমধ্যে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা খরচ হয়েছে, যা ব্যক্তিগত পর্যায়ে মেটানো হয়েছে। শুটিং শেষ হয়ে গেছে, এখন ডাবিং ও এডিটিং চলছে। কিন্তু মহামারীতে সে কাজ পিছিয়ে গেছে।”

আইনজীবী বলেন, “টোকন ঠাকুরের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। মহামারী না হলে এতক্ষণে সরকারের ছাড়পত্র পেতেন, মামলা তুলে নেওয়া হত।”

এর বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হীরন বলেন, “আসামি সরকারের টাকা নিয়ে চুক্তি অনুযায়ী কাজ না করে প্রতারণা করেছেন।”

দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারক টোকন ঠাকুরকে শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করেন।

জামিন পেয়ে কোর্ট হাজত থেকে বেরিয়ে আসার সময় টোকন ঠাকুর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের বলেন, “এর আগেও অনেকে নির্দিষ্ট সময়ে নির্মাণ শেষ করতে পারেননি। কিন্তু কাউকে জেলে যেতে হয়নি। আমার কোর্ট হাজতের ভেতরটা দেখার অভিজ্ঞতা হল।”