পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

প্রযোজক-পরিচালককে দুষছে শিল্পী সংঘ, নিশো-মেহজাবীনের পক্ষে সাফাই

  • গ্লিটজ প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-07-26 21:41:13 BdST

‘ঘটনা সত্য’ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে নাটকের প্রযোজক এস কে সাহেদ আলী পাপ্পু ও পরিচালক রুবেল হাসানের উপর দায় চাপিয়ে দুই শিল্পী আফরান নিশো ও মেহজাবীন চৌধুরীর পক্ষে সাফাই গেয়েছে ছোটপর্দার শিল্পীদের সংগঠন অভিনয় শিল্পী সংঘ।

প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল মিউজিক অ্যান্ড ভিডিওর (সিএমভি) প্রযোজনায় মঈনুল সানুর চিত্রনাট্যে নাটকটি নির্মাণ করেন তরুণ নির্মাতা রুবেল হাসান। প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো ও মেহজাবীন চৌধুরী।

চ্যানেল আইয়ের ঈদুল আজহার আয়োজনে প্রচারের পর নাটকটি শনিবার সিএমভির ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হয়েছে। নাটকটি দেখে প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন, অভিভাবক ও দর্শকদের মধ্য থেকে অভিযোগ ওঠে, এ নাটকে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্ম নিয়ে অবৈজ্ঞানিক বার্তা দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে তুমুল সমালোচনার মধ্যে প্রযোজক পাপ্পু, পরিচালক রুবেল হাসান, শিল্পী আফরান নিশো ও মেহজাবীন চৌধুরী একযোগে দুঃখ প্রকাশ করেন। রোববার নাটকটি ইউটিউব থেকে সরিয়েও নেওয়া হয়।

সোমবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শিল্পীদের স্বার্থ সংরক্ষণে গঠিত সংগঠন অভিনয় শিল্পী সংঘ বলছে, “…আমরা নাটকের অভিনয় শিল্পীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা এ জাতীয় কোনো সংলাপ উচ্চারণ করেনি। দেখা গেছে, ভয়েস ওভারের মাধ্যম এই সংলাপ পরিচালক ব্যবহার করেছেন, যা পাণ্ডুলিপিতে উল্লেখ ছিল না। যে বিতর্কের জন্ম হয়েছে সেই দায় নিতান্তই পরিচালক ও প্রযোজকের।”

সংগঠনটি দাবি করেছে, চ্যানেল আইয়ে নাটকটি প্রচারের সময় সেই বিতর্কিত অংশটুকু বাদ দিয়ে প্রচার করা হয়েছিল; পরে সিএমভির ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশের আগে প্রযোজক-পরিচালক সেই অংশটুকু জুড়ে নিয়েছেন।

সিএমভির এমন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে শিল্পী সংঘ বলছে, “বিশেষ শিশু জন্মের জন্য পিতা-মাতার অনৈতিক কর্মকাণ্ড দায়ী-এটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, অবৈজ্ঞানিক ও সামাজিক রীতিবিরুদ্ধ। আমরা কোনোভাবেই বিষয়টিকে সমর্থন করি না। ..ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।”

‘দায়িত্বহীন’ কাজ হয়েছে, ‘ঘটনা সত্য’ নাটক নিয়ে এফটিপিও  

সমালোচনার মুখে ‘ঘটনা সত্য’ সরিয়ে নিয়েছে সিএমভি  

ভবিষ্যতে নাটক কিংবা চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা মানার তাগিদ দিয়েছে সংগঠনটি।

এর আগে ছোটপর্দার ১৪ সংগঠনের মোর্চা ফেডারেশন অব টেলিভিশন প্রফেশনালস অর্গানাইজেশনের (এফটিপিও) চেয়ারম্যান অভিনেতা-নাট্যকার-পরিচালক মামুনুর রশীদ বলেছেন, “এটি খুব দায়িত্বহীন কাজ হয়েছে। নাট্যকাররা না জেনে-শুনেই স্বাস্থ্য সম্পর্কিত, মেডিকেলের বিষয়টিকে যে এভাবে তুলে ধরেছে তা ঘোরতর অন্যায়।”

সিএমভি দুঃখ প্রকাশ করে রোববারের বিবৃতিতে বলেছিল, “বিষয়টি একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত …. অসাবধানতাবশত নাটকে আমরা ভুল একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলাম। এরপর আমরা সঙ্গে সঙ্গেই নাটকটি ইউটিউব থেকে সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেই।”

প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩- এর ৩৭ এর (৪) ধারায় বলা হয়েছে, "কোনো ব্যক্তি পাঠ্যপুস্তকসহ যেকোনো প্রকাশনা এবং গণমাধ্যমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বা প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কে নেতিবাচক, ভ্রান্ত ও ক্ষতিকর ধারণা প্রদান বা নেতিবাচক শব্দের ব্যবহার বা ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যঙ্গ করিলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ হইবে এবং তিনি উক্ত অপরাধের জন্য অনধিক ৩ (তিন) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

শিল্পী সংঘের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শিল্পীদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, “আমরা এমন কিছু করব না যা সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিতে পারে ও আপনি কোনো আইনি জটিলতার সম্মুখীন হন। অবশ্যই সকলে পাণ্ডুলিপি পড়ে শর্তসাপেক্ষে চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করে কাজ করবেন। ভবিষ্যতে যেন এভাবে কোনো শিল্পী বলির পাঠায় পরিণত না হয়।”

ডিরেক্টর’স গিল্ডের নিন্দা

টিভি নাটকের পরিচালকদের সংগঠন ডিরেক্টর’স গিল্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, যেখানে বিশ্ব একত্রিত হয়ে ‘বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু’ এবং তাদের পরিবারকে একটা স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করতে চেষ্টা করছে, সেখানে নাটকে এমন ভয়ানক বক্তব্যে ডিরেক্টর’স গিল্ড হতাশ, বিক্ষুব্ধ। এই ধরনের বক্তব্য/সংলাপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

“আমরা মনে করি, সংস্কৃতি কর্মীর দায়িত্ব যেকোনো সাধারণ মানুষের চেয়ে একটু বেশি।”

সেই পরিচালক রুবেল হাসান ডিরেক্টর’র গিল্ডের সদস্য নয় জানিয়ে সংগঠনটি বলছে, নাটকের স্বার্থে সংগঠনের তরফ থেকে তাকে সতর্ক করা হবে।