ভক্ত থেকে হিরো: ‘পিপড়াবিদ্যা’র মিঠুর গল্প

  • তানজিল আহমেদ জনি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2014-10-14 16:12:46 BdST

২৪শে অক্টোবর মুক্তি পেতে যাচ্ছে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘পিঁপড়াবিদ্যা’। সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন নবাগত অভিনেতা নূর ইমরান মিঠু। সম্প্রতি গ্লিটজের আমন্ত্রণে এসেছিলেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম- এর কার্যালয়ে।

এটাই নাকি গণমাধ্যমকে দেওয়া মিঠুর প্রথম সাক্ষাৎকার। তবে মিঠু প্রস্তুত ছিলেন। গ্লিটজের হয়ে মিঠুকে ছেঁকে ধরেছিলেন তানজিল আহমেদ জনি। আড্ডার ফাঁকে মিঠুকে ফ্রেমবন্দিও করেছেন তিনি।

গ্লিটজ: ‘পিঁপড়াবিদ্যা’র আগে নির্মাতা ফারুকীর ছবিয়ালে সহকারী হিসেবে বেশ কদিন কাজ করেছেন। ঠিক কিভাবে ছবিয়ালের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেন?

মিঠু: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন পড়ছি, তখনই চলচ্চিত্র নির্মাতা হওয়ার নেশায় পেয়ে বসে। আমার একমাত্র লক্ষ্যই ছিল মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সঙ্গে কাজ করব। তার দেখা পাওয়া তো আর মুখের কথা না। নাট্যাঙ্গন ও টেলিভিশনের অনেকের কাছে ফারুকীর নাম্বার চেয়েছি। কিন্তু তখন তো আমাকে কেউ চিনত না তাই আমাকে কেউ তার ফোন নম্বর দেয়নি। এর অনেকদিন পর ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’ সিনেমার মুক্তির দিনে বলাকা সিনেমা হলে গিয়ে মোস্তফা সরওয়ার ফারুকীর সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। সাহস করে বলে ফেললাম আমার ইচ্ছার কথা। সব শুনে ফারুকী আমাকে তার একজন সহকারীর ফোন নম্বর দেন। আমি নিয়মিত সেই সহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতাম। অবশেষে ‘টেলিভিশন’ সিনেমায় শিক্ষানবীশ হিসেবে কাজের সুযোগ মিলে গেল।

গ্লিটজ: এবার আসি ‘পিঁপড়াবিদ্যা’ প্রসঙ্গে। এই সিনেমাতে সুযোগ পেলেন কিভাবে? তাও আবার কেন্দ্রীয় চরিত্রে?

মিঠু: আসলে ‘পিঁপড়াবিদ্যা’ সিনেমায় আমার অভিনয়ের পুরো বিষয়টা ঘটেছে আমার গুরু মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ইচ্ছায়। তিনি আমাকে জানালেন, ‘পিঁপড়াবিদ্যা’র কেন্দ্রীয় চরিত্রে আমি অভিনয় করছি। আমি আকাশ থেকে পড়লাম। কোনোদিন অভিনয় করিনি, অভিনয়ের কিছুই তো জানি না।  সত্যি বলছি, অভিনেতা হওয়ার কোনো ইচ্ছা ছিল না আমার। আমার গুরুর কথা তো আমি অমান্য করতে পারি না। আমাকে তো অভিনয় করতেই হবে। তো তার কাছেই অভিনয়ের হাতেখড়ি শুরু হল আমার। অভিনয়ের পাশাপাশি সিনেমার এ টু জেড নিয়ে তিনি আমাকে হাতে কলমে শিখিয়েছেন। তাই সিনেমায় অভিনয়ের পুরো কৃতিত্ব তার। এই বিশাল সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আমি তার কাছে চিরকৃতজ্ঞ।

গ্লিটজ: ‘টেলিভিশন’ সিনেমাতে একটি পার্শ্বচরিত্রে দেখা গিয়েছিল আপনাকে। এছাড়া বেশ কটি বিজ্ঞাপন ও একটি নাটকে অভিনয় করেছিলেন। সেসব অভিজ্ঞতা এ সিনেমাতে কাজে লেগেছে নিশ্চয়?

মিঠু: ‘টেলিভিশন’ সিনেমায় সাংবাদিকের চরিত্র এবং ফারুকীর ছোট ভাই জনাব কিবরিয়া ফারুকীর ঈদের নাটক ‘বিক্রয়ের জন্য নহে’তে অভিনয় করেছিলাম শুধুমাত্র আমার গুরুর আদেশ পালন করার জন্য। অভিনয়ের অনেক খুঁটিনাটি শিখেছি সেগুলো থেকে। বিজ্ঞাপনের অভিজ্ঞতাও নানাভাবে কাজে লেগেছে সিনেমাতে।

গ্লিটজ: ‘পিঁপড়াবিদ্যা’র জন্য প্রথম যেদিন ক্যামেরার মুখোমুখি দাঁড়ালেন, সেদিনের অনুভূতি কেমন ছিল?

মিঠু: ছবিয়াল টিম সব সময়ই একসঙ্গে থাকি। তাই ক্যামেরায় সামনে দাঁড়িয়ে আসলে আলাদা কোনো অনুভূতি কাজ করে নি।

গ্লিটজ: আপনার সহ-অভিনেত্রী শিনা চৌহানকে কেমন দেখেছেন?

মিঠু: শিনা জানতেন না, আমি প্রথমবারের মতো অভিনয় করছি। যখন জানতে পারলেন তখন আমাকে ডেকে বললেন, ‘তোমার অভিনয় দেখে মনে হয়নি, তুমি প্রথমবারের মতো কাজ করছ।’ সহ-অভিনেত্রীর কাছ থেকে কাজের প্রশংসা পেতে কার না ভালো লাগে!সিনেমাতে একটা দৃশ্যে দেখা যাবে, আমি সমুদ্র সৈকতে শুয়ে আছি। আমার মুখের উপর সারি সারি পিঁপড়া হেঁটে যাচ্ছে। আমি সাবলীলভাবে দৃশ্যটিতে অভিনয় করলাম। শিনা মুগ্ধ হয়েছিল।

গ্লিটজ: পর্দায় মিঠু- শিনার রসায়ন দর্শক কতটা গ্রহণ করতে পারবে বলে মনে হচ্ছে?

মিঠু: ‘পিপড়াবিদ্যা’ সিনেমায় গতানুগতিক সিনেমারগুলোর মতো নায়ক-নায়িকার কোনো রসায়ন নেই। সিনেমার কাহিনি আবর্তিত হয়েছে সমাজের দুটি শ্রেণীর গল্প নিয়ে। এখানে বলা হয়েছে, লোভ ভালো কিন্তু খারাপ লোভ ভালো না। মূলত সিনেমাটি হচ্ছে মোহের গল্প। আমার আর শিনার অভিনয় দর্শকের কেমন লাগবে, সেটা দর্শকের ওপরই ছেড়ে দিলাম। তাদের ভালোলাগাতেই আমার সার্থকতা।

গ্লিটজ:  ‘পিঁপড়াবিদ্যা’র প্রথম টিজার ‘হিরো হইতে কি লাগে’। আপনার কি মনে হয়, হিরো হতে আসলে কি কি লাগে? নিজেকে এখন ‘হিরো হিরো’ লাগছে কি?

মিঠু: ওহ! না মোটেই না। আমি নিজেকে এখনই হিরো মনে করছি না। তবে কী, সিনেমার হিরো হওয়ার ক্ষেত্রে আগের যে ধ্যান ধারণা ছিল তা এখন অনেকটাই বদলে গেছে। সিনেমায় জীবনের গল্প বলার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় চরিত্রে যেই মানুষটিকে যথার্থ বলে মনে হবে তিনিই সেই সিনেমার প্রধান চরিত্রের অভিনেতা হতে পারেন। এক্ষেত্রে তিনি হিরো নন, তিনি অভিনয় করছেন সিনেমার কেন্দ্রীয় অভিনেতা।

আমি মনে করি যে কেউই হিরো হতে পারে। হিরো হওয়ার জন্য আসলে কোনো নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি নেই।

গ্লিটজ: শুরুতে বলছিলেন, নির্মাতা হওয়ার ইচ্ছা নিয়েই মিডিয়াতে এসেছেন। আপনি আসলে নায়ক না পরিচালক হতে চান?

মিঠু:
সেভাবে নায়ক হওয়ার ইচ্ছা নেই আমার। আমার ধ্যানজ্ঞান একদিন সিনেমা পরিচালনা করব। তবে তার আগে আমি বেশ কটি নাটক নির্মাণ করতে চাই। এ বছরতো কিছু হচ্ছে না আর। আগামী বছরের শুরুতে কাজ শুরু করবো বলে ভাবছি।

তবে আমার কাছে যদি ভালো গল্প আসে যেখানে আমার অভিনয় করার মতো জায়গা আছে, তাহলে অবশ্যই আমি অভিনয় করব। আমি বাস্তব মানুষের চরিত্রে, হাজারো রকমের রক্তে মাংসের মানুষের চরিত্রে অভিনয় করতেই বেশি আগ্রহী।

গ্লিটজ: পরিচালক হওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন কি?

মিঠু: সত্যি বলতে নাটক বা টেলিফিল্ম কিংবা কোন ধরনের তথ্যচিত্র নির্মাণের জন্য যে টাকা প্রয়োজন সেই টাকা আমার কাছে নেই। তাই এখনও কিছুই বানানো হয় নি। ‘পিঁপড়াবিদ্যা’র আগে আগে বেশকটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের সঙ্গে জড়িত ছিলাম।

গ্লিটজ: পরিচালক হলে নিজেকে কোন অবস্থানে দেখতে চান?

মিঠু: আমি বিশ্বাস করি যখন স্বপ্নই দেখব, তখন ছোট স্বপ্ন কেন দেখবো! আমার স্বপ্ন হচ্ছে আমি অস্কারবিজয়ী পরিচালক হতে চাই।