করোনাভাইরাস: হটলাইন নম্বর বেড়ে ১৩টি

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-03-09 20:25:21 BdST

bdnews24
জ্বর নিয়ে কোনো বিমানযাত্রী আসছেন কি না, তা পরীক্ষা করা হয়ে থাকে এই যন্ত্রের সাহায্যে। করোনাভাইরাস সংক্রমণে সর্দি-জ্বরই প্রধান লক্ষণ। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি

বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাসের রোগী ধরা পড়ার পর মানুষের ফোন কলের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হটলাইনে নম্বরও চারটি থেকে বাড়িয়ে ১৩টি করেছে সরকার।

এখন নভেল করোনাভাইরাস সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য পেতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই ১৩টি নম্বর সবসময় খোলা পাওয়া যাবে।

হটলাইন নম্বরগুলো হচ্ছে- ১৬২৬৩, ০১৪০১১৮৪৫৫১, ০১৪০১১৮৪৫৫৪, ০১৪০১১৮৪৫৫৫, ০১৪০১১৮৪৫৫৬, ০১৪০১১৮৪৫৫৯, ০১৪০১১৮৪৫৬০, ০১৪০১১৮৪৫৬৩, ০১৪০১১৮৪৫৬৮, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯৩৭১১০০১১।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হটলাইনের নম্বরটিও (১৬২৬৩) এখন নভেল করোনাভাইরাস সংক্রান্ত তথ্য জানাতে ব্যবহৃত হবে। বাকি ১২টি নম্বর আইইডিসিআরের।

করোনাভাইরাস নিয়ে সোমবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, সেবার পরিধি বাড়াতে হটলাইনে নম্বর যোগ করা হয়েছে।

“অনেকে ফোন করে আমাদের পাচ্ছেন না, ফোন এঙ্গেজড থাকছে বলে জানিয়েছেন। এজন্য হটলাইনে নতুন নম্বর যোগ করা হয়েছে। সার্ভিস সংক্রান্ত তথ্য পাবেন।

“কারও নমুনা সংগ্রহের যদি প্রয়োজন মনে হয়, তারাও (স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হটলাইন) আমাদের জানাবেন নমুনা সংগ্রহ করতে হবে কি না।”

করোনাভাইরাসে গুজব নয়, সঠিক তথ্য ছড়িয়ে দিন: আইইডিসিআর  

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা কী?

কোথায় কীভাবে হয় করোনাভাইরাসের পরীক্ষা  

নতুন করোনাভাইরাস আসলে ছড়ালো কীভাবে?

করোনাভাইরাস: যা যা জানা দরকার  

করোনাভাইরাস: নিরাপদ থাকতে যা করতে হবে

করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে ডব্লিউএইচও’র পরামর্শ

করোনাভাইরাস: কোনটি গুজব, কোনটি ঠিক  

প্রতিরোধে পরামর্শ

করোনা ভাইরাস নিয়ে ভীত না হয়ে সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দেওয়া কিছু পরামর্শ মেনে চলতে সবাইকে পরামর্শ দিয়েছে সরকার।

>> নিয়মিত জীবণুনাশক বা সাবান বা হ্যান্ড ওয়াশ দিয়ে হাত ধোয়া উচিত।

>> কাশি বা হাঁচি দিচ্ছেন এমন ব্যক্তি থেকে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখা প্রয়োজন।

>> হাত না ধুয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

>> হাঁচি বা কাশি দেওয়ার সময় টিস্যু বা হাতের কনুই দিয়ে নাক ও মুখ ঢেকে রাখতে হবে।

>> যেখানে সেখানে থুথু নিক্ষেপ করা যাবে না।

>> রান্না করার আগে ভালো করে খাবার ধুয়ে নিতে হবে।

>> যে কোনো খাবার ভালো করে সিদ্ধ করে রান্না করতে হবে।

>> অসুস্থ ব্যক্তি বা প্রাণীর সংস্পর্শে আসা যাবে না।

>> কাপড় একবার ব্যবহার করে ধুয়ে ফেলুন।

>> বাড়ি এবং কর্মক্ষেত্র নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

>> বাইরে ব্যবহৃত জুতা ঘরে ব্যবহার করা যাবে না। খালি পায়ে হাঁটা যাবে না।

>> পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে হাত মেলানো বা আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

>> জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। অন্যের সংস্পর্শ  থেকে দূরে থাকতে হবে।

>> স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ অনুসরণ করে নিরাপদ থাকাই উত্তম পন্থা।

>> অসুস্থ বোধ করলে বাড়িতে অবস্থান করা উত্তম।

>> জনাকীর্ণ স্থানে সতর্ক থেকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

>> শিশু, বৃদ্ধ ও ক্রণিক রোগীদের অধিকতর সতর্ক থাকতে হবে।

>> নিজেকে নিরাপদ রাখতে বিদেশ ভ্রমণ না করাই ভালো।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সন্দেহ, লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিলে সরাসরি জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সরকার। বরং বাড়িতে থেকে হটলাইন নম্বরে ফোন করলে তারাই বাড়িতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করবে বলে জানানো হয়েছে।