ঢাকা উত্তরে ২৫ জায়গায় হাত ধোয়ার ব্যবস্থা

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-03-17 19:32:13 BdST

নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে রাজপথে বেরিয়ে নাগরিকরা যাতে নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পারেন, সেজন্য ২৫ জায়গায় পথচারীদের হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

উত্তরের নবনির্বাচিত মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম এবং প্যানেল মেয়র মো. জামাল মোস্তফা মঙ্গলবার গুলশান-২ নম্বর সেকশনের ডিএনসিসি মার্কেটের সামনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

আতিকুল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। আর সচেতনতার প্রথম শর্ত হচ্ছে হাত ধোয়া।

“মূলত পথচারীদের সচেতন করে তুলতেই হাত ধোয়ার এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পথচারী ও বাসযাত্রীরা এসব স্থানে হাত ধুতে পারবেন। সেজন্য সাবান ও পানি ডিএনসিসি থেকে সরবরাহ করা হবে।”

নভেল করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু।

নভেল করোনাভাইরাস এর কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন এখনো তৈরি হয়নি। ফলে নিরাপদ থাকার একমাত্র উপায় হল, যারা ইতোমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন বা এ ভাইরাস বহন করছেন- তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা। সেজন্য ঘন ঘন ভালো করে সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়া এবং নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রী পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় যেসব স্থানে হাত ধোয়ার সুবিধা মিলবে-

উত্তরার বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চ, রাজলক্ষ্মী মার্কেট, মাসকট প্লাজা, খিলক্ষেত বাসস্ট্যান্ড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা গেইট, মিরপুরে সনি সিনেমা হলের সামনে, মিরপুর ডিএনসিসি আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে, মিরপুর ১০ নম্বর ফায়ার সার্ভিসের সামনে, মিরপুর ১২ নম্বর বাসস্ট্যান্ড, মিরপুর ১৪ নম্বর মার্কস মেডিকেলের সামনে, মিরপুর ১০ নম্বর শাহ আলী মার্কেটের কোনায়, মিরপুর শপিং মল, মিরপুর ১ নম্বর কো-অপারেটিভ মার্কেটের সামনে, গাবতলী পশুহাট, শেওড়াপাড়ার বাসস্ট্যান্ড, ফার্মগেট আনন্দ সিনেমা হলের সামনে, মোহাম্মদপুর টাউন হলের সামনে, মোহাম্মদপুর বসিলা রোডে কালভার্টের ওপর, কারওয়ান বাজার কিচেন মার্কেটের সামনে, আগারগাঁও পঙ্গু হাসপাতালের সামনে, গুলশান-২ ডিএনসিসি মার্কেট, গুলশানে পুলিশ প্লাজা, কাকলী বাস স্ট্যান্ড, মহাখালী ডিএনসিসি আঞ্চলিক অফিস এবং রামপুরা বাজার।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আতিকুল ইসলাম বলেন, নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কার্যক্রমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রয়োজনে মহাখালীর ডিএনসিসি মার্কেটটি ব্যবহার করতে পারে।

“আমাদের ওই মার্কেটটি এখনও চালু হয়নি। অব্যবহৃত আছে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সেটি কোয়ারেন্টিনের জন্য ব্যবহার করতে পারে।”

এদিন ডিএনসিসি এলাকায় বর্জ্য পরিবহনের জন্য নতুন কেনা ২০টি ট্রাকের চাবি চালকদের মধ্যে হস্তান্তর করেন আতিক।

অন্যদের মধ্যে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মফিজুর রহমান, ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল হাই, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান মামুন, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মঞ্জুর আহমেদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ঠিকভাবে হাত ধুচ্ছি তো?