মানুষ কিছুটা বেখেয়ালি হয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-11-22 19:09:17 BdST

bdnews24

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ইদানিং মানুষ কিছুটা ‘বেখেয়াল’ হয়ে গেছে এবং নিয়ম কানুন মানছে না বলেই করোনাভাইরাস সংক্রমণ আবার বাড়ছে।

রোববার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ‘ইনডিভিজুয়াল হেলথ আইডি কার্ড ও হেলথ আউটকাম পরিমাপ কার্যক্রম’ উদ্বোধন করতে গিয়ে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে বলেই এখনও পর্যন্ত সংক্রমণ ‘নিয়ন্ত্রণে’ আছে। মৃত্যুর হারও বাংলাদেশে কম।

“কিন্তু ইদানিং আমরা দেখছি সংক্রমণ এবং মৃত্যু একটু বাড়ছে। অর্থাৎ আমাদের চলাফেরা একটু বেখেয়ালি হয়ে গেছে। আমরা মাস্ক সেভাবে পরছি না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছি না।”

মাঝে কিছুদিন বাংলাদেশে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দেড় হাজারের কাছাকাছি থাকলেও এখন তা আবার বেড়ে দুই হাজারের মত থাকছে। সব মিলিয়ে দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৪ লাখ ৪৭ হাজার পেরিয়ে গেছে, মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ৩৮৮ জনের।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ যেন না আসে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বারবার তাগিদ দিয়েছেন। যেসব দেশে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ লেগেছে, সেসব দেশে অর্থনৈতিক বিপর্যয় এসেছে।

“বাংলাদেশ সেভাবে বিপর্যস্ত হয় নাই। সবাই মিলে এটা ধরে রাখতে হবে। করোনার সংক্রমণ বেড়ে গেলে কিন্তু এটা ধরে রাখা সম্ভব হবে না। আমরা তাই সবার সহযোগিতা চাই। করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। নিয়ম মানতে হবে।”

এ অনুষ্ঠানে হেলথ কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। প্রাথমিকভাবে সারাদেশে ১২ লাখ মানুষকে ওই কার্ড দেওয়া হচ্ছে। কমিউনিটি বেইজড হেলথ কেয়ারের আওতায় ২০২৩ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষকে হেলথ কার্ড দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই কার্ড ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ড হিসেবে কাজ করবে। কার্ডটি করার পর তাতে রোগীর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সব তথ্য থাকবে। কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে কার্ড দেখালে হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার ওই ব্যক্তির স্বাস্থ্য সম্পর্কিত আগের তথ্য জানতে পারবেন। তাতে চিকিৎসা দেওয়া সহজ হবে।

হেলথ কার্ড শুরুতে কমিউনিটি ক্লিনিকে দেওয়া হবে। পরে বাংলাদেশের সব স্বাস্থ্যকেন্দ্র, হাসপাতালে দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান, স্বাস্থ্য অধিদ্প্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলমসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।