কোভিড টিকার চূড়ান্ত ধাপের পরীক্ষায় যাচ্ছে সানোফি-জিএসকে

  • নিউজ ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-05-17 20:59:09 BdST

bdnews24
ফাইল ছবি

ফরাসি ফর্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি সানোফি জানিয়েছে, ব্রিটিশ কোম্পানি গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের সঙ্গে যৌথভাবে উদ্ভাবিত তাদের করোনাভাইরাসের টিকা দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষায় ‘শক্তিশালী প্রতিরোধ’ গড়ে তুলতে পেরেছে এবং শিগগিরই তারা চূড়ান্ত ধাপের পরীক্ষা শুরু করতে যাচ্ছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার এক বিবৃতিতে সানোফি তাদের পরীক্ষায় ইতিবাচক ফলের কথা জানিয়ে টিকার কার্যকারিতা যাচাইয়ের তৃতীয় ও শেষ পর্যায়ের পরীক্ষা শুরুর এই ঘোষণা দিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, শিগিগিরই তারা টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ফল একটি চিকিৎসা সাময়িকীতে প্রকাশ করার পরিকল্পনা করেছে। 

গত বছর ডিসেম্বরে সানোফি জানিয়েছিল, দুজন বয়স্ক মানুষের দেহে প্রয়োগ করে তাদের টিকার ভালো পাওয়া যায়নি। ফলে তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা শুরু করতে তাদের দেরি হতে পারে।

প্রয়োজনীয় সংশোধন করে গত ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা শুরু করে সানোফি ও গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন (জিএসকে) । যুক্তরাষ্ট্র এবং হন্ডুরাসের ১৮ থেকে ৯৫ বছর বয়সী সাতশর বেশি স্বেচ্ছাসেবী তাতে অংশ নেন।

ওই পরীক্ষায় সফলতা পাওয়া গেছে জানিয়ে সানোফি বলেছে, তাদের টিকায় স্বেচ্ছাসেবীদের কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি ‘তৈরি হয়নি’ এবং তাদের শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে ‘শক্তিশালী প্রতিরোধ’ গড়ে উঠছে। 

করোনাভাইরাস মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে এই টিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে যারা মনে করছেন, সফলতার এই খবর তাদের জন্য ‘উৎসাহব্যঞ্জক’।

এ বছরের শেষ নাগাদ এই টিকা বাজারে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছে ওষুধ কোম্পানি দুটি। সেরকম হলে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ঝিমিয়ে পড়া টিকাদান কর্মসূচির গতি বাড়াতে ভূমিকা রাখবে এই টিকা।

আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এ টিকার তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হবে জানিয়ে সানোফি বলেছে, বিশ্বের ৩৫ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তাতে স্বেচ্ছায় অংশ নেবেন।

এ পর্যায়ে টিকার দুটি ধরনের পরীক্ষা করা হবে। একটি করোনাভাইরাসে মূল ধরনের বিরুদ্ধে এবং অপরটি সাউথ আফ্রিকায় প্রথম পাওয়া বি.১.৩৫১ ধরনটির বিরুদ্ধে। পরের ধরনটির বিরুদ্ধে অন্যান্য টিকা কম কার্যকর।

সানোফির বৈশ্বিক টিকা বিষয়ক প্রধান সু পেইঙ এনজি সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার জন্য ‘টিকা দেওয়া হয়নি’- এমন স্বেচ্ছাসেবীর তালিকা করা তাদের জন্য খুবই কঠিন ছিল।

লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ার দিকে ইংগিত করে তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক অঞ্চলে এখনও টিকার ঘাটতি আছে এবং সেসব দেশ থেকেও তারা স্বেচ্ছাসেবক নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, টিকার অনুমোদন পাওয়া অন্যান্য কোম্পানির চেয়ে সানোফি ও জিএসকে এ কাজে অনেক বেশি অভিজ্ঞ। দ্রুত টিকার উৎপাদনে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ে তাদের পদ্ধতি ‘অনেক বেশি প্রতিষ্ঠিত’।

করোনভাইরাসের টিকার দ্রুত উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অপারেশন ওয়ার্প স্পিড কর্মসূচির আওতায় তহবিল পাওয়ার জন্য তালিকাভুক্ত ছয়টি কোম্পানির মধ্যে ছিল সানোফি ও জিএসকে।

গত গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার ১০ কোটি ডোজ প্রয়োগযোগ্য টিকা পাওয়ার শর্তে এর উন্নয়ন এবং উৎপাদনের জন্য  দুটি কোম্পানিকে ২১০ কোটি ডলার অর্থ সহায়তা দিতে রাজি হয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং কানাডার সঙ্গেও সানোফির সরবরাহ চুক্তি আছে। এছাড়া টিকার সুষম বণ্টন নিশ্চিতের জন্য গড়ে ওঠা কোভ্যাক্স কর্মসূচিতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোকে ২০ কোটি ডোজ টিকা দিতেও রাজি হয়েছে সানোফি।

এছাড়া ফাইজার, বায়োএনটেক, মডার্না এবং জনসন অ্যান্ড জনসনের তৈরি টিকার উৎপাদনে সহায়তা করার পরিকল্পনাও তারা ঘোষণা করেছে।