পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

দেশে চর্মরোগ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার আশ্বাস স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-11-16 23:46:08 BdST

bdnews24

দেশে চর্মরোগের বিশেষজ্ঞ তৈরি, প্রশিক্ষণ এবং রোগীদের উন্নত চিকিৎসা সেবা দিতে সরকারিভাবে একটি চর্মরোগ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

মঙ্গলবার বিকালে সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ একাডেমি অব ডার্মাটোলজির তৃতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশেষজ্ঞদের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি এ আশ্বাস দেন।

সোমবার থেকে শুরু দুই দিনের এ সম্মেলন ও কর্মশালায় দেশের ৮০০ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ৬০০ জন উপস্থিত ছিলেন বলে আয়োজকরা জানান।

চিকিৎসকদের দাবি, দেশের ১৬ কোটি মানুষের জন্য ৮০০ চর্মরোগের চিকিৎসক খুবই অপ্রতুল। দেশের জনসংখ্যার তুলনায় অন্তত এক হাজার ৬০০ জন বিশেষজ্ঞের দরকার। কিন্তু দেশে চর্মরোগের ইনস্টিটিউট না থাকায় বেশি সংখ্যক চিকিৎসক তৈরি এবং তাদের প্রশিক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তারা।

সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "আমিও মনে করি, বাংলাদেশে একটি চর্মরোগ ইনস্টিটিউট হওয়া উচিত। আমি আশ্বস্ত করছি, আমাদের সময় এটা অনুমোদন করে যাব।

"আমাদের দেশে চর্মরোগ বেশি হয়। কেননা এখনও হাইজিন কন্ডিশন এত উন্নত নয়। তবে আগের থেকে অনেক ভালো, যেহেতু সব জায়গায় স্যানিটারি ল্যাট্রিন হয়েছে। তবে পানি দূষণ, আর্সেনিক, কীটনাশক ব্যবহার এবং ফেইক কসমেটিকস ব্যবহারের ফলে চর্মরোগ বাড়ছে।"

স্বাস্থ্যখাতকে ডিজিটালাইজ্ড করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, "পুরো হেলথ সেক্টর ডিজিটালাইজ্ড হয়ে যাবে। ইতোমধ্যে আমাদের আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে সভা করেছি। আশা করি, এটা দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।"

করোনাভাইরাস সংক্রমণের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, "অক্সফোর্ডের বিশেষজ্ঞসহ অনেক পশ্চিমা বিশেষজ্ঞ বলেছিলেন, হাজার হাজার মানুষ মারা যাবে বাংলাদেশে। পথেঘাটে লোক মরে পড়ে থাকবে। তাদের অনুমান ভুল প্রমাণ হয়েছে।

"আজ বাংলাদেশে করোনায় মৃত্যুর হার যে এক ডিজিটে আছে, এই কনফারেন্সই সেটার প্রমাণ।“

তিনি বলেন, পৃথিবীর সব দেশ অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে মাইনাসে চলে গেছে। বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যার প্রবৃদ্ধি প্লাসে আছে। এটা সম্ভব হয়েছে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে থাকায়।

“করোনা এমনিতেই নিয়ন্ত্রণে থাকে না। অনেক কাজ করতে হয়েছে। অনেক সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু আমরা চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছি।"

সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, "ডার্মাটোলজি (চর্মরোগ) সব রোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। করোনা আমাদের শিখেয়েছে, হাতে হাত মেলালে জীবাণু ছাড়ায়।সেটাও কিন্তু ডার্মাটোলজির বিষয়।

“আমাদের অনেক ইনস্টিটিউট আছে, কিন্তু ডার্মাটোলজিস্টরা এখনও একটা ইনস্টিটিউট পায়নি। ১৬ কোটি মানুষের জন্য অন্তত এক হাজার ৬০০ ডার্মাটোলজিস্ট দরকার, আছে মাত্র অর্ধেক।"

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন।

বাংলাদেশ একাডেমি অব ডার্মাটোলজির সাধারণ সম্পাদক ডা. সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় সম্মলেন সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক মো. শহীদুল্লাহ শিকদার।