পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

রেস্তোরাঁ, শপিংমল, লঞ্চ আর ট্রেন টিকা সনদ বাধ্যতামূলক করার ভাবনা

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2022-01-06 17:36:30 BdST

করোনাভাইরাসের অতি সংক্রামক ধরন ওমিক্রনের বিস্তার ঠেকাতে হোটেল, রেস্তোরাঁ বা শপিংমলে প্রবেশ করতে এবং ট্রেন, প্লেন লঞ্চে চড়তে কোভিড টিকার সনদ বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

ওমিক্রন নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “গত ৩ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি সভা হয়েছে। সেখানে যে বিষয়টি পয়েন্ট আউট করা হয়েছে, সেটা হল ভ্যাকসিনটা আরও জোরদার করতে হবে। বুস্টারটাকে আরও কীভাবে কমফোর্টেবল ও বিস্তৃত করা যায়, সেটা দেখতে হবে।”

তিনি বলেন, “ওমিক্রমের বিষয়ে বলা হয়েছে, আমরা এখন থেকে রেস্টুরেন্ট, শপিংমল, প্লেন, ট্রেন ও লঞ্চে যারা উঠবে তাদের একটা টাইম দিয়ে… ডাবল ভ্যাকসিনেশন সার্টিফিকেট ছাড়া কেউ যাতে না ওঠে, সেরকম একটা চিন্তা-ভাবনার দিকে যেতে হবে।”

স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাদের বয়স ১২ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে, করোনাভাইরাসের টিকার অন্তত এক ডোজ নেওয়া না থাকলে তাদেরও স্কুলে যেতে নিষেধ করা হবে বলে জানান আনোয়ারুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে বলা হয়েছে। ৩ জানুয়ারি এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, আর আজ কেবিনেট বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রীকে বলা হয়েছে।”

আকাশপথে ভ্রমণে টিকা সনদ দেখে যাত্রী তোলা সম্ভব হলেও রেস্তোরাঁয় বা শপিং মলে কীভাবে তদারকি করা হবে জানতে চাইলে সচিব বলেন, “মোবাইলে সফট কপি থাকবে কিংবা হার্ড কপি থাকবে। আর কোনো দেশেই পুরো জনসংখ্যার তদারকি সম্ভব নয়, স্যাম্পল হিসেবে করা হয়।”

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার স্বাস্থ্য পরিদর্শক যারা আছেন, তারা এটা পরীক্ষা করবেন, আইন শৃঙ্খলাবাহিনীও বিষয়টি দেখবে।

এক প্রশ্নের জবাব আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “টেকনিক্যাল কমিটির সঙ্গে বসে দুয়েক দিনের মধ্যে এটা জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে স্কুল শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

কেউ যাতে মাস্ক ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হয়, তা নিশ্চিত করতে আবারও কঠোর অবস্থানে যাওয়ার কথা বলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

“ইতোমধ্যে আমরা বলে দিয়েছি, এখন থেকেই মোটিভেশন ও প্রোমোশনাল কাজ করবে। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি বাস্তবায়ন হবে।”

তিনি বলেন, সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান সীমিত রাখতে হবে এবং পরিবহনে মাস্কসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

“এটা আমরা কথা বলেছি, টেকনিক্যাল লোকজন… এমনও হতে পারে তারা হয়ত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একটি সংখ্যা নির্ধারণ করে দেবে যে এত জনের বেশি...।চলমান নির্বাচনের বিষয়টিও টেকনিক্যাল কমিটির সঙ্গে আলোচনা হবে।”

গণপরিবহনে যাত্রী সংখ্যা সীমিত করা হচ্ছে কি না- সেই প্রশ্নে সচিব বলেন, “যদি করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যায়, তাহলে ৫০ শতাংশে নেওয়া যায় কি না, সেজন্য আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে আবার মিটিং করতে না হয়।

গণপরিবহনের অর্ধেক আসনে যাত্রী বহনের নির্দেশনা থাকলে মালিকরা ভাড়া বাড়িয়ে দেয়, এতে সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে দুর্ভোগে পড়ে। গণমাধ্যমকর্মীর এমন কথায় কিছুটা হেসে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “ওকে, আপনার অবজারভেশন বিআরটিএকে বলে দেব যে, কোনো ভাড়াটারা বাড়ানো যাবে না। যেহেতু স্পেশাল সিনারিও…।”

কাতার ও দুবাইগামী শ্রমিকদের ফ্লাইটের নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে বিমানবন্দরে আসতে হয়; আশপাশের রেস্তোরাঁয় খেয়ে গন্তব্যে গিয়ে পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়েছেন অনেকে। বিষয়টি নিয়ে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাস থেকে ঢাকায় চিঠিও এসেছে।

অভিবাসী শ্রমিকদের যক্ষা, কলেরায় আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, জবাবে খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “আলোচনা হয়নি। তবে এটা টেকআপ করব। যক্ষ্মা বাইরে খাওয়ার জন্য হতে পারে না… কলেরা হতে পারে। এটা আমাদের নলেজে এসেছে এবং বলে দেওয়া হয়েছে।”