পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

মনে হয় এভারেস্ট জয় করে ফেলেছি

  • আসাদুজ্জামান আকাশ (১৬), ঠাকুরগাঁও
    Published: 2021-10-20 22:05:06 BdST

bdnews24

সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। আমার কাছে এটিকে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং পেশাও মনে হয়, কারণ এখানে কাজ করতে হয় জীবন বাজি রেখেই।

ছোটবেলা থেকে দেখতাম সাংবাদিকরা কাজের মাধ্যমে তথ্য সংবাদ আকারে তুলে ধরেন এবং সারা বিশ্বের মানুষ তা জানতে পারে। তখন থেকে আমারও ইচ্ছা জাগে যে পড়াশোনা শেষ করে বড় হয়ে সাংবাদিক হব। 

আমি জানতামই না যে সহশিক্ষা হিসেবে শিশু সাংবাদিকতার সুযোগ রয়েছে আমাদের দেশেই। হঠাৎ একদিন কিছু চিন্তা না করেই আমার জেলার সাংবাদিক শাকিল আহমেদের সঙ্গে ফেইসবুকে যুক্ত হয়ে যাই। তিনি যে হ্যালোর ঠাকুরগাঁও তত্বাবধায়ক তখনো আমি জানতাম না। উনার সঙ্গে কথাও হয় আমার। তাকে আমি আমার ইচ্ছার কথা জানাই। বলি, বড় হয়ে একজন সাংবাদিক হতে চাই, আপনি কি আমাকে সাহায্য করবেন? পরে তিনি আমাকে তার অফিসে ডেকে পাঠালেন। পর দিন আমি তার কথামতো অফিসে যাই।

যাওয়ার পর তিনি জানতে চান আমি কেন সাংবাদিক হতে চাই? জবাবে আমি বলি, সাংবাদিকতার মাধ্যমে আমি আমার দেশকে তুলে ধরতে চাই এবং দেশের মানুষের সেবা করতে চাই। সাংবাদিকতাকে আমার কাছে নেশার মতো মনে হয়। 

তিনি আমার কথা শুনে বললেন, “ঠিক আছে তুমি আমার সাথে কাজ করতে পার। আমি তোমাকে সাংবাদিকতা শেখাব।”

তখনই আমার মন খুশিতে নেচে উঠল। মনে হলো এভারেস্ট জয় করে ফেলেছি। এরপর থেকে স্কুল শেষ করেই দৌড় দিতাম উনার কাছে।  দেখতাম উনি কীভাবে কাজ করেন। 

এভাবে কয়েক মাস পর শিশু সাংবাদিকতায় বিশ্বের প্রথম বাংলা সাইট 'হ্যালো'র সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। আমাদের জেলায় আয়োজিত 'হ্যালো'র শিশু সাংবাদিকতার কর্মশালায় অংশগ্রহণের সুযোগও করে দেন। এখন আমি হ্যালোর একজন সাংবাদিক। এটা আমার কাছে অনেক গর্বের যে, সাংবাদিক হয়ে গেছি আমি। 

এই কর্মশালার মাধ্যমে আমি সংবাদ লেখা ও সংবাদের তথ্য সংগ্রহ কীভাবে করতে হয় সবকিছু শিখতে পেরেছি। সাংবাদিক হিসেবে কাজ করতে পারব তাও আবার স্কুল জীবন থেকে। সব কিছুই স্বপ্নের মতো মনে হয়। এজন্য শাকিল ভাইয়ের কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নাই। 

এখন আমার পরিবারও খুব খুশি, তারা আমাকে সমর্থন দেয়। ভবিষ্যতে আমি সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশোনা করতে চাই।