২৫ মার্চ ২০১৯, ১১ চৈত্র ১৪২৫

বাঘবন্দি খেলা

  • দেবলীনা ঘোষ, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2018-07-30 15:48:48 BdST

bdnews24
ছবি কৃতজ্ঞতা: আসাদ ইকবাল সুমন

বাঘ বাংলাদেশের জাতীয় পশু। বাঙালির লোকজীবনে নানাভাবে জড়িয়ে আছে এই বাঘ। বাংলা গল্প, ছড়া, শ্লোক, হাস্যরসের কাহিনী ও পুরাণে বাঘের দেখা মেলে।

বাঘ নিয়ে আছে নানা প্রবাদ-প্রবচন ও বাগধারা। যেমন- বাঘের লেজে কান চুলকানো, জলে কুমির ডাঙায় বাঘ, বাঘ দেখেছো বাঘের হুঙ্কার দেখোনি, কাগুজে বাঘ, তুলসী বনের বাঘ, বাঘ পালালো বিড়াল এলো শিকার করতে হাতি, যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয়, এক বনে দুই বাঘ, দূর্বা বনে খাটাশই বাঘ ও মাংসাশী বাঘ ঘাস খেয়ে বাঁচে না ইত্যাদি।

এমনকি বাঘ নিয়ে আছে লোকজ খেলাও। যেমন- বাঘবন্দী খেলা। এ খেলাকে অঞ্চলভেদে ‘বাঘ ছাগল খেলা’ বা ‘বাঘ বকরি খেলা’ বলা হয়। ষোল গুটির আর একটি রূপান্তর হলো বাঘ ছাগল খেলা।

এটি এক ধরনের যুদ্ধের খেলা। এ খেলা অনেকটা দাবা খেলার মতো, আত্মরক্ষা ও আক্রমণের প্রতি লক্ষ্য রেখে ঘুঁটির চাল দিতে হয়। এ খেলার জন্য প্রয়োজন দুজন খেলোয়াড়। সরঞ্জাম  হিসেবে লাগবে একটি ছক এবং দশটি করে দুই ধরনের বিশটি ঘুঁটি। মাটির ওপর দাগ কেটে বাঘবন্দির ঘর বা ছক তৈরি করা হয়।

ইটের কুচি বা চক-পেন্সিল দিয়ে বর্গাকার বাঘবন্দির ছক বা ঘর আঁকা হয়। আড়াআড়ি অথবা লম্বালম্বি বিভিন্ন সরলরেখায় বিভক্ত থাকে ঘরটি। বাঘবন্দি খেলায় ব্যবহৃত হয় বিশটি ছোট ছোট পাথর, ইটের কুচি বা পাট শলকা। প্রয়োজন অপেক্ষাকৃত বড় আরও দুটি ইট বা পাথরকুচি। ছোট ঘুঁটিগুলো ‘ছাগল’ আর বড়গুলো ‘বাঘ’ হিসেবে চিহ্নিত হয়।

খেলার নিয়ম হলো বাঘ সুযোগ পেলেই একটি করে ছাগল খাবে। ছাগল কৌশলে বাঘের পেটে যাওয়ার পরিবর্তে তাকে বন্দি করার চেষ্টা করবে। খেলার শুরুতে ছকে নির্ধারিত চারটি জায়গায় পাঁচটি করে ছাগল রাখা হয়। আর ছাগলের মাঝে দুটি ঘরে রাখা থাকবে দুই বাঘ।

প্রথমে ছাগলকে একটি একটি করে ঘর বদল করে সতর্কতার সঙ্গে বাঘের চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে হয়। অর্থাৎ প্রতিটি ছাগলের ঘরে পেছনের ঘরে যেন আরও একটি ছাগল থাকে। তা না হলে পাশাপাশি কোনাকুনি, সামনাসামনি যে কোনও দিকে বাঘ কোনও ছাগলকে টপকে পেছনের ফাঁকা জায়গায় বসে সেই ছাগলটিকে খেয়ে ফেলে। ফলে বাঘকে বন্দি করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।

খেলার শুরুতে কিছু ছাগল বাঘের পেটে চলে যেতে পারে। কিন্তু যদি সতর্কতার সঙ্গে একটির পেছনে আর একটি ছাগল বসানো যায় তাহলে আর বাঘের শিকার হওয়া থেকে বাঁচা যায়। উল্টো ঘর বদলের সুযোগ হারিয়ে বন্দি হয়ে পড়ে বাঘ। যদি ছাগল বাঘকে বন্দি করতে অসফল হয় তাহলে ছাগলের পরাজয় ঘটে। অন্যথায় ছাগলের দ্বারা বন্দি হলে পরাজিত হয় বাঘ।

বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে-হাটে ছেলেবুড়ো সবাইকে একসময় এই খেলাটি খেলতে দেখা যেতো। এ খেলা খেলতে খেলতে অনায়াসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটিয়ে দেওয়া যায়। এখন আর ওই খেলা কাউকে খেলতেই দেখা যায় না।

বাঘবন্দিতে হলো শিকারের কৌশল। ঘুঁটির চাল দিয়ে ‘বাঘ’ নামের ঘুঁটি বন্দি করা হয় বলে এ খেলার নাম বাঘবন্দি হয়েছে। বাঘের চালে ঘুঁটি মারা পড়ে। খুব সতর্কতার সঙ্গে এ খেলা খেলতে হয়, ভুল ও খেয়ালি চালে পরাজয় অবশ্যম্ভাবী।

তথ্যসূত্র:

১. বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতির গ্রন্থমালা, বাংলা একাডেমি

২. বাংলাদেশের খেলাধুলা, রশীদ হায়দার, বাংলা একাডেমি


ট্যাগ:  খেলার জগৎ