২৭ মে ২০১৯, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

ফুল, মৌমাছি ও আরেকটা গল্প

  • অলীন বাসার, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2018-12-23 16:34:14 BdST

bdnews24
অলঙ্করণ: শিল্পী সোহাগ পারভেজ

ফুল ও মৌমাছি

একবার এক মৌমাছি খুব কষ্ট করে বাড়ি ফিরছিল। সে দুদিন কিচ্ছু খায়নি। ফেরার পথে হঠাৎ দেখল, একটা ফুল। ফুলটা ঘুমাচ্ছে। সে চুপি চুপি মধু খেতে পারবে।

মৌমাছি ভোঁ ভোঁ শব্দ করা বন্ধ করে উড়ে গিয়ে ফুলে বসল। এরপর মধু খাওয়া শুরু করে দিল। ফুল জেগে উঠল। বলল, এই মৌমাছি ভাই, তুমি আমার রক্ত খাচ্ছো কেন?

মৌমাছি বলল, ভাই আমি তো তোমাকে ব্যথা দিতে চাই না। তাহলে আমি কী খাব? ফুল বলল, তোমরা যদি আমাদের রক্ত খাও, তাহলে আমরা কীভাবে বাঁচবো? আমি নিরুপায়।

তখন ফুলের মাথায় হঠাৎ বুদ্ধি এলো। সে বলল, তোমরা এক কাজ করো। একটা সমাজসেবা কেন্দ্র খোলো। ফুলেদের তোমরা সেবা দেবে। আর খুশি হয়ে ফুলেরা তোমাদের রক্ত দেবে। তোমরা একটা প্রাসাদ তৈরি করে সেখানে বসবাস করবে। আর গর্তে বসবাস করো না। রাণীকে ঘটনাটা বলো।

রাণীর কানে ঘটনাটা গেলো। তার বুদ্ধিটা পছন্দ হলো। সে সেই প্রসাদ তৈরি করতে বলল। আর তখন থেকেই প্রাসাদে মধু থাকে। আর সেই প্রাসাদের নাম দেওয়া হলো- ‘মৌচাক’।

জব্দ

কয়েকদিন আগের কথা। শেয়াল তখন মন্ত্রীর পেশা ছেড়ে আবার শিক্ষা দেওয়া শুরু করেছে। কুমিরের ছেলে, হাতির মেয়ে, খরগোশের যমজ সন্তানসহ অনেক শিশু প্রাণী সেই বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করত।

সবাই শেয়াল পণ্ডিতকে খুব সম্মান করত। তবে রাজা সিংহের ছেলে তাকে একদম সম্মান করত না। শেয়াল পণ্ডিত অনেকবার চেয়েছে তাকে শাস্তি দিতে, তবে রাজার ছেলে বলে সে কিছু বলত না। শেয়াল পণ্ডিত আর সহ্য করতে পারলো না। সে রাজার কাছে নালিশ করতে বাধ্য হলো। রাজা সিংহ বললেন, তোমার তো বড় সাহস পণ্ডিত! আমার কাছে তুমি আমার একমাত্র পুত্রের নামে নালিশ করছ?

শেয়াল তখন ঘাবড়ে গেল। শেয়াল ভাবলো, যে রাজা মশাই বোধ হয় রেগে গেছেন। নালিশ না করলেই ভালো হতো। রাজা মশাই ক্ষমা করুন। ও তো অনেক ছোট। বোঝে না। এই কথা বলে শেয়াল লেজ নাড়ালো। তখন সিংহ শেয়ালের দিকে কটমট করে তাকিয়ে রইলো। শেয়াল ভাবলো, আজ বুঝি প্রাণ যাবে।

তখন সিংহ শেয়ালের ভয় ভেঙে দিয়ে বলল, তুমি কী ওর কেউ না? তুমি ওর শিক্ষক। আর শিক্ষক যা বলবে তাই শুনতে হবে। সে যতই রাজার ছেলে হোক। এরপর সৈন্যদের উদ্দেশ্যে বলল, যাও ওই অধম বালক সিংহকে ধরে নিয়ে এসো। শেয়াল তখন হাফ ছেড়ে বাঁচল।

শেয়াল বলল, না মহারাজ ওকে এভাবে শাস্তি দেওয়া যাবে না। রাজ্যে গোপনে প্রচার করুন, যাতে রাজকুমারকে দেখলে কেউ মাথা নত না করে। সবায় যেন বলে, তুমি শিক্ষককে মান্য কর না। আমরা তোমায় সম্মান করব না।

কথা মতো কাজ। এখন কেউ রাজকুমারকে সালাম দেয় না। সম্মান করে না। সবাই শুধু বলে, তুমি শিক্ষককে মান্য কর না। রাজকুমার তো তখন রেগে গরগর  করতে লাগলো। সে প্রাসাদে ঢুকে আগে রাজাকে খবরটা দিল।

রাজা তখন রাজকুমারকে বুঝিয়ে বলল, শোনো বাবা, তুমি ভালো করে পড়াশোনা করলে সবাই তোমাকে পছন্দ করবে। গুরুকে শ্রদ্ধা করতে হয়। তাহলে ভালো মানুষ হওয়া যায়। আমি যদি শিক্ষকদের সম্মান না করতাম তাহলে এতবড় রাজা হতে পারতাম?

রাজকুমার তখন নিজের ভুল বুঝতে পারলো। ভালোভাবে পড়াশোনা করল। শিক্ষককে সম্মান করল। জ্ঞানী ও সম্মানীয় হয়ে উঠলো। শেয়াল পণ্ডিত ও রাজা খুব খুশি হলো।

নীতিকথা: শিক্ষকদের সম্মান করতে হয়, না হলে ভুগতে হবে।

লেখক পরিচিতি: চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা। তার প্রকাশিত বই পাঁচটি। বইগুলোর নাম- অন্ধকারে ভূতরে ছায়া (২০১৫), ভূতুড়ে (২০১৬), ভুতুম (২০১৭), ভূতরে টউিশনি (২০১৮) ও পালোয়ানরে হার (২০১৮)।

কিডস পাতায় বড়দের সঙ্গে শিশু-কিশোররাও লিখতে পারো। নিজের লেখা ছড়া-কবিতা, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনী, মজার অভিজ্ঞতা, আঁকা ছবি, সম্প্রতি পড়া কোনো বই, বিজ্ঞান, চলচ্চিত্র, খেলাধুলা ও নিজ স্কুল-কলেজের সাংস্কৃতিক খবর যতো ইচ্ছে পাঠাও। ঠিকানা kidz@bdnews24.com। সঙ্গে নিজের নাম-ঠিকানা ও ছবি দিতে ভুলো না!


ট্যাগ:  দাদাইয়ের গল্প