২৩ মার্চ ২০১৯, ৯ চৈত্র ১৪২৫

নতুন ছড়ার প্রথম পাঠ

  • জোবায়ের মিলন, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-03-06 11:28:02 BdST

বই: কিলিক কিলিক মেঘের ঝিলিক, ছড়াকার: সুমন মাহমুদ, বই ধরণ: ছড়া, প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ: বনলতা সরকার, প্রকাশনী: অর্জন প্রকাশন, প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ২০১৯, মূল্য: ১২০ টাকা

সুমন মাহমুদের নতুন ছড়ার বই ‘কিলিক কিলিক মেঘের ঝিলিক’ পাঠ করলাম। আগেও পড়া হয়েছে তার মজার মজার শিশুতোষ ছড়া। এবার আরও একটু ভিন্ন স্বাদে পড়া।

ছোট ছোট ছকে, মাত্রায় প্রতিটি ছড়া শিশুমনে ছাপ ফেলার মতো গুটি গুটি পায়ে পুরো বইয়ে ছড়িয়ে রয়েছে। যারা বলেন ছড়ার যুগ শেষ, যারা বলেন সুকুমার রায়ের পর ছড়া আর তেমন এগোয়নি বেশিদূর, তারা বইটি হাতে নিলে দেখতে পাবেন ছড়া কেমন করে আনন্দ দিতে পারে শিশুকে।

২২টি ছড়া নিয়ে ‘কিলিক কিলিক মেঘের ঝিলিক’ বইয়ের প্রতিটি ছড়া বলেছে মেঘের কথা, রোদের কথা, বৃষ্টির কথা, ঘুড়ির কথা, লাটাই কথা, আকাশপাড়ের তারার কথা, দেশের কথা, ভাষার কথা। ছড়াগুলো পড়তে গিয়ে কোথাও ধাক্কা খেতে হবে, এমন কোনো শক্ত শব্দ সুমন মাহমুদ বসিয়ে দেননি একটি ছড়াতেও। শিশুরা খেলনা হাতে খেলতে খেলতে কোথাও যেমন কোনো বাধা পেতে পছন্দ করে না, ‘কিলিক কিলিক মেঘের ঝিলিক’ পড়তে গিয়েও কোথাও বাধা পেতে হয় না।

স্বরবৃত্ত মাত্রায় লেখা হলেও অনেক লেখক অনেক সময় কঠিন শব্দ, বাক্য, বিষয় ব্যবহার করেন। এই ছড়াকার এখানে শিশুদের কথা চিন্তা করেই কঠিনকে দূরে রেখেছেন সচেতনভাবে। বিষয়ের প্রতি খেয়াল করেছেন যত্নের সাথে। বইটি কোনো অভিবাবক তার শিশুসন্তানের হাতে তুলে দিলে শিশুটি একবিন্দু অখুশি হবে বলে মনে হয় না। স্কুলে বইটি পাঠ্য হতে পারে নিশ্চিন্তে।

স্বরবৃত্ত মাত্রার চাল ঠিক থাকলেও দু’এক জায়গায় শব্দ জড়িয়ে যাওয়া চোখে পড়েছে বটে; তবে তা উতরিয়ে যাওয়া যায়। অন্তমিল ঠিক রেখে দারুণ করে বলা হয়েছে শিশুর ইচ্ছে, খেলা, স্বপ্ন, শখগুলোর কথা। ছড়াগুলো পড়তে পড়তে কোথাও মনে হবে না অপ্রয়োজনীয় বিষয় টেনে তিনি খামোখা সাজিয়েছেন কোনো ছড়া। শিক্ষনীয় নানা দিকই এর ভেতরে নিহিত রয়েছে নিখুঁতভাবে- ‘খুকুর আছে রাঙা পুতুল, খোকার টিয়ে  পাখি/ খোকা এবং খুকুর মাঝে ভীষণ মাখামাখি।. . .খোকার আছে রঙিন ঘুড়ি, নেই কোনো তার জুড়ি/ খুকুর আছে দুহাত ভরা, রেশমি কাচের চুড়ি. . .।’

আবার অন্য একটি ছড়ায়- ‘রাতের আঁধার ভেদ করে যেই/ চাঁদ মামাটা আলো জ্বালায়/ শেওড়া গাছের ভূতগুলো সব/ দূরে বহু-দূরে পালায়/ জোছনা এসে এই জানালায়/ লুকোচুরি খেলায় মাতে/ স্নিগ্ধ আলোয়, ভালোবাসায়/ পরশ ছড়ায় নরম হাতে।’ এভাবে প্রতিটি ছড়ায় ছিটানো রয়েছে নানা রঙ, অন্তমিলের মাধুর্য, বিষয়ের সৌন্দর্য। ছড়াগুলোর মাঝে ডুব দিলে দেখতে পাওয়া যায় শিশুমনের ছবি- ‘আকাশ সাদা, আকাশ নীল/ নীলের পাশে, মেঘের তিল/ উড়তে গিয়ে দেখছে চিল।’

আবার যদি পড়ি- ‘উড়ছি উড়ছি, ঘুড়ি হয়ে উড়ছি/ ঘর থেকে পালিয়ে, রোদে একা পুড়ছি/ রোদটাকে পকেটে, চুপিচুপি পুরছি...।’ শিশুদের মনের আয়নায় সবসময় তো এই ছবিগুলোই ঘোরে, ওড়ে। রোদ, বৃষ্টি, ঝড়-তুষাণ উপেক্ষা করে শিশুরা তো এভাবেই হারাতে চায় যেমনটি লেখক তার ছড়ায় এনেছেন শব্দের যাদুতে। মনের ইচ্ছেগুলোর সাথে সাথে ইতিহাস চেতনাকেও বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে- ‘উঠোন ভর গোলাপ, গাঁদা/ এদের মাছে খোকার ছবি/ রোজ খুঁজে পান দাদা/ প্রিয় খোকা বায়ান্ন’র এক/ দুপুর রোদে একা/ পথে নামে, বুকে যে তার/ দীপ। শপথ লেখা/ মায়ের ভাষা ফিরিয়ে আনার/ অভয় দিয়ে মাকে/ রাজপথে সে নামিয়ে আনে/ প্রাণের মিছিলটাকে/. . .সেদিন থেকে দাদা আমার/ উঠোন জুড়ে গোলাপ, গাঁদার/ তৈরি করেন বাগান/ শহীদ খোকার হাজার স্মৃতি/ চোখের জলে জাগান।’

লেখকের প্রতি ভালোলাগা নয়, লেখার প্রতি ভালোলাগার অনুভূতিই কিছু বলতে প্রেরণা জোগিয়েছে। মনে হয়েছে ছড়াগুলো শুধু নামে ছড়া নয়, পাঠযোগ্য শিশুতোষ ছড়া, যা পাঠে ঋদ্ধ হবে শিশুরা। ‘চাঁদ কুমকুম/ কাড়ল যে ঘুম/ চোখের তারায়/ আঁকল সে চুম/ টাক ডমুডুম /লাগল যে ধুম/ ঘুমটা এখন/ চাঁদের কুটুম. . .।’ বিষয়ে রঙে বুননে লেখকের হাত আরও শাণিত ও আধুনিক করার অনুরোধ রেখে উজ্জ্বল আগামীর শুভকামনা করছি।

কিডস পাতায় বড়দের সঙ্গে শিশু-কিশোররাও লিখতে পারো। নিজের লেখা ছড়া-কবিতা, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনী, মজার অভিজ্ঞতা, আঁকা ছবি, সম্প্রতি পড়া কোনো বই, বিজ্ঞান, চলচ্চিত্র, খেলাধুলা ও নিজ স্কুল-কলেজের সাংস্কৃতিক খবর যতো ইচ্ছে পাঠাও। ঠিকানা kidz@bdnews24.com। সঙ্গে নিজের নাম-ঠিকানা ও ছবি দিতে ভুলো না!


ট্যাগ:  বইয়ের পোকা