১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬

বিনে পয়সার টেলিফোন

  • শেখ আনোয়ার, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-05-21 16:08:08 BdST

আজকাল  মোবাইল টেলিফোনে কথা বললে মিনিটে মিনিটে যে বিল উঠে তাতে দু-এক দণ্ড কথা বলাও মুশকিল। কথা বলার সময় টাকা খোয়ানোর চিন্তা মাথায় এলে কথা বলে কি সুখ আছে? বিনে পয়সার ফোন তো এজন্যেই দরকার।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বললেও এই ফোনের কোনো বিল আসে না। প্রিপেইডের টাকা কাটে না। কার্ড ভরা, ফ্লেক্সি  লোড করার ঝামেলা তো নেই-ই।

কিভাবে বানাবে এই ফোন?

বেশি কিছু লাগে না। কাগজের দুটো কাপ দিয়ে এমনই একটি টেলিফোন সেট তুমি নিজের হাতেই বানাতে পারো। এজন্য কাপের তলায় ছোট্ট করে ফুটো করে নাও। এবার এই ফুটোর মধ্যে নিচ দিয়ে লম্বা সুতোর একপ্রান্ত প্রবেশ করিয়ে কাপের খোলা মুখটি দিয়ে বাইরে বের করে আনো। সুতোর এই প্রান্তটির সঙ্গে দেয়াশলাইয়ের একটি কাঠি খুব শক্ত করে গিঁট দাও।

ঠিক একইভাবে সুতোর অন্য প্রান্তটি আরেকটি কাগজের কাপের নিচের ফুটো দিয়ে ঢুকিয়ে সুতোর মাথা বের করে দিয়াশলাইয়ের  কাঠির সঙ্গে গিঁট দাও। এক্ষেত্রে তোমাকে মনে রাখতে হবে, সুতোটি যতো বড় হবে ততো বেশি দূরে গিয়ে অন্যজনের সঙ্গে কথা বলতে তোমার সুবিধে হবে।

আর হ্যাঁ। অবশ্যই সুতোটি খুব কষে, আঁটো করে বাঁধবে, যেন ছিঁড়ে বা খুলে না যায়। যখন দুজন দুদিকে একটু দূরে গিয়ে দাঁড়াবে তখন যেন দেয়াশলাইয়ের কাঠিটি কাপের তলায় খুব শক্তভাবে আটকে থাকে। ব্যস। এবার বিনে পয়সায় যতো খুশি কথা বলার জন্য তোমার এই ফোন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। সুতোটি টান টান করে দূরে গিয়ে দুই বন্ধুর একজন কাপটি মুখে লাগিয়ে কথা বলো, অন্যজন কাপটি কানে ঠেকিয়ে ধরো। দেখবে কথা শোনা যাচ্ছে একদম স্পষ্ট।

দারুণ মজা তাই না!

কেমন করে এমন হয়?

এখানে মুখে ধরে রাখা কাপের মধ্য দিকে খুব আঁটো করে বাঁধা সুতোটি কম্পনের মাধ্যমে শব্দ পরিবাহিত হয়ে অন্যজনের কানে পৌঁছে যাচ্ছে। একজনের মুখের কথা অন্যজনের কানে শক্ত করে বাঁধা সুতোর মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে পৌঁছে যাবার এই নেপথ্য রহস্য কী?

এখানে কাপ দুটোর তলা মাইক্রোফোন বা স্পিকারের সঙ্গে থাকা পাতলা পর্দা বা তোমাদের কানের মধ্যচ্ছদার মতো কাজ করছে। প্রচলিত ফোনে মাইক্রোফোনের ডাইঅ্যাফ্রামে যখনই শব্দ তৈরি হয় তখনই তা কাঁপতে থাকে। এই ফোনে কাপের তলা তেমনই একটি ডাইঅ্যাফ্রামের কাজ করছে। এটি বারবার কেঁপে কেঁপে উঠছে এবং শব্দ শ্রবণযোগী করে তুলছে।

মনে রাখতে হবে, শক্ত করে টেনে ধরা সুতোর মাধ্যমে কাগজের কাপের এই টেলিফোনের শব্দ তরঙ্গ পরিবাহিত হয়ে থাকে। অন্যদিকে আসল টেলিফোনের ডাইঅ্যাফ্রাম বা মধ্যচ্ছদার কম্পন তরঙ্গ বৈদ্যুতিক আবহে রূপান্তরিত করে। এ কারণেই সাধারণ টেলিফোনে আঁকাবাঁকা তারের মধ্য দিয়েও শব্দ তরঙ্গ পরিবাহিত হতে পারে।

তবে বৈদ্যুতিক টেলিফোন এবং তোমার হাতে বানানো কাগজ ও সুতোর এই টেলিফোন কিন্তু একই রকম নিয়ম-নীতি, সূত্র ও কৌশল প্রয়োগ করে বানানো হয়েছে। সুতোর ফোন আর বৈদ্যুতিক তারের ফোন; যাই বলা হোক না কেন, দুটো ফোনের যে প্রান্ত শোনার জন্যে ব্যবহৃত হয় সে প্রান্তে আসা তরঙ্গ, শব্দে রূপান্তরিত হয়ে থাকে ফোন সেটের বা কাগজের কাপের মধ্যে থাকা মধ্যচ্ছদার বা ডাইঅ্যাফ্রামের কাঁপুনির কারণেই। এখানেও তাই হয়েছে।

লেখক পরিচিতি: শিশু-কিশোরদের মাঝে বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করার কাজে নিবেদিত শেখ আনোয়ার।  শিশুদের জন্য বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখি করছেন প্রায় দেড় যুগ। অগ্রণী ব্যাংক-বাংলাদেশ শিশু একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক শেখ আনোয়ারের প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৫২।

কিডস পাতায় বড়দের সঙ্গে শিশু-কিশোররাও লিখতে পারো। নিজের লেখা ছড়া-কবিতা, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনী, মজার অভিজ্ঞতা, আঁকা ছবি, সম্প্রতি পড়া কোনো বই, বিজ্ঞান, চলচ্চিত্র, খেলাধুলা ও নিজ স্কুল-কলেজের সাংস্কৃতিক খবর যতো ইচ্ছে পাঠাও। ঠিকানা kidz@bdnews24.com । সঙ্গে নিজের নাম-ঠিকানা ও ছবি দিতে ভুলো না!

ট্যাগ:  ফ্যান্টাস্টিক সায়েন্টিস্ট