ছোটগল্প: পাখা বন্ধু

  • বোরহান বিশ্বাস, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-05-25 17:58:45 BdST

bdnews24

পাখা আবার কারো বন্ধু হয় নাকি! কিন্তু কেউ যদি উপকারি বন্ধু, বৃক্ষ বন্ধু হয়, তবে পাখা কেনো বন্ধু নয়!

বিষয়টি আশ্চর্য শোনালেও এমনটিই ঘটেছে রোহানের ক্ষেত্রে। পাখার সঙ্গে তার বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। যাকে বলে পাখা বন্ধু।

খুব ছোটবেলায় রোহান যখন অল্প অল্প বুঝতে শুরু করে তখন থেকেই পাখার প্রতি তার বিশেষ আকর্ষণ তৈরি হয়। পাখা দেখা মাত্রই সে খুশিতে লাফিয়ে উঠতো। একেবারে শিশু অবস্থায় যখন বিছানায় শুয়ে রোহান কান্না করতো মা পাখা ছেড়ে দিতেন। সঙ্গে সঙ্গে তার কান্না থেমে যেত। কেউ কেউ এমন ঘটনা স্বচোখে দেখে বেশ মজাও পেতেন।

একবার আম-কাঁঠাল খাওয়ার নিমন্ত্রণে বাবা-মার সঙ্গে ফরিদপুরে নানা বাড়িতে বেড়াতে গেল রোহান। একদিন বিকেলে বাড়ির সবাই একসঙ্গে ঘুরতে বের হলেন। পথে বেশ কয়েকটি ছোট ছোট দোকান পড়লো। প্রতিটি দোকানে নানা রকমের সিলিং পাখা লাগানো ছিল। দেখা মাত্রই রোহান পাখার কাছে যেতে কান্না শুরু করলো। কেউ বুঝে ওঠার আগে বাবা-মা ঠিকই বুঝে গেলেন। পাখার কাছে নিতেই তার কান্না থেমে গেল। বিষয়টি দেখে সবাই হেসে উঠলো।

একজন বললেন, ও বড় হলে ইঞ্জিনিয়ার হবে। এটিই প্রথম নয়, রোহানের পাখা প্রীতি দেখে এমন উক্তি এর আগে অনেকেই করেছেন। নানা বাড়িতে বেড়ানোর সময় একদিন এক আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে গেলেন রোহানের বাবা-মা। সেখানে গিয়ে তারা গল্পে মেতে উঠলেন। আর রোহান ব্যস্ত হয়ে পড়লো বাসার কোন ঘরে কটা পাখা আছে তা দেখতে।

হঠাৎ তার চোখ আটকে গেল রান্না ঘরের অ্যাডজাস্ট পাখার দিকে। এমন পাখা এর আগে সে কখনো দেখেনি। থেকে থেকে সে অপলক দৃষ্টিতে পাখার দিকে তাকিয়ে থাকছে আর কী যেন ভাবছে। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হয়েছে। বাসায় ফেরার জন্য সবাই উঠে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু রোহানকে কোনোভাবেই রান্না ঘর থেকে সরানো যাচ্ছে না। মা রান্না ঘরের অ্যাডজাস্ট পাখার মতো একটি পাখা কিনে দেয়ার কথা বলে রোহানকে বের করে নিয়ে এলেন।

বাবা-মার কাছে বায়না ধরে রোহান প্রায়ই মার্কেটে যায়। আর সেখানে তার যাওয়ার উদ্দেশ্যটাও বেশ মজার। জামা কিংবা খেলনা কেনার জন্য নয়, তার আগ্রহ থাকে চটপটির দোকানগুলোতে ঘুরতে থাকা বড় বড় স্ট্যান্ড পাখার দিকে। সামনে-পেছনে সব দিক ঘুরে ঘুরে সে পাখা দেখতে থাকে। কিন্তু ছুঁয়ে দেখে না। কারণ, বাবা বলেছেন তাতে হাত কেটে যেতে পারে। তাই অল্প দূর থেকে দাঁড়িয়ে সে ঘুরতে থাকা পাখা দেখে।

মাঝে মাঝে পাখার প্রচণ্ড বাতাসের সামনে মুখ এগিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে থাকে। তখন তার চুলগুলো উড়তে থাকে। এটা অনেক উপভোগ করে সে। স্বল্প আলোতে নীল রঙের ডিম লাইটে অদ্ভুত সুন্দর দেখা যায় সিলিং পাখা। রোহান তার নাম দিয়েছে রঙিন পাখা।

অনেকেই রোহানকে পাখা বন্ধু নামে ডাকে। রোহানরা যে বাসাতে থাকে সে বাসার কাদের ঘরে কটা পাখা, কোন ব্র্যান্ডের পাখা সব সে বলে দিতে পারে। স্ট্যান্ড পাখা, সিলিং পাখা, ওয়াল পাখা, চার্জার পাখা, হ্যান্ড পাখা- সব তার মুখস্থ।

পহেলা বৈশাখে তারা ঢাকার এক আত্মীয়র বাসায় বেড়াতে গেলো। সেখানে প্রতিটি ঘরে আলাদা আলাদা ব্র্যান্ডের পাখা দেখে রোহান খুবই খুশি হলো। এ ঘর ও ঘর যাচ্ছে আর গভীর মনোযোগ দিয়ে পাখা দেখছে। হঠাৎ একটি ঘরের ওয়্যারড্রপের ওপর রাখা ছোট্ট চার্জার পাখার দিকে তার দৃষ্টি পড়লো। সেটা হাতে নেওয়ার জন্য আবদার করতে লাগলো। পাখাটি হাতে পেয়ে সে যারপরনাই আনন্দ পেল। পাখাটিকে কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চাইলো না। এমনকি হিসু দেওয়ার সময়ও সে একহাতে পাখাটিকে ধরে রাখলো। রোহানের আগ্রহ দেখে আন্টি বললেন, তুমি এটা নেবে? শুনেই সে পাখা হাতে দরজার দিকে এগিয়ে গেলো । দ্রুত বেরিয়ে যেতে চাইলো, যেনো আবার কেউ পাখাটি রেখে না দেয়।

মা বিদায় নিয়ে ছুটলেন রোহানের পেছন পেছন। আর রোহানের জুতো হাতে বাবা এগুলেন সামনের দিকে।

রাতে পাখাটি সঙ্গে করেই রোহান ঘুমোতে গেলো। বাবার কাছে পাখার গল্প শুনতে শুনতে সে ঘুমিয়ে পড়লো। ছোট্ট পাখা বন্ধুটিও যেন রোহানের সঙ্গে ঘুমিয়ে গেল। 

কিডস পাতায় বড়দের সঙ্গে শিশু-কিশোররাও লিখতে পারো। নিজের লেখা ছড়া-কবিতা, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনী, মজার অভিজ্ঞতা, আঁকা ছবি, সম্প্রতি পড়া কোনো বই, বিজ্ঞান, চলচ্চিত্র, খেলাধুলা ও নিজ স্কুল-কলেজের সাংস্কৃতিক খবর যতো ইচ্ছে পাঠাও। ঠিকানা kidz@bdnews24.com । সঙ্গে নিজের নাম-ঠিকানা ও ছবি দিতে ভুলো না!

ট্যাগ:  দাদাইয়ের গল্প