রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া কুকুরছানা

  • মৃত্তিকা সমাদৃতা, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-12-23 13:47:06 BdST

একটি কুকুর ছানা দৌড়ে এসে উঠল রোহিতের কোলে। এমনভাবে দৌড়ে এলো যেন রোহিতই তার আসল মালিক।

কুকুর ছানাটিকে সে পেয়েছিল রাস্তায়, একটি বাক্সের মধ্যে। তাকে দেখতে পেয়ে কুকুরছানাটি লাফিয়ে তার কাছে চলে আসে। আস্তে আস্তে তার সঙ্গে ভাব হয়। একসময় রোহিতই হয় তার আসল মালিক।

এরপর থেকে কুকুরছানাটি রোহিতের এত ভালো বন্ধু হলো যে শুধু খেলার সময়ই কেন, ঘুমানোর সময়ও কুকুরছানাটি তার সঙ্গী। এটা সত্যি কোনো ঘটনা নয়। রোহিত স্বপ্নে দেখেছে এ ঘটনা।

রোহিতরা দুই ভাইবোন। রোহিতের ছোটবোনের নাম রিমা। বয়স চার বছর। রিমা খুবই দুষ্টু। সে কথায় কথায় ছড়া কাটে। তাদের বাসার পাশে ছোট্ট একটা ঝোপ। সেখানে বাসা বেঁধেছে টুনটুনি। তাদের হুলো বেড়ালটির খুব হিংসে। বেজায় লোভ। সে সুযোগ পেলেই টুনটুনির বাসার দিকে তাকিয়ে থাকে।

একদিন রোহিত বসে ছিল, রিমা তাকে একটা ছড়া শোনাল। সেটি হলো:

‘আয়রে টুনি আয়

আমার কাছে আয়,

তোকে খাবো গবগবিয়ে

তোর ছানা খাবো কপকপিয়ে।’

শুনে রোহিত হেসেই শেষ। বলল, ভালোই ছড়া বানাতে পারিস তো।

রিমা ও রোহিত আজ মা-বাবার সঙ্গে বেড়াতে যাচ্ছে। তাদের খালামনির বাড়িতে। তাদের খালাতো ভাই নাসিফ। সেও দুষ্টু কম নয়। যেদিন রিমা-রোহিত আসে, সেদিন নাসিফ হইচই করে বাড়ি মাথায় তোলে।

দুপুরে খাবার খেয়ে রিমা-রোহিত বের হয়েছে বাড়ি থেকে। আজ রাস্তায় যানজট নেই। তাই পৌঁছতে দেরি হলো না। নাসিফ তো রিমা-রোহিতকে দেখে অবাক। তেমনি রিমা-রোহিতও অবাক। কারণ, নাসিফদের বাড়িতে এখন একটি কুকুর আছে, যা আগে ছিল না।

রিমা-রোহিতের বাবা জিজ্ঞেস করলেন, ব্যাপার কী, কী নাম ওর? নাসিফ বলল, ওর নাম ‘ডন’। ও আমার বন্ধু। রিমা-রোহিত-নাসিফের খেলতে খেলতে কখন যে সময় কেটে গেল, তারা বুঝতেই পারল না।

এবার যাবার পালা। রিমা-রোহিত ভাবল হেঁটে যাবে। যেই ভাবা সেই কাজ। মা-বাবাকে নিয়ে ওরা সবাই হেঁটে রওনা হলো। হাঁটতে হাঁটতে প্রায় বাসার কাছে চলে এসেছে।

এমন সময় ওরা রাস্তায় একটি বাক্স দেখতে পেলো। যার মধ্যে আছে একটি মিষ্টি  কুকুরছানা। ঠিক রোহিতের স্বপ্নের কুকুরছানাটির মতো। রোহিত বলল, মা, আমরা এই কুকুরটি নিই? তাদের মা বলল, না, ওকে কে পালবে? রিমা বলল, আমি পালবো মা। প্লিজ, ওকে নাও না মা।

ওদের অনুরোধ ফেলতে পারলেন না মা। বললেন, ঠিক আছে। কিন্তু ঠিকমতো যত্ন নিতে হবে। এ কথা শুনে রোহিত ভাবলো, তার স্বপ্নটা বোধ হয় সত্যি হয়ে গেলো।

মৃত্তিকা সমাদৃতা

মৃত্তিকা সমাদৃতা

লেখক পরিচিতি: মৃত্তিকা সমাদৃতা, বয়স ১০ বছর, চতুর্থ শ্রেণি, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ

কিডস পাতায় বড়দের সঙ্গে শিশু-কিশোররাও লিখতে পারো। নিজের লেখা ছড়া-কবিতা, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনী, মজার অভিজ্ঞতা, আঁকা ছবি, সম্প্রতি পড়া কোনো বই, বিজ্ঞান, চলচ্চিত্র, খেলাধুলা ও নিজ স্কুল-কলেজের সাংস্কৃতিক খবর যতো ইচ্ছে পাঠাও। ঠিকানা kidz@bdnews24.com। সঙ্গে নিজের নাম-ঠিকানা ও ছবি দিতে ভুলো না!

ট্যাগ:  দাদাইয়ের গল্প