ধূর্ত শিয়াল ও নেংটি ইঁদুর

  • মোহাম্মদ অংকন, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-03-03 15:41:59 BdST

bdnews24
অলঙ্করণ: সোহাগ পারভেজ

এক নদীর ধারে এক ধূর্ত শিয়াল বাস করে। সারাদিন নাক ডেকে ঘুমায়। সন্ধ্যা নামলেই শিকারের খোঁজে বেরিয়ে পড়ে।

নদীর ধারে কাঁকড়ার গর্ত দেখলে লেজটা ঢুকিয়ে অপেক্ষা করে শিয়াল। যখনই কাঁকড়া লেজ কামড়ে ধরে, তখনই সে লেজটা বের করে এনে ধপাস করে কাঁকড়াকে ধরে ফেলে। মচমচ করে চিবিয়ে চিবিয়ে খেয়ে ফেলে। কাঁকড়া খেতে শিয়াল বেশ পছন্দ করে।

সেদিন অনেক খোঁজাখুঁজির পরও ধূর্ত শিয়ালটা কাঁকড়ার গর্ত খুঁজে পাচ্ছিল না। জোয়ারের পানি সব কাঁকড়া ভাসিয়ে নিয়েছে। কাঁকড়া না পেয়ে সে ভীষণ দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। আজ বুঝি তার কপালে কাঁকড়া জোটে না আর।

কাঁকড়া না জুটলেও কিছুক্ষণ পর সে দেখতে পায় কয়েকটি নেংটি ইঁদুর খেলছে। তাদের মা কাছে নেই। ধূর্ত শিয়াল তা দেখে আর লোভ সামলাতে পারে না। কাঁকড়ার চেয়ে ইঁদুর যে আরও সুস্বাদু!

চুপিচুপি শিয়াল নেংটি ইঁদুরগুলোর কাছে এগিয়ে যায়। মনে মনে বলতে থাকে, ‘বাহ্, ইঁদুর ছানাগুলো দেখতে কত সুন্দর। ওদের খেতে পারলে আমার পেটটা ভরে উঠবে। আশপাশে ওদের মাকে তো দেখছি না। এই তো সুযোগ। হাহা হা!’

এমন কথা বলতে না বলতেই শিয়াল নেংটি ইঁদুরগুলোকে খপাত করে ধরে ফেলে। নেংটি ইঁদুরগুলো ভীষণ ভয় পেয়ে যায়। ‘মা’, ‘মা’ বলে চিৎকার করতে থাকে। মা ছুটে এসে দেখে তার বাচ্চাগুলো বিপদে পড়েছে।

কিন্তু সে কিভাবে তার বাচ্চাদের বাঁচাবে? শেষমেশ তাকে ধরে ফেলবে ভেবে মা-ইঁদুর আর বাচ্চাদের কাছে আসে না। বাচ্চাদের এমন বিপদ দেখে আপসোস করতে থাকে শুধু। ‘হায়! আমি কেন ওদের রেখে খাবার আনতে গেলাম। এখন আমার সোনামণিদের রক্ষা করি কিভাবে?’

নেংটি ইঁদুরগুলো ছোট্ট হলে কি হবে, ওরা বেশ চালাক ছিল। ওরা শিয়ালের হাতে বন্দি হয়ে মোটেও বিচলিত হল না। বরং কৌশল খুঁজতে লাগল। শিয়ালের সঙ্গে কথা বলে বোকা বানিয়ে কিভাবে নিজেদের উদ্ধার করা যায়, তাই ভাবতে লাগল।

‘তা শিয়াল মশাই, নদীর ধারে কাঁকড়া থাকতে, আমাদেরকে খাওয়ার দরকার হল কেন?’

‘না, মানে তোমরা অনেক সুস্বাদু।’

‘আমরা মোটেও সুস্বাদু না, হু। আমাদের চেয়ে সুস্বাদু হচ্ছে হাঁস-মুরগির ছানা।’

‘ওসব কী আমার কপালে জোটে রে ভাই।’

‘আমরা তোমার ব্যবস্থা করে দিব। আমাদেরকে খেয়ে তোমার পেটের সামান্য অংশও ভরবে না।’

ধূর্ত শিয়াল নেংটি ইঁদুরগুলোর কথায় ভীষণ অবাক হল। আবার হাঁস-মুরগির ছানা খাওয়ার প্রতি লোভও হল।

‘আচ্ছা, কিভাবে ব্যবস্থা করে দিবে বল তাহলে?’

‘আমরা তোমাকে এক বোকা খামারির বাড়িতে নিয়ে যাব। সেখানে তুমি খুব সহজে হাঁস-মুরগির ছানা পাবে। যত খুশি বসে বসে খেতে পারবে।’

শিয়াল নেংটি ইঁদুরগুলোর কথা বিশ্বাস করল এবং ওদেরকে ছেড়ে দিল। ওরা দৌঁড়ে মায়ের কাছে ছুটে গেল। মা ইঁদুর বাচ্চাদের পেয়ে ভীষণ খুশি হল। পরক্ষণে সে তার বাচ্চাদের বলল, ‘তোমরা শিয়ালকে যে কথা দিলে, তার কি হবে?’

‘ও নিয়ে তুমি মোটেও দুশ্চিন্তা কর না, মা। তুমি বাসায় ফিরে যাও। আমরা শিয়ালকে খামারির বাড়িতের পৌঁছে দিয়ে আসছি।’

তারপর, শিয়ালকে সঙ্গে নিয়ে নেংটি ইঁদুর ছানার দল এক খামারির বাড়ির দিকে রওনা করল। কিছুদূর যাওয়ার পরই তারা সেখানে পৌঁছে গেল।

‘শিয়াল মশাই, ওই দেখ, কত হাঁস-মুরগির ছানা। তুমি ইচ্ছেমত সেখান থেকে ধরে খাও। খামারি নিশ্চিত নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে এখন।’

এত এত হাঁস-মুরগির ছানা দেখে শিয়াল তো ভীষণ লোভে পড়ে গেল। সে একবারও তার বিপদের কথা ভাবল না। নেংটি ইঁদুর ছানাগুলোকে ধন্যবাদ দিয়ে শিয়াল খামারের দিকে এগিয়ে যেতে থাকল।

খামারির এক পোষা কুকুর ছিল। সে বাড়ির গেটে বসে বাড়ি পাহারা দেয়। শিয়ালকে শায়েস্তা করতে নেংটি ইঁদুরগুলো কুকুরের কাছে ছুটে গেল। কুকুরটি তখন ঘুমাচ্ছিল।

‘কি ব্যাপার, কুকুর মশাই, রাতের বেলা এভাবে ঘুমালে চলবে? ওদিকে যে তোমার মালিকের হাঁস-মুরগির ছানা শিয়াল এসে কামড়ে খাচ্ছে, সে খেয়াল কি আছে?’

নেংটি ইঁদুর ছানাগুলোর কথা শুনে কুকুরটি লাফিয়ে উঠল। ওমনি দৌড়ে গিয়ে ঘেউ ঘেউ করে তার মালিককে ডেকে তুলল। মালিক বুঝতে পারল, তার খামারিতে চোর কিংবা শিয়াল এসেছে। তাই সে দৌড়ে গেল।

ততক্ষণে শিয়াল একটি হাঁস-মুরগির ছানাও খেতে পারেনি। খামারি গিয়ে দেখে শিয়ালটি ঘুরছে। এ দেখে সে খুব কৌশলে শিয়ালকে জালে আটকে ফেলল। শিয়াল তো ভীষণ বিপদে পড়ে গেল এবার। ‘বাঁচাও’, ‘বাঁচাও’ বলে চিৎকার করতে থাকল। কিন্তু লাভ হল না। খামারি তাকে খাঁচায় বন্দি করে ফেলল।

খাঁচায় আটকা পড়ে শিয়াল মনে মনে বলতে লাগল, ‘আমি এত চালাক হয়েও সামান্য নেংটি ইঁদুরদের কাছে প্রতারিত হলাম। ওদেরকে না খেয়ে ছেড়ে দেওয়া আমার বড্ড বোকামি ছিল। এখন আমায় রক্ষা করে কে?’ 

ওদিকে নেংটি ইঁদুরগুলো শিয়ালকে শায়েস্তা করতে পেরে হাসতে হাসতে বাড়ি ফিরে গেল। বাড়ি ফিরে যখন তাদের মায়ের কাছে শিয়ালকে শায়েস্তা করার ঘটনা বলল, মা ইঁদুর ভীষণ হাসল। আর তার বাচ্চাদের প্রশংসা করল।

কিডস পাতায় বড়দের সঙ্গে শিশু-কিশোররাও লিখতে পারো। নিজের লেখা ছড়া-কবিতা, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনী, মজার অভিজ্ঞতা, আঁকা ছবি, সম্প্রতি পড়া কোনো বই, বিজ্ঞান, চলচ্চিত্র, খেলাধুলা ও নিজ স্কুল-কলেজের সাংস্কৃতিক খবর যতো ইচ্ছে পাঠাও। ঠিকানা kidz@bdnews24.com। সঙ্গে নিজের নাম-ঠিকানা ও ছবি দিতে ভুলো না!

ট্যাগ:  দাদাইয়ের গল্প