তুবা মায়ের প্রথম রান্না, জোলাপাতি দিন

  • ফারুক সুমন, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-03-31 23:59:43 BdST

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস আতঙ্কে গৃহবন্দি মানুষ। বড়রা যদিও বই পড়ে কিংবা ভার্চুয়াল ভুবনে ব্যস্ত সময় কাটাতে পারেন, কিন্তু শিশুরা? কার্টুন দেখে দেখে আর যেন সময় কাটতে চাইছে না তাদের।

উৎসুক হয়ে তারা ইতিউতি খুঁজে ফেরে নতুন কোনো খেলা। কিন্তু কোথায় পাবে সে? এই যন্ত্রসভ্যতা কিংবা ঝলমলে আধুনিতার চাপে তার ফ্ল্যাটবন্দি জীবন। ক্রমশ হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামীণ ঐতিহ্যময় ধুলিবালি দিন।

চুরি হয়ে যাওয়া শৈশবের কথা মনে পড়লে, এখনো আমরা কিছু সময়ের জন্য স্মৃতিকাতর হয়ে যাই। বিশেষ করে ‘জোলাপাতি’ খেলার দিন সে কী আনন্দ! কেউ হাট থেকে চালডাল (আদতে ধুলিবালি) কিনে নিয়ে আসি। পুকুর থেকে কচুপাতা ভরে কেউ তোলে পানি। কিন্তু রান্নাঘরে আসতে না আসতেই সেই পানি ঝরে পড়ে যায়।

কেউ খুঁজে আনে জ্বালানির জন্য শুকনো পাতা কিংবা খড়ি। হলুদ মরিচ হিসেবে ইটের গুড়ো। ঘাসফুল কিংবা লতাপাতা দিয়ে রান্না হয় সবজি। ছোট ছোট হাড়িপাতিলে রান্না চড়িয়ে পরস্পরের মধ্যে চলে পাকামো কথোপকথন। কেউ সাজে জামাই, কেউ সাজে বউ। এসব দেখে বড়রা দূর থেকে মুখ টিপে হাসেন। উঠোনের এককোণে, গাছতলায় কিংবা বারান্দায় রান্নাঘর তৈরি করে শুরু হয় শিশুদের রান্নাবান্না। মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ঘর্মাক্ত হয়ে সে কী রান্নার আয়োজন!

বেলা পড়ে সন্ধ্যা হলো। তবুও রান্নাবাড়ার কাজ যেন আর ফুরোয় না। রান্না শেষে দেওয়া হয় পুতুলের বিয়ে। পুতুলকে বিদায় দিয়ে বড়দের অনুকরণে হাউমাউ কান্না। তারপর দেয় একে অপরকে সান্ত্বনা। আহা, কোথায় হারিয়ে গেল অনাবিল সেইসব ধুলিমাখা দিন!

করোনাভাইরাসের দুর্দিনে তুবা মামণি শহর ছেড়ে নানির বাড়িতে বেড়াতে এসেছে। গ্রামীণ শিশুদের সঙ্গে তুবাও খুঁজে পেয়েছে নতুন এক বিস্ময়। উদোম গায়ের শিশুদের দেখাদেখি সেও শুরু করেছে ‘জোলাপাতি’ খেলা। অঞ্চলভেদে এ খেলার নামেও তফাৎ দেখা যায়। ‘খুটিপাতিল’, ‘টোলামালি’ এবং ‘রান্নাবাটী’ নামেও পরিচিত। নগরজীবনে শিশুরা এসব খেলা থেকে বঞ্চিত হয় বৈকি।

আসুন, আমরা আমাদের সন্তানদের চুরি হয়ে যাওয়া এসব খেলায় অভ্যস্ত করি। তাদের স্মৃতিতে জমা রাখি আগামীর স্মৃতিমধুর সঞ্চয়, মাটিলগ্ন দিন।

কিডস পাতায় বড়দের সঙ্গে শিশু-কিশোররাও লিখতে পারো। নিজের লেখা ছড়া-কবিতা, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনী, মজার অভিজ্ঞতা, আঁকা ছবি,সম্প্রতি পড়া কোনো বই, বিজ্ঞান, চলচ্চিত্র, খেলাধুলা ও নিজ স্কুল-কলেজের সাংস্কৃতিক খবর যতো ইচ্ছে পাঠাও। ঠিকানা kidz@bdnews24.com। সঙ্গে নিজের নাম-ঠিকানা ও ছবি দিতে ভুলো না!

ট্যাগ:  আমার কাজ