একজন অনুপম কিংবা অনুপমার গল্প

  • আনিসা তাসনিম, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-09-17 23:14:47 BdST

bdnews24
অলঙ্করণ: শিল্পী চারু পিন্টু

নাহ! আমাকে ছাড়। যাব না। যাবো না তো বলছি। মা...।

কি হয়েছে অনুপা? অনুপা? বিনুর গায়ের ধাক্কায় চমকে উঠে চোখ খুললো অনু। বিনু সম্পর্কে তার চাচাতো বোন। তার মুখের উপর ঝুঁকে আছে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে।

ইশ, মেয়েটাকে যে কী মিষ্টি লাগছে। শীতের নরম রোদ পুরান ঢাকার এই দোতালার শতবর্ষ পুরনো জানালার গ্রিল ফাঁকি দিয়ে পর্দা গলিয়ে পড়েছে ওর মুখে। সে মুখে রাজ্যের মায়া, টলটলে কাজল কালো দীঘির মত চোখে তীব্র কৌতুহল। অনু মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে বাংলা সিনেমার নায়িকার মত কিংবা নায়কের মত হা হয়ে অপলক দৃষ্টিতে যখন বিনুকে দেখেই যাচ্ছিল, তখনি বিনু বলে উঠলো, কি ভাই? ভয় ভয় পেয়েছিলে বুঝি আবার? আচ্ছা কেন এত ভয় পাও বলো তো?

বলেই একটা হাই তুলে পাশ ফিরে ঘুমিয়ে পড়ল। উত্তর শোনার অপেক্ষা করার ভদ্রতাটুকু অনুপার সাথে না করলেও চলে বিনুর। কেনই বা করবে সে অপেক্ষা। অনুপা তো কথাই বলতে জানে না। সেই যে ছোটবেলায় আড়াই তলার স্টোর-রুম লাগোয়া সিঁড়ি দিয়ে অনুপা পড়ে গেল তারপর আর কেউ তার মুখ থেকে কথা শোনেনি।

দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়ে অনু। ওই দিনটির কথা কোনদিনও ভুলবে না সে। যেদিন চাচি পেছন থেকে তাকে ধাক্কা দিয়ে...না না...আর ভাবতে পারেনা সে। দম বন্ধ হয়ে আসছে। কয়টা বাজে আজ? ৯টা বাজে! বাপরে বাপ...এত বেলা পড়ে গেল! চাচি তো এতক্ষণে এসে আকাশ-পাতাল কাঁপানো ভয়ঙ্কর সব কুরুচিপূর্ণ আলাপ-আলোচনা করে এই নবাবজাদী ওরফে অনুকে প্রতিদিনকার মত বুঝিয়ে দিয়ে গেল না যে, সত্যি সত্যি এই বাড়িতে তার অবস্থান কোথায়!

হাহ্, তার অবস্থান! তার থাকার কথা কোথায়, কোথায় থাকতে হয়। সবই সে জানে। তাইতো প্রতিবার ভাবলেই বুকটা ধক করে একবার কেঁপে ওঠে। ওই তো চাচিকে দেখা যাচ্ছে। হাসি হাসি মুখে তাকে দেখা যাচ্ছে, এমা! হাতে দেখছি আবার সকালের নাস্তা। বড় লোকেরা আদিখ্যেতা করে কি যেন বলেন, ও হ্যাঁ বেড টি! আজ হঠাৎ এই ঝি-চাকরকে বেড-টি নিয়ে আপ্যায়ন, এর পেছনে মতলবটা বিন্দুতেই সে ধরতে পারে না। কই আজ তো তার শুটের ডেট নেই। আর থাকলেও তো চাচি এমনটা করেন না। কী হলো...কী হলো...শুটের নগদ পারিশ্রমিক? তাও তো সে দিয়ে দিয়েছে।

তবে এবার ওর ভাবনার অবসান হল যখন চাচ্ছি ওর মাথায় হাত দিলেন। বললেন, অনুমা তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে। পাশের বাসার বাড়িওয়ালার ছেলের নাকি গায়ে হলুদ আজ। তোকে নাচতে হবে সেখানে। যা মা যা উঠে পড়, বুঝি রে তোর কষ্ট। কিন্তু কী করবি বল, আজ যদি তোর চাচা বেঁচে থাকতেন তাহলে তো...থাক গে..। যাহ্, তুই উঠে পড়।

এতোক্ষণে বুঝতে পারল অনু, আজ তার অত আদর আপ্যায়ন কেন কপালে জুটেছে। নাচতে হবে যে তাকে আজ! না হলে তার মাথায় চাচি কোনদিন স্নেহের পরশ বুলিয়ে দিতেন না। তাকে স্পর্শ করতে যে সমাজের ঘৃণা হয়। সমাজে নাকি সে নিষিদ্ধ। সমাজ! উম...কে সমাজ?...কীসের সমাজ...কে সংজ্ঞা দেয় এই সমাজের! কে! তাকে খুব দেখতে ইচ্ছে হয় এই অনুর। খুব জানতে ইচ্ছে হয় এই সমাজ কী আসলেই নৈতিকতা ও মনুষ্যত্বের মানদণ্ড!

এই সমাজ কী জানে কথা বলার সক্ষমতা থাকলেও না বলতে পারার অনুভূতি। জানে এই সমাজ যে বছরের পর বছর নির্বাক হয়ে অভিনয় করার অনুভূতি?

সমাজ কী পারবে ছেলে হয়েও মেয়ের মতো, না না...মেয়ে হয়ে থাকার অভিনয় করতে। অভিনয়! হ্যাঁ, সে যে এক মস্ত বড় অভিনেতা। অভিনয়ই নাকি তার বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল বলেন চাচি। তাই তো সেই ছোট্টবেলা থেকেই ছেলে হয়েও মেয়ে তথা নারীর চলন-বসন রপ্ত করে পাকা রমণী বনে গেছে সে।

সৃষ্টিকর্তা তাকে দুই হাত ভরে সৌন্দর্য দান করেছেন। যে সৌন্দর্যের  ঝলকানিতে আজ সে অভিশপ্ত। কী দরকার ছিল নারীর বহু আকাঙ্ক্ষিত অলংকার, বলতে গেলে তার অস্ত্র এই সুন্দর মুখশ্রীটুকু তাকে উপহার দেবার।  অনেক সময় তীব্র বাসনাময় বস্তুও যে অভিশপ্ত জীবনের চাবিকাঠি হয়, পুরুষের দেহ আদলে এই অপরূপ নারী মুখশ্রী তারই প্রমাণ। যার কারণে আজ সে তুমুল মুখরোচক। বহু পুরুষের কাম-বাসনার উৎস।

হাসছেন? তা আপনি ওইপারে বসে হাসতে পারেন বটে। তবে নিজের সুন্দর মুখশ্রীর কারণেই কেবল বারবার চাচির ছোট ভাইয়ের লোভাতুর দৃষ্টিতে আটকে যাওয়া, একমাত্র অনুই জানে গা বাঁচিয়ে নিজের দেহের অজানা রহস্য লুকিয়ে কীভাবে এক ছাদের তলায় থেকে ধুকে ধুকে বেঁচে আছে সে।

দফারফা তো হয়েই যেত একদিন যদি না সেদিন পাশের বাড়ির টিংকু মামার মা না দেখে ফেলতেন, আর মেয়ে মনে করে জাত যাবে বলে তাকে রক্ষা না করতেন। উফ, কত ভাবনা। বিছানা ছেড়ে বাসিমুখেই অনু আয়নার সামনে বসল। বয়স কত হবে তার, ২৫। হ্যাঁ তা হবে। এই বয়সে মেয়েরা আয়নার দিকে তাকিয়ে নিজের রূপের মহিমার তারিফে ব্যস্ত থাকে। কীভাবে নিজেকে আরো অনিন্দ্য সুন্দর ভাবে গড়ে তোলা যায়, তাই ভাবে।

এদিকে অনু আয়নায় তার বড় বড় ঘন কালো চোখের পাপড়িওয়ালা, টিকালো নাক, চিকন চিবুক, পাতলা ঠোঁট, নরম গোলাপি আভায় দ্বীপ্তিমান গালের দিকে তাকিয়ে থাকে চরম বিষণ্নতায়। তবে তার রূপের তেজ এমনই, মাঝে মাঝে থমকে যায় সে নিজেও। কেন প্রকৃতি এত রহস্য পছন্দ করে, তা না হলে কেন এত রূপ লাবণ্যময় মেয়েলি চেহেরার অধিকারী হতে হবে তাকে। এই রূপ তো বিনুও পেতে পারত।

কতই না গঞ্জনা শুনতে হয় তাকে সমাজে। চাপা গায়ের রং, তেমন উল্লেখযোগ্য মনে রাখার মতো মুখশ্রী তার কপালে জোটেনি বলে বিয়ের ফুলও তার ফোটেনি। এই নিয়ে লোক হাসাহাসিও কম হয় না। বিয়েটা যে তার জন্যই হচ্ছে না, তা সে ভাল করেই জানে। বরপক্ষ দেখতে এলেই অনুকে বাগিয়ে নিয়ে যাবার বায়না করে, কানাকানিও কম হয় না এই নিয়ে। বিনুরও যে তার অনুপার প্রতি চাপা রাগ, তা আর বুঝতে বাকি নেই অনুর। মুখে বলে না, কিন্তু তার চাহনিই বলে দেয় এই রূপ, রস, লাবণ্য তারই ভালোবাসার চক্ষুশূল।

ভালোবাসা, ছি ছি ও আবার কী কথা। এ যে সমাজ-ছাড়া কথাবার্তা। কিন্তু, এ বেলায় অনু নিজেকে এই বলে আশ্বত করে তার আবার সমাজ আছে নাকি। নাহ, বিনু  মেয়েটাকে সত্যিই সে ভালোবাসে। সেই ছোট্টবেলা থেকে, আচ্ছা সমাজ কি জানে? বছরের পর বছর একই ছাদের তলায়, একই ঘরে থেকে নিজের ভালোবাসাকে নিজের মতো করে না ছুঁয়ে দেখতে পাবার অনুভূতি! না কাছে টেনে নিতে পারার অনুভূতি!

প্রকৃতিই তো বাধ্য করে নারী-পুরুষের তীব্র আকর্ষণকে জাগ্রত করতে। তবে এখানে আবার সমাজ তাকে আটকে রাখছে কেন? রাখবেই না বা কেন, ভাবে অনু। তাকে কি কোনদিন মেনে নেবে এই বিনু! বুঝবে তার ভালবাসাকে! সে কেন, কেউ কি বুঝবে। বছরের পর বছর যাকে বোন হিসেবে জড়িয়ে ধরেছে বিনু, তার গায়ে পুরুষ পুরুষ গন্ধ কী মানিয়ে নিতে পারবে! বিনু কি করবে তখন? ভেবেই গায়ে বিদ্যুৎ খেলে যায় অনুর। এতক্ষণ আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়ে থাকা সেই চাহনি মুহূর্তেই কর্পুরের মতো উবে যায়, চোখ ফিরিয়ে নেয় চরম ঘৃণায়, অপারগতার গ্লানিতে।

অনুপমা, বেশ লম্বা চুল হয়েছে তো তোর। বাব্বাহ্। আমাদের বংশের কারো এমন নেই, সত্যিই আল্লাহ তোকে দুই হাত ভরে দিয়েছেন। যেমন বেশ, তেমন কেশ। গত মাসেই এমনটা বলেছিলেন তমা ফুফু। শুনে কিছু বলিনি, বলতে তো তার বারণ। এই বলাবলির ফাঁকে কিনা আবার তার মোটা ভারি গলার পুরুষকণ্ঠ পৃথিবীর কাছে খোলাসা হয়ে যায়। জানেন তো, ছোটবেলায় ওর অনেক কষ্ট হতো। কথা না বলে থাকতে, চাচি তাকে অনেক সাহায্য করেছিল। প্রতিবার মুখ ফসকে কথা বলার অপরাধে তার পুরুষাঙ্গে কতশত খুন্তি পোড়ার ছ্যাঁকা দিয়েছেন চাচি। তখন মরে গেলেই বোধ হয় ভাল হত।

তবে মৃত্যু সে-ও এত সোজা নয়। সমাজ আত্মহত্যাকে মেনে নেয় না। প্রকৃতি তাকে মরণ দেয় না। কী করবে সে? অভিনয় করবে? তা বেশ, সে তো করছেই। তবে পারিশ্রমিক কিন্তু ষোলআনা চাচিই নিচ্ছেন। কী ভাবছেন? ভাবছেন যে, না করলেই তো হয় এই অভিনয়। তাই? কী মনে হয়, ছোটবেলায় চেষ্টা কি কম করে দেখেনি এই অনুপম কিংবা অনুপমা! তাতে লাভের লাভ যতটুকু হয়েছে, শারীরিক যাতনার পাশাপাশি মানসিক নির্যাতনও যুক্ত হয়েছে তার সঙ্গে।

চাচি বলেছেন, অনুকে নাকি তাহলে নেংটা করে তার সমাজে পাঠিয়ে দিবেন। তার সমাজ? হ্যাঁ হ্যাঁ, ওই যে হিজড়ার সমাজ। অর্ধমানব কিংবা অর্ধমানবী

এত বড় করে কতজনই বা বলে। এসেছিলো তো ওরা, টিংকু মামার ছেলে হবার পর। পেট বাঁচানোর তাগিদে তাদের ভয়ংকর কীর্তি তথা কালবেলার নৃত্য অনু তোলেনি। রোজ রাতেই তো স্বপ্ন দেখে তাকে নিয়ে যেতে এসেছে তার সমাজ, সেই সমাজ যে বড়ই অন্ধকার। তাইতো আজও এই ভদ্র সভ্যের সমাজে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে নিয়মিত প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করছে সে। ধুকে ধুকে শেষ হচ্ছে, তবে সমর্পন করছে না।

ভাবতে ভাবতেই নিজের ঊরু পর্যন্ত ঝুলে পড়া চুলে হাত বোলাতে থাকে সে। সে, আসলেই কে সে, অনুপমা নাকি অনুপম। বাড়িতে সবাই তাকে অনু নামে ডাকে। তাই খুব একটা ধরতে, ঠাওর করতে কষ্ট না। তবে মাঝে মধ্যে আশপাশে কেউ না থাকলে চাচি তাকে অনুপম নামে ডেকে তার অবস্থান, সমাজ, প্রকৃতি বুঝিয়ে দেন। তাতেও খুব একটা সমস্যা না। সমস্যাটা হয় তখন যখন বাইরের কেউ তাকে অনুপমা নামে ডাকেন। আচ্ছা প্রকৃতি যদি জানতো একজন ছেলে হয়ে মেয়ের পরিচয় বাস করাটা কতটা কষ্টকর তাহলেও কি এতটা নিষ্ঠুর হতে পারতো! কে জানে, হয়তো সমাজও তখন একটু নমনীয় হতো।

প্রকৃতি নৈতিকতায় বিশ্বাসী। সমস্ত সুন্দর কিছু প্রকৃতির দান। প্রকৃতি আধ্যাত্মিকতা ও রহস্যের পূজারী। একই সঙ্গে বিশুদ্ধতার। প্রকৃতির নিয়মই সমাজে শিরধার্য। সেই প্রকৃতিই তার বিরুদ্ধে জঘন্যতম ষড়যন্ত্র রটনা করেছে। সমাজকে আর কী বলে দোষ দেবে সে। সর্বদা বাস্তববাদী এই তথাকথিত সমাজ কেনো মেনে নেবে এই প্রকৃতির কালিমাকে, অভিশপ্ত দানকে।

খক খক করে কেশে উঠছে অনু, কি করেছে সে! চুল নিয়ে খেলতে ভালবাসে, চুল দিয়েই কি সে দড়ি পাকালো? পাকিয়েছে, তা বেশ তো, আজই খেল খতম হয়ে যাক। কোমরেরও অনেক নিচ পর্যন্ত ছুঁয়ে যাওয়া দীঘল কেশ তার খেলা দেখাতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করল না এবার। সবাই অন্যায় করলেও একরাশ দীর্ঘ কালো চুল কিন্তু ধোকা দেয়নি।

বিকেলে মসজিদ থেকে খাটিয়া এসেছে অনুকে গোসল করিয়ে কবর দেবার জন্য। এটাই ইসলামের রীতি। যদিও অনু এই রীতির মাথা খেয়ে আত্মহত্যার মতো হারাম কাজটি করে বসেছে। এই জানাজা কেবল লোক দেখানোর জন্য। রুহুর কষ্ট এতে কমবে না। হুজুরসহ সবাই এসব যখন বলাবলি করছিলেন, তখন পাশের ঘর থেকে এক মহিলা বলে উঠলেন, হায় হায় খালাম্মারা দেইখ্যা যান, এ তো পুলা মানুষ!

এতো বছর পর সত্য উন্মোচিত হল। প্রকৃতি তার কালিমা, তার রহস্য, অপারগতা জগতের সামনে মাথা পেতে নিল। তাতে কী হয়েছে, সমাজ এ মেনে নেবে না। এই ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে মসজিদ থেকে যারা এসেছিলেন সবাই চলে গেছেন, আশপাশের মানুষও ছুটলেন একে একে। বিনু এদিকে চোখের পানি ফেলার বদলে ঘেন্নায় মরে যাচ্ছিলো। এতদিন সে এক ছেলের সঙ্গে....ছি ছি। চাচির ছোট ভাই কেমন এক অস্বস্তিতে বমি বমি ভাব নিয়ে সারা বাড়ি ঘুরছেন।

চাচি তার রুমে খিল দিয়ে ভাবছেন এখন কীভাবে সংসার চলবে। আয় রোজগার কীভাবে হবে। আর অনু, অনুপম নাকি অনুপমা, সে পড়ে আছে তাদের বিশাল দোতলা বাড়ির এক চিলতে উঠোনে। মাছি বসে আছে দুটো তার সেই সুন্দর চোখের উপর। দূর থেকে তাকিয়ে দেখছে তাকে বিলু, পাশের বাড়ির কুকুরটা যাকে খুব ভালোবাসতো সে। দেখছে না পাহারা দিচ্ছে, কে জানে। শুনেছি পশুদের মধ্যেও নাকি একটু আধটু মনুষত্ব আছে।

রাত আড়াইটা-তিনটা বাজে, এতক্ষণে বাড়ির সব ঘুম। এলাকায় জানাজানি হয়ে গেছে। অভিশপ্ত খবর বাতাসের আগে আলোর বেগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছড়ায়। অনুর খুব গরম লাগছে। তার গা থেকে কেমন যেনো পচা দুর্গন্ধ বেরিয়েছে। বিলুটাও নেই। তার মনুষ্যত্বের পার্টটুকুও চুকে গেছে। পরনে আজ তার এক টুকরো কাপড় নেই। তাও এত গরম লাগছে কেন, হঠাৎ হিম শীতল বাতাস গায়ে লাগলো কেমন যেন। সজোরে দরজা খোলার আওয়াজ, কে? কে এসেছে? একদল মানুষ। মানুষ? হ্যাঁ মানুষ। অপূর্ণ মানুষ? হিজরা? নপুংসক? কী জানি? যা ইচ্ছে বলার বলো, তাতে কোনো আপত্তি নেই তাদের। আজ তারা কালবেলার উলঙ্গ নৃত্য প্রদর্শনে আসেনি। আসেনি জীবিকার তাগিদে। এসেছে মানবতার তাগিদে। অনু ওরফে অনুপমা কিংবা অনুপমকে শেষ শান্তিটকু দিতে হবে যে।

লেখক পরিচিতি: শিক্ষার্থী, দ্বাদশ শ্রেণি, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ

কিডস পাতায় বড়দের সঙ্গে শিশু-কিশোররাও লিখতে পারো। নিজের লেখা ছড়া-কবিতা, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনী, মজার অভিজ্ঞতা, আঁকা ছবি, সম্প্রতি পড়া কোনো বই, বিজ্ঞান, চলচ্চিত্র, খেলাধুলা ও নিজ স্কুল-কলেজের সাংস্কৃতিক খবর যতো ইচ্ছে পাঠাও। ঠিকানা kidz@bdnews24.com। সঙ্গে নিজের নাম-ঠিকানা ও ছবি দিতে ভুলো না!