কল্পবিজ্ঞান গল্প: উড়োজাহাজ অপহরণ

  • কল্যাণী সেন, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-09-23 17:37:57 BdST

bdnews24
অলঙ্করণ: আরীব নেওয়াজ, দ্বিতীয় শ্রেণি, বিএএফ শাহীন স্কুল, চট্টগ্রাম

সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সায়ান বিমানে উঠলো। গিয়ে বসল নিজের সিটে। ছোটখাটো একটি বিমান। সব মিলিয়ে শ’খানেক যাত্রী হবে।

সব সিটেই যাত্রী আছে, শুধু তার ঠিক পাশের সিটটি খালি। প্রত্যেকের সামনের সিটের সঙ্গে একটি করে মনিটর লাগানো। যাত্রীরা যাতে নাটক-সিনেমা দেখতে দেখতে অথবা গান শুনতে শুনতে গন্তব্যে পৌঁছতে পারে সেজন্য এ ব্যবস্থা।

পাশের সিটে কুড়ি-একুশ বছরের একটি মেয়ে তার বোনকে শেখাচ্ছে কিভাবে মনিটরটি চালু করতে হয়। বোনটি তার থেকে ছয়-সাত বছরের ছোট হতে পারে। সায়ান তার ল্যাপটপটি বের করে কিছু জরুরি কাজ সেরে নিল। বিমান থেকে নেমে খুব একটা সময় পাওয়া যাবে না। সোজা চলে যেতে হবে সেমিনারে। তার প্রকল্পটি ইতোমধ্যে বেশ সমাদৃত হয়েছে। তাইতো এত বড় প্রতিষ্ঠান তাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

বিমান আকাশে উড়ে গেছে কয়েক মিনিট হয়ে গেল। মাত্র আধ ঘণ্টার জার্নি। মেয়ে দুটি এখনো মনিটরে সিনেমা দেখতেই ব্যস্ত। সায়ান জানালার দিকে তাকিয়ে ভাসমান মেঘগুলো দেখছিল। হঠাৎ চমকে উঠলো সায়ান। মুহূর্তের মধ্যে শরতের ফকফকা আকাশ বদলে গিয়ে ঘুটঘুটে কালো অন্ধকারে ঢেকে গেল। সায়ান এক ঝটকায় তাকালো পাশের সিটের দিকে। মেয়ে দুটির মধ্যে কোন ভাবান্তর নেই। কোন পরিবর্তনই তাদের চোখে পড়ছে না। তারা মন্ত্রমুগ্ধের মতো সিনেমা দেখছে। শুধু মেয়ে দুটি কেন, বিমানের সব যাত্রীরই একই অবস্থা। শুধু সায়ান বুঝতে পারছে অন্যকিছু একটা হচ্ছে।

বিমানের দরজাটা আস্তে খুলে গেল। সায়ান সম্মোহিতের মত সিট থেকে উঠে গেল দরজার দিকে। সিঁড়ি বেয়ে নেমে এল সায়ান। পা রাখল স্পেসশিপের মেঝেতে। চারপাশটা ঘুটঘুটে অন্ধকার। বিমান আকাশে ওড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে একটি বিশাল আকৃতির স্পেসশিপ বিমানটিকে গিলে ফেলে। কোন এক অজানা গ্রহবাসী বিমানটি অপহরণ করে। তাদের উদ্দেশ্য অবশ্য খারাপ নয়। তারা যাত্রীদের কোন ক্ষতি করতে চায় না। তারা শুধু চায় সায়ানকে তাদের গ্রহে নিয়ে যেতে। সায়ানকে তাদের খুব প্রয়োজন।

এখন থেকে যা ঘটছে তা বিমান যাত্রীদের কাছে সিনেমার দৃশ্য বলেই মনে হচ্ছে। কারণ পুরো ঘটনাটি তারা মনিটরে দেখতে পাচ্ছে। স্পেসশিপের দরজাটা খুলে যেতেই সেখান থেকে ২৫-২৬ বছরের একজন তরতাজা যুবককে নেমে আসতে দেখা গেল। তার পেছন পেছন ৪ ফুট উচ্চতার একজন মানুষও নেমে এলো যার পরনে প্রতিরক্ষা বাহিনীর ইউনিফর্ম। যুবকটি নেমে আসতেই পাঁচ-ছয়জনের একটি দল তাকে ফুল হাতে অভ্যর্থনা জানালো।

একজন বললো, মিস্টার সায়ান, আমাদের গ্রহে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের রাষ্ট্রপ্রধান মিস্টার মিগ আমাদের পাঠিয়েছেন আপনাকে সসম্মানে তার কাছে নিয়ে যেতে।

সায়ানের সম্মোহন এখনো কাটেনি। সে সব দেখছে, শুনছে। তারা যা বলছে তাই করছে, কিন্তু কিছু বলতে পারছে না। একটা গাড়িতে করে যেতে যেতে সে আশপাশের দৃশ্য দেখতে লাগলো। চমৎকার মনোরম পরিবেশ। নিখুঁত রাস্তা, দু’পাশে সবুজ গাছপালা, পাখির কিচিরমিচির শব্দ, প্রজাপতির উড়ে বেড়ানো, ছিমছাম পরিপাটি ঠিক যেন ছবির মত সুন্দর একটা শহর।

এখানে খুব পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট দূরত্বে বাড়ি বানানো হয়েছে। কোনো বাড়ির উচ্চতা দোতলার বেশি নয় এবং প্রত্যেকটি বাড়ির ছাদ ফুল ও ফলের গাছে পূর্ণ। বাচ্চাদের জন্য স্কুল ও খেলার জায়গা আছে। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা কি সুন্দর ছুটাছুটি করে খেলছে। এলাকাটিতে কতগুলো খর্বাকৃতি মানুষ, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, প্রজাপতি ও গাছপালা ছাড়া অন্য কোনো প্রাণীর দেখা মেলেনি। আরেকটি বিষয় সায়ানের চোখে পড়লো, তা হলো এখানে কোন জলাশয় নেই।

একটি প্রাসাদ সদৃশ ভবনের সামনে গাড়িটি থামানো হলো। এটি একটি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন। একজন এসে দরজা খুলে দিতেই সায়ান নেমে এলো। ভেতরে একটি বিশাল হলঘর। বড় একটি টেবিলের চারদিক ঘুরিয়ে প্রায় ৫০টির মত চেয়ার বসানো। এখানে বড় বড় রাষ্ট্রীয় সভাগুলো অনুষ্ঠিত হয়। হলঘর পেরিয়ে যে রুমটিতে সায়ানকে নিয়ে যাওয়া হল সেখানে মিস্টার মিগ সায়ানের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

রাজসিক একটি চেয়ারে বসে আছেন মিস্টার মিগ। সায়ান কাছে যেতেই তিনি উঠে দাঁড়িয়ে কুর্নিশ করলেন। এটিই এখানকার অভ্যর্থনার রীতি। সায়ান নির্লিপ্ত। সায়ানকে আরামদায়ক একটি সোফায় বসতে দেয়া হলো। একজন ট্রেতে করে এক গ্লাস ফলের রস নিয়ে হাজির। সায়ান কেমন ঘোরের মধ্যে ছিল। সে হাত বাড়িয়ে গ্লাসটি নিয়ে এক চুমুকে শেষ করলো। হ্যাঁ, এখন বেশ ভালো লাগছে। সম্মোহনের প্রভাবটা কাটতে শুরু করেছে।

সায়ান মিস্টার মিগকে জিজ্ঞেস করলো, আমাকে এখানে ধরে এনেছেন কেন?

মিগ বললেন, আমাদের ভুল বুঝবেন না। এমনভাবে ধরে আনা ছাড়া আমাদের কিছু করার ছিল না। আমরা যদি একই গ্রহের বাসিন্দা হতাম, তাহলে আপনাকে যথাযথ সম্মান দিয়ে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে আসতাম। অবশ্য এখনও আমরা আপনাকে সজ্ঞানে কোন অসম্মান করিনি।

আপনারা জানেন, আমি একটা গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারে যোগ দিতে যাচ্ছিলাম? আর তিন ঘণ্টা পর সেটা শুরু হওয়ার কথা। কত মানুষ আমার জন্য অপেক্ষা করে বসে আছে, কত টাকা খরচ হয়েছে এই সেমিনার আয়োজন করতে, আপনাদের কোন ধারণা আছে? সায়ান বেশ উত্তেজিত।

মিস্টার মিগ অত্যন্ত শান্ত ও ধীরস্থির হয়ে বললেন, আপনি চিন্তা করবেন না। আপনাকে আমরা যথাসময়ে সেমিনারে পৌঁছে দিব। আপনার কোন ক্ষতি হোক আমরা চাই না। আপনি শুধু আমাদের একটি উপকার করুন।

সায়ান একটু থতমত খেয়ে গেল। আমি কিভাবে আপনাদের উপকার করবো ঠিক বুঝলাম না।

মিস্টার মিগ বললেন, আমাদের গ্রহের জীবনযাত্রা সম্পূর্ণভাবে প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। আমাদের  রান্না-বান্না, খাওয়া-দাওয়া, লেখাপড়া, কাজকর্ম সবকিছুতেই আমরা প্রযুক্তি ব্যবহার করি। এমনকি আমরা খাবার পানিটুকুও ল্যাবরেটরিতে তৈরি করি। কারণ এখানে মিঠা পানির উৎস নেই বললেই চলে। এই গ্রহটি আকারে বেশি বড় নয়। এখানে ভূখণ্ডের পরিমানও বেশ অল্প। চারভাগের তিনভাগ অংশই সমুদ্রবেষ্টিত। কয়েক শতাব্দী ধরে ছোট ছোট দ্বীপগুলোতে বসতি গড়ে উঠেছে। তাও সবগুলো এখনো বসবাসের উপযোগী হয়নি। এখানে প্রচুর ফুল, ফল ও সবজি চাষ হয়। এগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য আমাদের কৃষিবিদরা যথেষ্ট কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। প্রাকৃতিকভাবে ফল, সবজি উৎপাদিত হলেও সেটি গ্রহবাসীর খাদ্য চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য। তাই অধিক ফলনের জন্য আমাদের প্রযুক্তির সাহায্য নিতে হয়।

এখানে প্রচুর অতিথি পাখির সমাগম হয়। আগে এখানে কিছু গরু, ছাগল, ভেড়া প্রভৃতি প্রাণীও ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে সেগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেছে। প্রাণী বলতে শুধু আমরা, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি আর প্রজাপতি, কীটপতঙ্গ এসব। আমাদের গ্রহে প্রোটিনের উৎসের খুবই অভাব। যার ফলে এখানকার বাসিন্দারা খর্বাকৃতি। তাদের ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধি পায় না। তাদের কাজ করার শক্তিও কমে যাচ্ছে। অথচ এখানকার বাসিন্দারা অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন। আমরা প্রযুক্তির মাধ্যমেই জেনেছি আপনি ছাদে মাছ চাষের একটি অভিনব ও ফলপ্রসূ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। যেখানে সবজি চাষের পাশাপাশি মাছ চাষ করা যায়। আপনাদের দেশে অনেক জলাশয় আছে। সেখানে এই কাজটি অনেক সহজ। বছরের পর বছর ধরে মৎস্য উৎপাদন চলে আসছে। কিন্তু আমাদের গ্রহে মিঠা পানির প্রাকৃতিক উৎস বলতে শুধু বৃষ্টির পানি। তাই আমাদের খাবারের পানিটুকুও উৎপাদন করতে হয়। কিন্তু আমরা সেটি দিয়েই মাছ চাষ করতে পারবো। শুধু আপনি যদি আমাদের একটু সাহায্য করেন।

সায়ান হঠাৎ বললো, এখানে তো প্রচুর পাখি আছে। পাখিওতো আপনাদের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করতে পারে।

মিস্টার মিগ যেন ধরেই নিয়েছিলেন এই প্রশ্নটি আসবে। তিনি বললেন, আপনাকে আগেই বলেছি এখানে আরও কিছু প্রাণী ছিল। আমরা ঠিকমত রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারিনি বলে আজ সেগুলো বিলুপ্ত। যদি পাখিও বিলুপ্ত হয়ে যায় তাহলে আমরা বিরাট হুমকির মধ্যে পড়ে যাব। পাখির ডিম আমরা খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করি। কিন্তু সেটা খুবই কম।

সায়ান একটু লজ্জা পেল। এই কথাটা তার মনে আসা উচিতই হয়নি। সায়ান মনে মনে খুশি হল। সে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকে ছাদে মৎস্য চাষের একোয়াপনিক্স প্রকল্পটি নিয়ে গবেষণা শুরু করেছে। এখন অনেক জায়গায় কাজও শুরু হয়েছে। সরকারি প্রচারণার কারণে সাড়াও পেয়েছে অনেক। কিন্তু নিজের দেশের বাইরে অন্য একটা অচেনা গ্রহে তার এতো সমাদর হবে সে ভাবতে পারেনি। এই গ্রহের বাসিন্দারা তার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে নিজেদের প্রোটিন চাহিদা পূরণ করতে চায়। মাছ প্রোটিনের একটি বড় উৎস। প্রোটিন খেলে অনেকক্ষণ পেট ভর্তি থাকে। সহজে খিদে পায় না। বাড়ির ছাদে বড় বড় প্লাস্টিকের ড্রামে অনায়াসেই তেলাপিয়া, কই, মাগুর ইত্যাদি মাছের চাষ করা যায়। এরা দ্রুত বড় হয় এবং দ্রুত বংশবিস্তার করে। গ্রহের কর্তা-ব্যক্তিরা সে সম্পর্কে যথেষ্ট খোঁজ-খবর নিয়েছে বোঝা যায়। তাদের প্রয়োজন মাছের পোনা এবং খাবার।

সায়ান বলল, ঠিক আছে, আমি আপনাদের সাহায্য করতে রাজি। কাদেরকে বোঝালে কাজ হবে তাদের সঙ্গে আমাকে আলাপ করিয়ে দিন।

মিস্টার মিগ একজনকে নির্দেশ দিতেই কিছুক্ষণের মধ্যে পাঁচজনের একটি গবেষক দল তার সামনে এসে হাজির হল। মিস্টার মিগ ও গবেষকদল সায়ানকে অতিথি ভবনের ছাদে নিয়ে গেল। সেখানে বড় বড় ড্রামে বিভিন্ন ধরনের সবজির গাছ লাগানো। শসা, টমেটো, বেগুন, শিম কত রকম গাছ। একোয়াপনিক্স পদ্ধতির জন্য ছাদটি তৈরিই আছে। শুধু কয়েকটা পানিভর্তি ড্রাম প্রয়োজন। নির্দেশ দিতেই অল্প সময়ের মধ্যে সেগুলোও হাজির হয়ে গেল। সায়ান তার ল্যাপটপ বের করে গবেষকদলকে পুরো প্রকল্পটি দেখালো এবং কিভাবে কী করতে হবে সব বুঝিয়ে দিল।

একোয়াপনিক্স একটি প্রাকৃতিক পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে একই পানি ব্যবহার করে একই সঙ্গে মাছ ও সবজি চাষ করা হয়। এক্ষেত্রে সবজি চাষে মাটি ব্যবহৃত হয় না। তার বিকল্প হিসেবে নুড়িপাথর ব্যবহৃত হয়। এ ব্যবস্থায় থাকে একটি মাছের পাত্র আর একটি গাছের পাত্র। মাছের পাত্রের ময়লা পানি দেয়া হয় গাছের পাত্রে। সেখানে থাকা ব্যাকটেরিয়া মাছের ময়লা পানিকে গাছের খাদ্যে পরিণত করে। গাছ পানি থেকে খাবার গ্রহণের পর পরিশোধিত পরিষ্কার পানি আবার মাছের পাত্রে দেয়া হয়। মাছের বর্জ্য বা অ্যামোনিয়াকে গাছের শিকড়ে থাকা ব্যাকটেরিয়া নাইট্রেটে পরিণত করে। গাছ তা শোষণ করে পানি পরিষ্কার করে। এতে একই পানি বারবার ব্যবহারের ফলে অপচয়ও কম হয়।

সায়ান তার ব্যাগ থেকে তিনটা কাচের জার বের করলো। তাতে তেলাপিয়া, মাগুর ও কই মাছের পোনা রয়েছে। মাছের খাদ্য কিভাবে তৈরি করতে হবে সেটিও বুঝিয়ে দিলো। এখন শুধু কয়েক মাস অপেক্ষা করার পালা। মিস্টার মিগ সায়ানকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাকে বিমানে পৌঁছে দেয়ার নির্দেশ দিলেন।

সায়ান বললো, আমি  আপনাদের এখানে এই পদ্ধতিটি চালু করতে পেরে খুবই আনন্দিত ও সম্মানিত বোধ করছি একথা ঠিক। কিন্তু আমার জন্য আজ অনেকগুলো মানুষের সময় নষ্ট হলো। ইতোমধ্যে কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। আমার আর সেমিনারে যাওয়া হলো না।

মিস্টার মিগ বললেন, আপনি চিন্তা করবেন না। আপনি বোধহয় জানেন না, এখানকার সময়ের সঙ্গে আপনার গ্রহের সময়ের অনেক পার্থক্য রয়েছে। আপনার মনে হচ্ছে আপনি কয়েক ঘণ্টা সময় ধরে এখানে আছেন। এটা অবশ্য ঠিক। কিন্তু আপনার গ্রহে মাত্র কয়েক মিনিট অতিবাহিত হয়েছে। অতএব আপনি একদম ঠিক সময়ে সেমিনারে পৌঁছতে পারবেন। আপনাকে আরও একটা কথা বলি। আপনার সহযাত্রীদের কারো মধ্যেই এ ঘটনার কোন স্মৃতি থাকবে না। আশা রাখি ছয়-সাত মাসের মধ্যে আমরা আপনাকে আবার এখানে আনতে পারবো। তখন আপনি নিজের চোখে আপনার এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন দেখতে পাবেন।

মিস্টার মিগ সায়ানকে একটি মূল্যবান রত্ন উপহার দিলেন স্মারক হিসেবে। সায়ান হাসি মুখে বিদায় নিল।

প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা সায়ানকে স্পেসশিপে তুলে দিল। বিমানযাত্রীদের সবার মনিটরের ছবিটি সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে গেল। বিমানটি বেরিয়ে এলো স্পেসশিপ থেকে। ঠিক তখনই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল অফিস থেকে যোগাযোগ করা হলো পাইলটের সঙ্গে। তারা খুবই উদ্বিগ্ন ছিল। বিমানটি উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মধ্যেই কন্ট্রোলারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিশ মিনিট ধরে বিমানটির কোন হদিসই তারা পাচ্ছিল না। পাইলট খুবই অবাক হলো একথা শুনে। পাইলট জানালো তারা প্রায় পৌঁছে গেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই অবতরণ করতে যাচ্ছে। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার এই রহস্যের কোন কিনারা করতে পারলো না। বিমানটি নির্বিঘ্নে অবতরণ করলো।

সবাই নামার পর সবশেষে সায়ান নেমে এলো। সায়ান লক্ষ্য করলো পাশের সিটের মেয়ে দুটি খুব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তাকে দেখছে এবং নিজেদের মধ্যে কথা বলছে। সায়ান নিশ্চিত, ওদের বিষয়বস্তু সে নিজে। পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ মেয়েলি কণ্ঠ শুনে দাঁড়িয়ে গেল সায়ান।

আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করবো কিছু মনে করবেন নাতো?

হ্যাঁ, মেয়েটি তাকেই প্রশ্নটি করছে। পাশে তার ছোটবোনটি দাঁড়ানো।

বলুন, সায়ান উত্তর দিল।

আপনি কি অভিনয় করেন?

সায়ান হেসে ফেললো। অভিনয়তো আমরা সবাই করি। কেউ পর্দায়, কেউ পর্দার বাইরে।

আসলে বিমানে বসে আমরা একটা সিনেমা দেখছিলাম। সিনেমার নায়ককে ঠিক আপনার মতো দেখতে লাগছিল। ও আচ্ছা, আমার নাম স্বর্ণালি। আর ও আমার ছোটবোন রূপালি।

সায়ান রূপালির দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলো। স্বর্ণালি বলেই চলেছে, আসলে রূপালিই বিষয়টি প্রথম খেয়াল করেছে।

সায়ান আর স্বর্ণালি কথা বলতে বলতে এগিয়ে যাচ্ছে। রূপালি একটু আস্তে হাঁটছে বলে পিছিয়ে গেল। অবশ্য ভালই হলো। বড়দের কথার মাঝে ছোটদের না থাকাই ভালো।

লেখক পরিচিতি: শিক্ষক, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ

 

এই লেখকের আরও লেখা

তুলতুলিদের গ্রামে অদ্ভুত স্পেসশিপ  

তরীর বোতল বাগান

কিডস পাতায় বড়দের সঙ্গে শিশু-কিশোররাও লিখতে পারো। নিজের লেখা ছড়া-কবিতা, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনী, মজার অভিজ্ঞতা, আঁকা ছবি, সম্প্রতি পড়া কোনো বই, বিজ্ঞান, চলচ্চিত্র, খেলাধুলা ও নিজ স্কুল-কলেজের সাংস্কৃতিক খবর যতো ইচ্ছে পাঠাও। ঠিকানা kidz@bdnews24.com। সঙ্গে নিজের নাম-ঠিকানা ও ছবি দিতে ভুলো না!

ট্যাগ:  দাদাইয়ের গল্প