রাজধানী শহরের নাম ‘বিড়াল’

  • শেখ আনোয়ার, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-04-27 13:56:32 BdST

অবাক হলেও সত্যি, একটি রাজধানী শহরের নাম ‘বিড়াল’। বেশি দূরে নয়, মালয়েশিয়ার পশ্চিমে সারাওয়াক রাজ্যের রাজধানীর নাম কুচিং। মালয় ভাষায় কুচিং এর অর্থ বিড়াল।

কুচিং শহরের আনাচে কানাচে চোখে পড়ে শুধু বিড়ালের ভাস্কর্য। শহরের প্রবেশ পথের সড়ক দ্বীপে রয়েছে বিশালাকার বিড়ালের ভাস্কর্য। যেনো সত্যি সত্যি বিড়াল অভিনন্দন জানাচ্ছে। ভাস্কর্য বিড়াল আসল বিড়ালের মতো অবিরাম মিউ মিউ কৃত্রিম শব্দ করে যাচ্ছে।

কুচিংবাসীর প্রিয় বিড়ালের স্মৃতি নির্দেশক এ স্তম্ভকে দেশবাসী উপসনালয়ের মতো পবিত্র জ্ঞান করে থাকে। প্রতিবছর এখানে ‘পেসতা মিউ’ নামে উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এ উৎসবে চটপটে, ছিমছাম বিড়ালেরা নৃত্য প্রদর্শন করে।

বিড়াল জাদুঘর দেখতে হলে যেতে হবে মালয়েশিয়ার কুচিং নর্থ সিটি হলের হেডকোয়ার্টার (বুকতি সিওল) সাগর সমতল ভূমি থেকে প্রায় ৬০ মিটার উঁচু পাহাড়ের উপর। এখানেই রয়েছে পৃথিবীর প্রথম, বিখ্যাত, বৃহৎ বিড়াল জাদুঘর। ভাবতেও অবাক লাগে, শুধু বিড়ালের জন্যই উৎসর্গ করা হয়েছে সহস্রাধিক বর্গমিটার এলাকাজুড়ে এ বি সি ডি নামে ৪টি বৃহৎ গ্যালারির এক বিশালাকায় বিড়াল জাদুঘর।

আরও মজার ব্যাপার হলো, এখানকার গ্যালারি সি’তে বাংলাদেশের বিড়ালও দেখতে পাওয়া যায়। বিড়াল জাদুঘর সোম থেকে রোববার সকাল নয়টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে এখন করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বিড়াল জাদুঘর বন্ধ রয়েছে।

ভ্রাম্যমান বিড়াল জাদুঘরের নিজস্ব গাড়িতে করে প্রতিবছর বিড়াল জাদুঘর পরিদর্শনে আসেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পর্যটক ও গবেষক। বিড়াল জাদুঘরের আবাসিক হোস্টেলে কয়েকদিন থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে বিড়াল আকৃতির ঘুড়ি বানানো শেখানো হয়।

এছাড়াও বিড়ালের কোলাজ ছবি অংকন, পোস্টার আঁকা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ শেষে আয়োজন করা হয় বিড়ালের ভোজ উৎসব নামে শিশু-কিশোর, অভিভাবক ও আয়োজকদের ডিনারের আয়োজন। ভোজ শেষে ‘বিড়াল স্কুলে যায়’ নামে নাটক মঞ্চস্থ হয়। বিড়ালের পোশাক পরে শিশুরা এ নাটকে অভিনয় করে থাকে।

এছাড়া বিড়াল জাদুঘরে বছরে একবার অনুষ্ঠিত হয় বিড়ালের সান্ধ্য প্যারেড। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা বিড়ালের পোশাক পরে পিটি প্যারেডে অংশ নেয়। কুচকাওয়াজের সামনে থাকে বিশাল সাইজের ভাসমান বিড়াল ভাস্কর্য। এ অনুষ্ঠান উপভোগ করতে চীন, জাপান থেকে বিড়াল প্রেমিকরা দলে দলে বিড়াল জাদুঘর পরিদর্শনে আসেন।

বিড়াল জাদুঘরের তথ্য সহকারী হিসেবে খণ্ডকালীন কাজ করছে বিড়ালের মতো পিচ্চি এক মেয়ে, নাম মাসতি জাহ মাসলিহ। সে জানায়, তার রয়েছে দুটো বিড়াল। একটির নাম রেখেছে কোকো, অন্যটার নাম মিকি। একটি বাচ্চাও রয়েছে। সে আরও জানায়, সারাওয়াক রাজ্যের মানুষ বিড়াল খুব ভালোবাসে। সবাই ঘরে ঘরে বিড়াল পোষে। ঘুম থেকে উঠে ভোরবেলা কেউ যদি বিড়ালের মতো ‘মিউ’ শব্দ করে উঠে তাহলেই হয়েছে, সেই শব্দের সঙ্গে সঙ্গে চারদিক থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে পুরুষ বিড়াল কাছে এসে ঘুরঘুর করা শুরু করে দেবে।

মজার ব্যাপার হলো এ বিড়াল জাদুঘরে একটিও জীবিত বিড়াল নেই। বিড়াল জাদুঘরে রয়েছে বিড়াল বিষয়ক চিত্রকলা। রয়েছে চীনা মাটি দিয়ে তৈরি অসংখ্য বিড়াল ভাস্কর্য। কিছু ভাস্কর্য বিড়াল রয়েছে, যেগুলো চাকরের কাজ করছে। বিড়াল নিয়ে রয়েছে হাতে আঁকা বিখ্যাত শিল্পকর্ম সংগ্রহ আর বই-পত্তর। সবই সাহিত্যনির্ভর। যেমন ওয়াল্ট ডিজনির বই ‘অ্যারিস্ট্রোক্যাট’, স্যার অ্যানড্রিউ লিউয়েড ওয়েবার্স এর ‘মিউজিক্যাল ক্যাট’, রেট্রিক্স পোর্টারের ‘টম কিচেন’, টিএস এলিয়টের ‘ওল্ড পজিউমস’ ইত্যাদি।

আর চিত্রকলার মধ্যে রয়েছে জংলি বিড়াল, পশ্চিমা বিড়াল, হুতকো বিড়াল, মেউ পুসি ইত্যাদি। জাদুঘরের পুরো মেঝেতে দেখতে পাওয়া যায় বিড়ালের পায়ের পাতার ছাপ। মেঝেতেই আঁকা রয়েছে বুট জুতো পরিহিত পুসি বিড়াল। মালয়ের বিচিত্র ডিজাইনের বিড়াল বাচ্চার চিত্রও আঁকা রয়েছে।

জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানান, মিসরে বিড়াল হত্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো। আবার মধ্যযুগে ইউরোপে লাখ লাখ বিড়াল আগুনে পুড়িয়ে মারা হতো। তখন মানুষ মনে করতো বিড়াল হচ্ছে শয়তানের গুপ্তচর। আজকের এই বিজ্ঞানের যুগেও করোনাভাইরাস ছড়ানোর সন্দেহ-অভিযোগে চীনসহ নানা দেশে হাজার হাজার বিড়াল হত্যা করা হয়েছে। আগেকার দিনে পোষা বিড়াল মারা গেলে পরিবারের সবাই শোক সন্তপ্ত হতো। চোখের ভ্রু ক্ষুর দিয়ে কামিয়ে ফেলতে হতো, যতোদিন পর্যন্ত চোখের ভ্রু পুরোপরি না গজায় ততোদিন চলতো এ শোক প্রকাশ।

নিরীহ প্রাণী বিড়ালের ওপর কেন এ ঘৃণ্যতম উৎপীড়ন আর নির্যাতন? জাদুঘরের প্রদর্শক বলেন, “বিড়ালের আপোসহীন স্বাধীনতাই হয়তো মানুষের কাছে ছিলো অসহ্য। আর এখন অসহ্য হচ্ছে বিড়ালের গড়গড় আওয়াজ।”

কিডস পাতায় বড়দের সঙ্গে শিশু-কিশোররাও লিখতে পারো। নিজের লেখা ছড়া-কবিতা, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনি, মজার অভিজ্ঞতা, আঁকা ছবি, সম্প্রতি পড়া কোনো বই, বিজ্ঞান, চলচ্চিত্র, খেলাধুলা ও নিজ স্কুল-কলেজের সাংস্কৃতিক খবর যতো ইচ্ছে পাঠাও। ঠিকানা kidz@bdnews24.com। সঙ্গে নিজের নাম-ঠিকানা ও ছবি দিতে ভুলো না!

ট্যাগ:  ফ্যান্টাস্টিক সায়েন্টিস্ট