পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

পুতপুতি পক্ষী

  • মারিয়া সালাম,  বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-07-07 12:52:14 BdST

bdnews24
কোলাজে ব্যবহৃত অলঙ্করণ: ‘প্ল্যানেট উইথ ফাইভ সানস’, ভিকা সাচেভা, বয়স ৮, রাশিয়া

আয়ুধির আজকাল মন খুব খারাপ থাকে। মন খারাপের সঙ্গে অনেক রাগ, আর একটু পরপর কান্না পাওয়া।

মায়ের আদরে কমতি হলেই আয়ুধির কষ্ট হয়, রাগ হয়, কান্না পায়। এটা মা আবার একদম বুঝে না, আয়ুধি কাঁদলে মা উল্টা আদর না করে বকা দেয় ইদানীং। একটু আগেই সে বকা খেয়ে এসেছে মায়ের রুম থেকে। বকা খাওয়া আর কান্নাকাটি করা এই রুটিন চলছে এক সপ্তাহ হলো।

মা আগে এরকম রাগী ছিল না, যত সমস্যা শুরু হয়েছে আয়ুধির নতুন বোন আসাতে। সারাদিন, সারারাত মা রুহকে নিয়ে ব্যস্ত। রুহ মেয়েটাও খুব দুষ্ট, রাতে জেগে থাকে, মাকেও জেগে বসে থাকতে হয়। আর সকালে আয়ুধি যখনই মায়ের কাছে যেতে চায়, মা ঘুমিয়ে থাকে।

ডাকতে গেলেই মা বকা দেয়, ভাবতে ভাবতেই ওর চোখ অভিমানের অশ্রুতে টলমল করতে লাগল। সোফার এককোণে মুখ গুঁজে আয়ুধি প্রতিজ্ঞা করল, মায়ের কাছে আর নিজে থেকে যাবেই না, মা ডাকলেও না।

আয়ুধি! ভাইয়া, কী হয়েছে? কিসে মন খারাপ হয়েছে? নানুমনির গলা শুনে আয়ুধি আর লুকিয়ে কাঁদতে পারল না। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে শব্দ করেই কেঁদে উঠল।

নানুর কোলে বসে আয়ুধি অনুযোগ করল, মা এখন আর আমাকে ভালোবাসেই না, শুধু বকা দেয় আর রুহকে বেশি বেশি ভালোবাসে।

ধুর বোকা, সেটা কেন হবে? রুহকে বুকে করে রাখার দরকার বলেই মা এমন করে।

কী দরকার এমন করার? আয়ুধি অভিমানে অন্যদিকে ফিরে তাকাল।

আচ্ছা, তুমি তাহলে পুতপুতির গল্পটা জান না নানাভাইয়া, সেটা শুনলে বুঝতে কী দরকার।

গল্পটা তাহলে বলি, নানু শুরু করল, তুমি তখন খুব ছোট, ঠিক রুহের সমান। আমাদের গ্রামের বাড়ির নিচতলার কলপাড়ের ঘরে তুমি, তোমার মা আর আমি থাকতাম। একদিন রাতে হঠাৎ আমার ঘুম ভেঙে গেল, জানালার পাশে শুনি দুই জোড়া পায়ের থপ থপ শব্দ। শব্দ শুনেই আমি বুঝলাম, এরা পুতপুতি পক্ষী, এটুকু বলেই নানুমনি একটু দম নিল।

আয়ুধি এতক্ষণ চুপচাপ শুনছিল, পুতপুতি পক্ষী নামটা খুব অদ্ভুত লাগতেই ও জিজ্ঞেস করল, এটা কি নানুমনি?

এরা একজোড়া পাখি, একটা ছেলে, তাকে বলে পুত আর তার মেয়ে সাথী হলো পুতি। এরা দেখতে পাখির মতো হলেও কিন্তু পাখি নয়। এরা শিশুচোর। ছোট ছোট বাচ্চাদের চুরি করে নিয়ে পালিয়ে যাওয়াই এদের কাজ।

বাচ্চা চুরি করে এরা কেন নিয়ে যায়? কোথায় নিয়ে যায়? আর কীভাবেই চুরি করে, আয়ুধি একসঙ্গে অনেকগুলো প্রশ্ন করে বসল।

নানু বলল, কেন নিয়ে যায় সেটা আমি জানি না নানাভাই, কোথায় নিয়ে যায় সেটাও বলতে পারি না। তবে কীভাবে নিয়ে যায়, সেটা একবার শুনেছি আমার নানুর মুখে, নানু একটু রহস্যজনক হাসি দিল। তারপর আবার গল্প শুরু করল, তারপর পুতপুতির পায়ের শব্দে আমার ঘুম ভেঙে গেল। আমি তোমার মাকে ডেকে বললাম, শিঘ্র ঘুম থেকে ওঠে তোমাকে যেন বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে।

তোমার মা তোমাকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে সারারাত বসে থাকল। আর এদিকে তোমাকে চুরি করতে না পেরে পুতপুতি সারারাত ঘরের পাশে দৌড়াদৌড়ি করে শেষে সকালের দিকে পালিয়ে গেল।

সেটা তো বুঝলাম, কিন্তু ওরা কীভাবে বাচ্চা চুরি করে সেটা তো বললে না, আয়ুধি একটু বিরক্তি নিয়েই বলল।

আচ্ছা, ওরা যে বাসায় নতুন বাচ্চা আসে, সেখানে গিয়ে ওত পেতে থাকে। বাচ্চাকে একা পেলে বা মা ঘুমিয়ে গেলেই ওরা একজন দ্রুত বাচ্চা চুরি করে দৌড় দেয় আর আরেকজন সেই বাচ্চার রূপ নিয়ে বিছানায় মড়ার মতো পড়ে থাকে। বাড়ির লোকজন যখন ভাবে বাচ্চা মারা গেছে, বাচ্চাকে কবরে নিয়ে যায়, তখন ওরা সুযোগ বুঝে কবর থেকে ওঠে পালিয়ে যায়। তাইতো নতুন বাচ্চা চোখে চোখে রাখতে হয়, বুকে করে আগলে রাখতে হয়। আর এজন্যই তোমার মা রুহকে কোলে কোলে রাখে, বুঝেছ?

গল্প শুনতে শুনতে আয়ুধি বুঝতেই পারেনি মা কখন এসে ওর পাশে দাঁড়িয়েছে। মাথায় মায়ের হাতের স্পর্শ পেয়ে ও ঘুরে তাকায়, তারপর অভিমানে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে বসে।

ওকে কোলে তুলে নিয়ে এবার মা বলা শুরু করে, এতক্ষণ তুমি যে গল্প শুনলে সেটা হলো লোককাহিনি, বাস্তবে এরকম কোন জোড়া পাখি নেই।

আয়ুধি নানুমনির দিকে অবাক হয়ে বলল, তাহলে নানুকি মিথ্যা বানিয়ে বলেছে?

না তা ঠিক না, লোককাহিনিতে অনেক সময় অনেক কিছু সোজা করে না বলে একটু রহস্য তৈরি করে বলা হয়, একটু অন্যরকম করে বলা হয়। এগুলোকে রূপক বলে, মা একটু থেমে আবার বলল, যেমন ধর পুতপুতি আসলে পাখি নয়, এরা হতে পারে রোগজীবাণু।

ছোট বাচ্চারা এত ছোট যে এদের নিজেদের জীবাণুর সঙ্গে ফাইট করার শক্তি থাকে কম, মায়ের শরীর থেকে এরা শক্তি নেয়। তাই, এদের মায়ের কাছাকাছি রাখলে রোগজীবাণু সেভাবে এদের কাবু করতে পারবে না। এবার বোঝা গেল, কেন আমি রুহকে একটু বেশি আগলে রাখি?

রুহকে চোখে চোখে রাখলে কি ও ভালো থাকবে?

হ্যাঁ, মা হেসে বলল।

তাহলে এখন থেকে কি আমিও রুহকে চোখে চোখে রাখতে পারব? ওকে আগলে রাখব? আয়ুধি প্রশ্ন করল মাকে।

মা হেসে বলল, হ্যাঁ, একদম তোমাকেও ওর যত্ন নিতে হবে, বড়রা সবাই মিলে ওর যত্ন নেবে।

আয়ুধির মন খুব ভালো হয়ে গেল। এখন নিজেকে একটু বড় বড় মনে হলো ওর, রুহের জন্য মায়া লাগল খুব। মায়ের হাত ধরে টানতে টানতে রুহের বিছানার দিকে এগিয়ে গেল আয়ুধি মায়া মায়া মুখ করে।

 

কিডস পাতায় বড়দের সঙ্গে শিশু-কিশোররাও লিখতে পারো। নিজের লেখা ছড়া-কবিতা, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনি, মজার অভিজ্ঞতা, আঁকা ছবি, সম্প্রতি পড়া কোনো বই, বিজ্ঞান, চলচ্চিত্র, খেলাধুলা ও নিজ স্কুল-কলেজের সাংস্কৃতিক খবর যতো ইচ্ছে পাঠাও। ঠিকানা kidz@bdnews24.com। সঙ্গে নিজের নাম-ঠিকানা ও ছবি দিতে ভুলো না!